প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২১ নভেম্বর ২০২৫ ১৬:৩৫ পিএম
দিনাজপুরের হজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) দ্বিতীয় সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে শনিবার (২২ নভেম্বর) । উত্তরের এই শীর্ষস্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি ইতোমধ্যে সমাবর্তনের জন্য প্রস্তুতি সম্পন্ন করে বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতা শেষ করেছে। এতে অংশগ্রহণের জন্য ৮ হাজার ৩৩ জন গ্রাজুয়েট, এমফিল ও পিএইচডি ডিগ্রিধারী রেজিস্ট্রেশন করেছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. এনামউল্যা বলেন, ‘সমাবর্তন হলো শিক্ষাজীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত, যা শিক্ষার্থীদের জন্য সম্মান ও গৌরবের। আমরা এই ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থী, শিক্ষক-শিক্ষিকা, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সংশ্লিষ্ট সকলকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাচ্ছি।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন, গত বছর ২৩ অক্টোবর দায়িত্ব গ্রহণের পর এই প্রথম সমাবর্তন আয়োজনের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়েছে, যা তার নেতৃত্বে সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
উপাচার্য জানান, এই প্রাকৃতিক ও ঐতিহ্যবাহী বিশ্ববিদ্যালয়টি দেশের উত্তরাঞ্চলের মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীক। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, সমাবর্তনের ইতিহাস বহু পুরনো, এবং এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা তাদের অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতা প্রকাশ করে আসছে। প্রসঙ্গত, বিশ্বের অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে এই ধরনের অনুষ্ঠান সাধারণ হলেও, হাবিপ্রবি এই সামিট উপলক্ষে এক বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ মুহূর্ত উপভোগ করবে।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, এই সমাবর্তনে চ্যান্সেলর উপস্থিত থাকছেন না, তবে তাঁর প্রতিনিধি হিসেবে শিক্ষা উপদেষ্টাকে সভাপতিত্বের জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে বিভিন্ন শতাব্দীর প্রাচীন ঐতিহ্যকে সম্মান জানানো হয়েছে। গাউন, হ্যাট ও টাসেল এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের স্বীকৃতি ও অর্জনের প্রতীক হিসেবে এই অনুষ্ঠানে পরা হয়।
ঐতিহাসিকভাবে, সমাবর্তনের ধারণা ১৫৭৭ সালে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু হয়। এর সঙ্গে জড়িত রয়েছে গাউন, হ্যাট ও টাসেল পরিধানের ঐতিহ্য, যা প্রাচীন ইউরোপীয় ও ভারতীয় সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত। শিক্ষার্থীদের জন্য এই পরিধেয়-বস্ত্র পরার অর্থ হলো তাদের নতুন স্তরে প্রবেশের শৃঙ্খলাবদ্ধতা ও কৃতিত্বের স্বীকৃতি।
অধ্যাপক ড. মো. এনামউল্যা বলেন, ‘সমাবর্তনের এই অনুষ্ঠান শুধু একটি ঐতিহ্য নয়, বরং এটি আমাদের শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিত্ব বিকাশের, সমাজে ন্যায় ও মানবিক মূল্যবোধে অনুপ্রাণিত করার এক আবেগময় মুহূর্ত। নিজের অর্জিত শিক্ষার গৌরবের পাশাপাশি, তাদের অবশ্যই সমাজের উন্নতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।’
তিনি আরও উল্লেখ করেন, দেশের উন্নয়ন ও বিশ্ব মানচিত্রে স্থান করে নেওয়ার জন্য গবেষণা, শিক্ষা ও মানবিক মূল্যবোধের বিকাশে শিক্ষার্থীদের অগ্রসর হতে হবে। তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন যে, শিক্ষার্থীরা যেন মুক্তচিন্তা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে অনুকরণীয় হয়ে উঠতে পারে, সেই অভিজ্ঞতা অর্জনে তারা প্রস্তুত।
উপাচার্য আরও আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেছেন, সামনের দিনগুলোতে হাবিপ্রবি আরও উচ্চতায় উঠবে এবং দেশ ও বিশ্বের মূলধারার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠবে। তিনি সবাইকে নিবিড়ভাবে সমাজের বিভিন্ন অস্থিরতা, গুজব ও অপ্রয়োজনীয় বিভ্রান্তি থেকে সজাগ থাকতে আহ্বান জানান।
বিশ্বের প্রগতিশীল ও আধুনিক শিক্ষার ধারায় সংযুক্ত হাবিপ্রবি, তার শিক্ষাকার্যক্রমের মান উন্নয়নে এবং গবেষণার মাধ্যমে উত্তরাঞ্চলের বিদ্যাপীঠ হিসেবে অসাধারণ সুনাম অর্জন করেছে। তিনি বলেন, বর্তমান প্রশাসন একনিষ্ঠভাবে বিশ্ববিদ্যালয়কে আন্তর্জাতিক মানের করে তুলতে কাজ করছেন।
অভিষেক এই সমাবর্তনে দেশ-বিদেশের শিক্ষার্থীরা তাদের স্বপ্নের মধ্যে নতুন একটি অধ্যায় শুরু করে, যা শিক্ষার পাশাপাশি ন্যায়, মানবিকতা এবং দেশের জন্য দায়বদ্ধতার প্রতীক হয়ে থাকবে।