বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২০ নভেম্বর ২০২৫ ২২:২৮ পিএম
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ব্রাকসু) নির্বাচনের তারিখ পরিবর্তন করা হয়েছে। পূর্বঘোষিত ২৯ ডিসেম্বরের পরিবর্তে নতুন করে ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখ চূড়ান্ত করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচন কমিশন এ তথ্য নিশ্চিত করে।
পাঁচ সদস্যের এই নির্বাচন কমিশনে রয়েছেন—প্রফেসর ড. মো. শাহ্জামান (প্রধান নির্বাচন কমিশনার), সহকারী নির্বাচন কমিশনার হিসেবে সহযোগী অধ্যাপক মো. আমির শরীফ, সহযোগী অধ্যাপক মো. মাসুদ রানা, সহযোগী অধ্যাপক ড. প্রদীপ কুমার সরকার, অধ্যাপক ড. মোহসীনা আহসান এবং সহযোগী অধ্যাপক মো. হাসান আলী।
এর আগে নির্বাচনের তারিখ ২৯ ডিসেম্বর ঘোষণার পর শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন এবং দ্রুত তারিখ পরিবর্তনের দাবি জানান। ফলে নির্বাচন কমিশন নতুন তফসিল প্রণয়ন করে।
নির্বাচন কমিশনের পুনঃতফসিল অনুযায়ী, আগামী শনিবার (২২ নভেম্বর) নির্বাচনের খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে। এ বিষয়ে আপত্তি গ্রহণ ও নিষ্পত্তি জানানো যাবে ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত। ২৬ নভেম্বর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ এবং ২৭ নভেম্বর থেকে ১ ডিসেম্বর সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র বিতরণ এবং ২ ও ৩ ডিসেম্বর ডোপ টেস্ট রিপোর্টসহ মনোনয়নপত্র দাখিল করতে হবে।
তাছাড়া, ৪ ও ৬ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র বাছাই ও ৭ ডিসেম্বর প্রার্থীদের প্রাথমিক তালিকা প্রকাশ করা হবে। ৮ ডিসেম্বর প্রাথমিক তালিকা বিষয়ে প্রার্থীদের আপত্তি গ্রহণ ও নিষ্পত্তি, ৯ ডিসেম্বর বেলা ১১ টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করা যাবে। ১০ ডিসেম্বর প্রার্থীদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে।
২৪ ডিসেম্বর সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে। একই দিনে ভোট গণনা শেষে ফলাফল ঘোষণা করা হবে।
তারিখ পরিবর্তন নিয়ে ব্রাকসুর ভিপি প্রার্থী আশিকুর রহমান বলেন, ব্রাকসু শিক্ষার্থীদের আবেগ। আমরা চেয়েছিলাম বন্ধের পূর্বে একটা যৌক্তিক সময়ে নির্বাচন হোক, যেখানে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হবে। নির্বাচনে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের বিষয়টি বিবেচনা করে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত এবং পরবর্তী পদক্ষেপ হওয়া উচিৎ বলে মনে করি। নির্বাচন কমিশন এর সিদ্ধান্তগুলো যেনো শিক্ষার্থীবান্ধব হয় এবং শিক্ষার্থীদের আকাঙ্ক্ষা এর বাহিরে না যায় এটাই চাওয়া।
নির্বাচনের তারিখ পরিবর্তন হওয়ার পর ছাত্রদল নেতা ইয়ামিন প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, ২৪ তারিখে অযৌক্তিকভাবে নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রশাসন একটি পক্ষের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতেছে বলে মনে হচ্ছে। তিনি সুষ্ঠু নির্বাচন না হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
তিনি আরও বলেন, নাটক শুরু করলো প্রশাসন।অযোগ্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন হয়তো জানে না—শিক্ষার্থীরা ডিসেম্বরের শুরুতেই বাসায় যাওয়া শুরু করবে। এমন পরিস্থিতিতে সুষ্ঠু নির্বাচন না করে, বরং সুবিধামতো কয়েকজনকে জিতিয়ে দেওয়ার পথ তৈরি করছে তারা।
তারিখ পরিবর্তনের বিষয়ে জানতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার পরিসংখ্যান বিভাগের প্রফেসর ড. মো. শাহ্জামানকে একাধিকবার ফোন করা হলে তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।