জকসু নির্বাচন
ইউছুব ওসমান, জবি
প্রকাশ : ২৮ নভেম্বর ২০২৫ ১৫:৩২ পিএম
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) নির্বাচন ঘিরে পুরো ক্যাম্পাসে এখন উত্তেজনা, অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগে এক অস্থির পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
ভূমিকম্পজনিত পরিস্থিতিতে একাডেমিক কার্যক্রম সাময়িক বন্ধ থাকায় স্থগিত করা হয়েছে প্রার্থীদের ডোপ টেস্ট। এটি কেন্দ্র করে জকসু নির্বাচন নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন অনিশ্চয়তা।
এদিতে ছাত্রসংগঠনগুলোর মাঝে দেখা দিয়েছে তীব্র মতবিরোধ। একদিকে নির্বাচনের ঘোষিত তারিখ ২২ ডিসেম্বর বহাল রাখার দাবি, অন্যদিকে ভোট পেছানোর অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে জবি ক্যাম্পাস। নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে পক্ষাপাতিত্ব ও ছাত্রদলের বিরুদ্ধে নির্বাচন পেছানোর পাঁয়তারার অভিযোগ করেছে ইসলামী ছাত্রশিবির। তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে ছাত্রদল। ছাত্রদল, ছাত্রশিবির, ছাত্র অধিকার, ছাত্রশক্তিসহ অধিকাংশ সংগঠন ও পক্ষের দাবিÑ নির্ধারিত ২২ ডিসেম্বরেই হতে হবে জকসু নির্বাচন।
গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ, জবি শাখা নির্বাচন কমিশনের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করে। স্মারকলিপিতে তারা জানায়, ভূমিকম্প-পরবর্তী বিশেষ পরিস্থিতির কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম সাময়িক স্থগিত থাকলেও নির্বাচনের ঘোষিত সময়সূচি পরিবর্তনের কোনো যৌক্তিকতা নেই। স্মারকলিপিতে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে জরুরি পরিস্থিতি কাটার পর খুব দ্রুতই একাডেমিক ও নির্বাচনী পরিবেশ স্বাভাবিক করা সম্ভব এমন উদাহরণও রয়েছে।
এদিন বিকালে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে পক্ষপাত, বিধি লঙ্ঘন ও ছাত্রদলের বিরুদ্ধে ভোট পেছানোর প্রচেষ্টার অভিযোগ তুলেছে ছাত্রশিবির-সমর্থিত ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’ প্যানেল। একই সাথে তারা ছাত্রদলের বিরুদ্ধে বারবার আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগও তোলে। তাদের দাবি, তফসিল ঘোষণার আগেই কমিশন পক্ষপাত দেখাতে শুরু করেছে। ২ নভেম্বর ছাত্রসংগঠনগুলোর বৈঠকে অধিকাংশের মত ছিল ২৭ নভেম্বর ভোট আয়োজনের পক্ষে, কিন্তু ছাত্রদলের আপত্তির পর কমিশন ভোট পিছিয়ে ২২ ডিসেম্বর করে। সংবাদ সম্মেলনে দুটি সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদন উল্লেখ করে ছাত্রশিবিরের জবি শাখার সভাপতি রিয়াজুল ইসিলা দাবি করেন, ছাত্রদলের চাপেই নির্বাচন পেছানো হয়েছে। এ অভিযোগ আগেই উঠেছিল। প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগও তুলে ধরে তিনি দাবি করেন, তিনি (প্রধান নির্বাচন কমিশনার) নিজের বিভাগের এক প্রার্থীকে সামাজিক মাধ্যমে অভিনন্দন জানিয়ে নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন।
একই সঙ্গে তারা পরিবহন প্রশাসনের দ্বৈত বক্তব্য, কনসার্টে নিষেধ থাকা সত্ত্বেও ছাত্রদল-সমর্থিত প্রার্থীদের স্টেজে উঠে বক্তব্য দেওয়া, রাতভর কুইজ গান কল্যাণমূলক কার্যক্রম চালানোর মতো ঘটনা তুলে ধরে বলেন, এই সবই আচরণবিধির স্পষ্ট লঙ্ঘন।
শাখা শিবির সভাপতি রিয়াজুল ইসলাম আরও অভিযোগ করেন, ২৪ নভেম্বরের বৈঠকে অধিকাংশ প্যানেল ২২ ডিসেম্বরেই নির্বাচনের পক্ষে মত দিলেও প্রধান নির্বাচন কমিশনার পরে সাংবাদিকদের কাছে বলেন, শিবির ছাড়া সবাই নির্বাচন পেছানোর পক্ষে। এই বক্তব্য বিভ্রান্তিকর এবং নিরপেক্ষতার পরিপন্থী। কমিশনকে পক্ষপাত বন্ধ করতে হবে, আচরণবিধি কঠোরভাবে প্রয়োগ করতে হবে এবং নির্ধারিত তারিখে সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে হবে।
অন্যদিকে ছাত্রদল তাদের বিরুদ্ধে ওঠা নির্বাচন পেছানোর ষড়যন্ত্রের অভিযোগকে মিথ্যা, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও রাজনৈতিক প্রপাগান্ডা হিসেবে উল্লেখ করেছে। এক বিবৃতিতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল জানায়, ক্যাম্পাস বন্ধ থাকায় ডোপ টেস্ট স্থগিত হওয়া একটি স্বাভাবিক প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত। এটাকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হচ্ছে হীন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে। ছাত্রদল অপর পক্ষকে উদ্দেশ করে বলেন, যারা সত্যিকারের নির্বাচন পেছাতে চাইছে, তারাই ছাত্রদলের নাম ব্যবহার করে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। সেই সঙ্গে ২২ ডিসেম্বর ঘোষিত তারিখেই জকসু নির্বাচনের দাবি জানায় ছাত্রদল।
বৃহস্পতিবার বিকালে ছাত্রদল-ছাত্র অধিকার সমর্থিত ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান প্যানেলের ভিপিপ্রার্থী একেএম রাকিব প্যানেলের বাকি সদস্যদের নিয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় একটি সম্প্রীতির ক্যাম্পাস। এখানে অপরাজনীতির আঁচড় যারা ফেলতে চায়, মিথ্যাচার যারা করতে চায়; তারা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়কে ধারণ করে না। আমরা চাই প্রপাগান্ডা যেন রাজনীতির মূল উপাদান না হয়। তিনি আরও বলেন, ২২ ডিসেম্বর জকসু নির্বাচনী তারিখ ঘোষণা হয়েছে। এটিকে সকলে স্বাগত জানিয়েছে এবং নির্বাচন নিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এই নির্বাচনে সর্বোচ্চ সংখ্যক শিক্ষার্থীর উপস্থিতি নিশ্চিত করার মাধ্যমে পূর্বঘোষিত তারিখ অর্থাৎ ২২ ডিসেম্বরই নির্বাচন আয়োজন করতে হবে। তা না হলে ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান প্যানেল শিক্ষার্থীদের সাথে নিয়ে তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ে প্রশাসনের বিপক্ষে অবস্থান নিতে বাধ্য হবে।