বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৭ নভেম্বর ২০২৫ ১৬:২৫ পিএম
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ছাত্র সংসদ (জকসু) নির্বাচন কমিশনের পূর্ব ঘোষিত তারিখেই নির্বাচনের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা। এই দাবিতে নির্বাচন কমিশন বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেছে সংগঠনটি। স্মারকলিপিতে সংগঠনটি দুই দফা দাবি জানায়।
বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) ছাত্র অধিকার পরিষদের জবি শাখার সভাপতি ও ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান প্যানেলের ভিপি প্রার্থী একেএম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক রায়হান হাসান রাব্বির নেতৃত্বে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা এই স্মারকলিপি প্রদান করেন। এসময় সংগঠনটির সহ-সভাপতি-মনিরুজ্জামান মনির, সাংগঠনিক সম্পাদক-অপু মুন্সী, ক্রীড়া সম্পাদক-আসিফ হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
স্মারকলিপিতে নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে সংগঠনটি জানায়, সাম্প্রতিক ভূমিকম্পজনিত জরুরি পরিস্থিতির কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ থাকলেও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) নির্বাচনের পূর্বনির্ধারিত ভোটগ্রহণের তারিখ ২২ ডিসেম্বর ২০২৫-এটির যেকোনো ধরনের পরিবর্তনের উদ্যোগ আমরা গভীর উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করেছি।
এতে আরও বলা হয়েছে, জকসু নির্বাচন শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার একটি মৌলিক ও গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া। এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে যে উৎসাহ, আগ্রহ ও অংশগ্রহণের প্রস্তুতি গড়ে উঠেছে, তা সময়সূচি পরিবর্তনের মাধ্যমে ব্যাহত হবে। তদুপরি, জরুরি পরিস্থিতি কাটিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম স্বাভাবিক হওয়ার সাথে সাথেই নির্বাচনী পরিবেশও উৎসবমুখরভাবে পুনরায় প্রতিষ্ঠিত করা সম্ভব-এটি পূর্ববর্তী বহু বিশ্ববিদ্যালয় অভিজ্ঞতায়ও প্রমাণিত।
স্মারকলিপিতে দুই দফা দাবি জানানো হয়। দাবিগুলো হলো- জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ নির্বাচনের পূর্বনির্ধারিত তারিখ ২২ ডিসেম্বর ২০২৫ কোন অবস্থাতেই পেছানো যাবে না। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশন দ্রুত প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করে নির্ধারিত তারিখেই নির্বাচন সম্পন্ন করবে।
এতে আরও বলা হয়েছে, শিক্ষার্থীদের স্বার্থ ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষায় কমিশন যথাযথ ও দায়বদ্ধ সিদ্ধান্ত নেবে। তবে, যদি নির্বাচন পেছানোর চেষ্টা অব্যাহত থাকে, তাহলে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাথে নিয়ে প্রশাসনের প্রস্তাবিত সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক অবস্থান নিতে বাধ্য হবে। এটি আমাদের অনিচ্ছা থেকে নয়, বরং শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষার দায়বদ্ধতা থেকে। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী নির্বাচন সম্পন্ন করে শিক্ষার্থীদের আস্থা ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য নির্বাচন কমিশনের সদয় উদ্যোগ কামনা করে সংগঠনটি।