নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২১ নভেম্বর ২০২৫ ১৯:০৬ পিএম
আপডেট : ২১ নভেম্বর ২০২৫ ১৯:১৮ পিএম
৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল নিয়োগে একচেটিয়াভাবে জামায়াতপন্থি শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) দুপুরে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলমের কক্ষে ১০-১৫ জন কর্মকর্তা এবং সাবেক ছাত্রদল নেতা ফরহাদ হুসাইন ও তানভীর হোসেনের উপস্থিতিতে এ বিষয়ে উপাচার্যের সঙ্গে উচ্চবাচ্য ও অসদাচারণের অভিযোগ ওঠে।
শুক্রবার (২১ নভেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল নিয়োগে একচেটিয়াভাবে জামায়াত-শিবিরপন্থিদের নিয়োগ দেওয়ার একই অভিযোগ তোলেন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক ইমরান হোসেন প্রধান। এছাড়াও তিনি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবিরের সভাপতি সাদ কবিরের বিরুদ্ধে দাঁড়িপাল্লায় ভোটের জন্য উপাচার্যকে আওয়ামী লীগপন্থিদের নিয়োগ দেওয়ার সুপারিশ করাসহ বিভিন্ন অভিযোগ তোলেন।
তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল জামায়াতপন্থিদের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে এটি এখন একটি ওপেন সিক্রেট। এ পর্যন্ত যতজন শিক্ষক নিয়োগ হয়েছে তাদের নিয়ে ইউটিএল নামের জামায়াতপন্থি একটি সংগঠন খোলা হয়েছে। এই থেকেই প্রতীয়মান হয় যে, বর্তমান প্রশাসন দেখে দেখে জামায়াত শিবিরকেই নিয়োগ দিচ্ছে। প্রশাসনের নিয়োগের তাড়াহুড়ো দেখে মনে হচ্ছে নির্বাচনের পর যদি আমরা না থাকি বা ক্ষমতায় না আসি, তাহলে তো আমাদের দলের লোকসংখ্যা বাড়াতে পারব না। তার চেয়ে যে কয়েকদিন আছি গণহারে জামায়াতের লোকজন নিয়োগ দিয়ে সংখ্যার আধিক্য বাড়িয়ে যাই, তাদের নিয়োগে তাড়াহুড়ো দেখে এমনটাই প্রতীয়মান হচ্ছে।’
তিনি অভিযোগ করেন, ‘অভ্যন্তরীণ প্রার্থী নিয়োগের নামে আওয়ামী লীগ পন্থিদের পুনর্বাসন করা হচ্ছে। শুনেছি, শিবিরের সভাপতি সাদ কবির উপাচার্য মহোদয়কে গিয়ে বলেছেন, এদের নিয়োগ দিলে এদের ভোটগুলো দাঁড়িপাল্লায় পড়বে, ভোটের আশায় তার কথাতেই আওয়ামী লীগ পুনর্বাসন করা হচ্ছে। শিবির সভাপতি সাদ কবির নিয়মিত ভিসি স্যারের সঙ্গে আলাদাভাবে সাক্ষাৎ করেন এবং সে যেভাবে বলেন উপাচার্য মহোদয় অনেকটা সেভাবেই কাজ করেন।’
এ বিষয়ে সাবেক ছাত্রদল নেতা ফরহাদ হুসাইন বলেন, ‘সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগগুলোতে জামায়াতপন্থি প্রার্থীদের নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। ৫ আগস্টের পরে আমরা এমন বাংলাদেশ চাইনি। বৃ্হস্পতিবার এ বিষয়ে উপাচার্য স্যারের সঙ্গে কথা বলতে তার রুমে গিয়েছিলাম। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন কমিটিতে এখনো আওয়ামীপন্থি ও বিতর্কিতদের রাখা হচ্ছে। এসব বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছিলাম।’
তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে ভিত্তিহীন দাবি করে ছাত্রশিবিরের সভাপতি সাদ কবির বলেন, ‘আমি যতটুকু প্রশাসনের পাশে থেকে দেখেছি বা যতটুকু তথ্য আছে তাতে বোঝা যায় যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগগুলো মেধার ভিত্তিতে হয়েছে। আর একটা বিষয় যতজন নিয়োগ পেয়েছে সবাই কোনো না কোনো টপ জায়গাতেই ছিল। তো সে জায়গা থেকে যারা এসব করছে জাস্ট একটা ট্যাগিং দেওয়ার জন্য করছে। যারা টাকা লেনদেনের মাধ্যমে বিভিন্ন ক্যান্ডিডেট নিতে চাচ্ছিল সেটা না পারার কারণে একটা ট্যাগিং করছে যাতে তাদের বিতর্কের মধ্যে ফেলা যায়।’
ভিসির তার কথামতো কাজ করার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এটা টোটালি বানোয়াট কথা। ভিসি স্যার তো কারও কথায় চলে না, সে জায়গায় আমার কথা শুনে চলার তো কোনো প্রশ্নই আসে না।’
জামায়াতপন্থিদের একচেটিয়াভাবে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘আমার একার পক্ষে কোনো নিয়োগ দেওয়া সম্ভব নয়। আমি নিয়োগ কমিটির সভাপতি, একজন সদস্য মাত্র । কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে সিন্ডিকেট অনুমোদন দেয়। এর আগে লিখিত পরীক্ষা ও মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় যে সর্বোচ্চ ভালো করে তাকেই নিয়োগ দেওয়া হয়। এখানে পক্ষপাতের কোনো সুযোগ নেই। ’