× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে বাস ঢাবির হাজারো শিক্ষার্থীর

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক

প্রকাশ : ২১ নভেম্বর ২০২৫ ২১:৫৭ পিএম

ছবি সংগৃহীত।

ছবি সংগৃহীত।

অনেক দিন ধরেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বেশ কয়েকটি হলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করে আসছেন শিক্ষার্থীরা। শুক্রবারের (২১ নভেম্বর) ভূমিকম্পে বিভিন্ন হল থেকে লাফিয়ে পড়ে আহত হয়েছেন অন্তত ১০ জন শিক্ষার্থী। প্রশ্ন উঠেছে, ভূমিকম্পের সময় যেখানে শান্ত থাকার পরামর্শ দিয়ে থাকেন বিশেষজ্ঞরা, সেখানে তারা এভাবে দিগ্বিদিক ছুটে লাফ দিলেন কেন

এ প্রশ্নের উত্তর মিলবে ঢাবির হলগুলোর চিত্র দেখলে। ঢাবির কয়েকটি হল এতোটাই ঝুঁকিপূর্ণ যে সেখানকার শিক্ষার্থীরা হল ধ্বসে পড়ে মৃত্যুর চেয়ে আহত হওয়াকেই প্রাধান্য দিয়েছেন। হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলে লাফিয়ে পড়ে আহত হওয়া শিক্ষার্থী তানজির আহমেদ জানান, ভূমিকম্পের সময় তার মাথা ঠিকমতো কাজ করছিল না, তবে মাথায় ছিল যে এ সময় হলে থাকাটা তার জন্য বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।

তবে ঢাবিতে ভবন ধ্বসে মৃত্যু নতুন কিছু নয়। চার দশক পূর্বে ১৯৮৫ সালের ১৫ অক্টোবর রাতে দেশের শীর্ষ বিদ্যাপীঠের জগন্নাথ হল মিলনায়তনের ছাদ ধসে ছাত্র-কর্মচারীসহ ৩৯ জন প্রাণ হারান। প্রতি বছর দিনটি শোক দিবস হিসেবে পালন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

এছাড়া ২০১৭ সালের ১ এপ্রিল সূর্যসেন হলের শহীদ এইচএম ইব্রাহীম সেলিম মিলনায়তনের রেলিং ধসে শিক্ষার্থীসহ দুজন আহত হন। কিছুদিন আগে হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলের টিভি রুমের ছাদের অংশ ধসে পড়ে। বিশেষজ্ঞরা এই হলকে অতি ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করেন। তারপরও সেখানে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করেন শিক্ষার্থীরা। কিছুদিন আগে মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলে পলেস্তারা খসে পড়ে। গত দুদিন আগে দেওয়ালের পলেস্তারা খসে পড়ে আহত হন কবি জসিমউদদীন হলের ২০২৩-২৪ সেশনের শিক্ষার্থী এমদাদুল হক দূর্জয়।

২০২২ সালে সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের ৩৬টি কক্ষকে অতি ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে বিশেষজ্ঞরা। তারপরও শিক্ষার্থীদের সেখানে এলোটমেন্ট দিচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এছাড়, বাংলাদেশ কুয়েত মৈত্রী হল, শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল, স্যার এ এফ রহমান হলসহ বেশ কয়েকটি হলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের।

এসব সমস্যা সমাধানে একনেকের বরাদ্দে ২৮৪১ কোটি টাকার মেগাপ্রকল্পে ঢাবি প্রশাসন বেশ কয়েকটি হল নির্মাণের উদ্যোগ নিলেও তা এখনও আলোর মুখ দেখেনি। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে জোড়াতালি দিয়েই রাখা হচ্ছে শিক্ষার্থীদের।

এ প্রসঙ্গে ঢাবির ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী আহনাফ আকবর বলেন, আমরা প্রতিনিয়তই ভয়ে থাকি কখন কোন দুর্ঘটনা ঘটে। সরকার বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য প্রতি বছর প্রায় হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়। তারপরও আমাদের এই দূর্দশার মধ্যে থাকতে হয়।

তিনি বলেন, আমাদের পরিবার সবসময় আমাদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকে। আজকে ভূমিকম্পের পরপরই বাড়ি থেকে ফোন দিয়ে খোঁজ নিয়েছে, এসব ঝুঁকিপূর্ণ হলের কারণে সবসময় টেনশনে থাকতে হয়।

হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল সংসদের ভিপি সাদিক হোসেন শিকদার বলেন, আমাদের হল ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণার পরও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। তারা ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারীদের জন্য বহুতল ভবন নির্মাণ করে, শিক্ষার্থীরা তাদের কাছে সবচেয়ে অবহেলিত।

ডাকসুর জিএস এস এম ফরহাদ বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো দ্রুত সংস্কার করা প্রশাসনের জরুরি দায়িত্ব। ভবিষ্যতে যদি আরও বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে, এর সম্পূর্ণ দায় তাদের নিতে হবে।

তিনি উল্লেখ করেন, এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো ভেঙে সেখানে নতুন ভবন নির্মাণ করতে হবে। একইসঙ্গে নতুন হল নির্মাণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকটের যথাযথ সমাধান নিশ্চিত করতে হবে।

সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বক্তব্য জানার জন্য উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশার সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এসব সমস্যা সমাধানে কাজ করছে।

সলিমুল্লাহ মুসলিম হল, ড. মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ হল ও জগন্নাথ হল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠালগ্নে ১৯২১ সালে নির্মিত। বেগম রোকেয়া হল ১৯৩৮ সালে, ফজলুল হক মুসলিম হল ১৯৪০ সালে, সার্জেন্ট জহুরুল হক হল ১৯৫৭ সালে, সূর্যসেন হল ১৯৬৪ সালে, মুহসীন হল ১৯৬৭ সালে এবং বাকিগুলো স্বাধীনতার পরে বিভিন্ন সময় নির্মাণ করা হয়েছে। এরপর হলগুলো শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা