মোহীত উল আলম
প্রকাশ : ১৬ নভেম্বর ২০২৫ ১৪:৫১ পিএম
আপডেট : ২৬ নভেম্বর ২০২৫ ২৩:৪০ পিএম
মানুষ স্বশিক্ষিত হতে পারে; স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় তেমন না মাড়িয়েও নিজ প্রতিভাবলে বিশ্বজোড়া নাম করতে পারে। তবে এই লেখায় আমি এসব ক্ষণজন্মা লোকের কথা বলছি না, বলছি সাধারণভাবে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে উচ্চশিক্ষিত হওয়ার পরিবেশ নিয়ে। উচ্চশিক্ষা বলতে আমি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক, স্নাতকোত্তর, এম ফিল, পিএইচডি, পোস্ট-ডক্টরেট ডিগ্রিগুলোর অর্জনের কথা বলছি। এসব ডিগ্রি যেহেতু শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানভিত্তিক সেজন্য এসব ডিগ্রিকে প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি বলা হয়।
বাংলাদেশে আগে উচ্চশিক্ষার ডিগ্রি প্রদান করা হতো হাতে গোনা স্বায়ত্তশাসিত এবং সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে। কিন্তু নব্বইয়ের দশকের শুরু থেকে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় চালু হলে উচ্চশিক্ষার পরিধি বাড়ে। ‘এআই’য়ের তথ্যমতে, বাংলাদেশে এখন ৫৬টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এবং ১১৪টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আছে। সেগুলোর মধ্যে যথাক্রমে ৫৩টি ও ১০৪টি বিশ্ববিদ্যালয় চালু আছে। ব্যানবেইজের ২০২২ সালের পরিসংখ্যান অনুসারে, ১৬৪টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা হলো ১০ লাখ ৩৪ হাজার ৩২০ জন। এটি নিশ্চয়ই এফিলিয়েটেড কলেজগুলোয় বিরাজমান শিক্ষার্থীদের বাদ দিয়ে। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের বরাত দিয়ে ‘এআই’ জানাচ্ছে, এফিলিয়েটেড কলেজগুলো মিলে উচ্চশিক্ষা গ্রহণকারী শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৪৪ লাখ ৪১ হাজার ৭১৭ জন। আর শুধু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২০২৩ সালের একটি সূত্র অনুযায়ী ৩ লাখ ৫৮ হাজার ৪১৪ জন। ব্যানবেইজের ২০২৩ সালের হিসাব অনুযায়ী সরাসরি পাবলিক এবং প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে নিযুক্ত আছেন মোট ৩২ হাজার ৯১৭ জন শিক্ষক।
আমি এখানে একটি তত্ত্ব নিয়ে আলোচনাটি শুরু করতে চাই। সবার জানার জন্য বলছি, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিল (ব্যাক) নামক একটি সরকারি সংস্থা বেশ কবছর ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের পর্যায়ের লেখাপড়ার উন্নতিকল্পে ওবিই বা আউটকাম বেইজড এডুকেশন প্রোগ্রামটি নানাভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের চৌহদ্দিতে ক্রিয়াশীল করার জন্য বেশ তৎপর রয়েছে। ব্যাকের এই প্রচেষ্টা স্বায়ত্তশাসিত বা সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় কতটুকু প্রয়োগ করার চেষ্টা চলছে, সেটা বলতে পারব না, কিন্তু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় এটি প্রয়োগের জোর প্রচেষ্টা চলছে। একইভাবে গত দশক এবং এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় প্রযুক্তিগত ও ভৌত সুবিধাদি বাড়ানোর প্রচেষ্টা হিসেবে ‘হেকেপ’ বা উচ্চশিক্ষার বিস্তারে কাঠামোগত উন্নয়নের নামে একটি বহু বড় বাজেটের প্রকল্প শুরু হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত হেকেপের পরিণতি কী হয়েছিল জানা নেই বা বর্তমানে ব্যাক পরিচালিত ওবিই প্রজেক্টের কী পরিণতি হবে, সেটাও আমার জ্ঞানের বাইরে। কিন্তু যে কারণে আমি এ দুটো প্রকল্পের কথা বললাম, সে দুটির প্রয়োগ পর্যায়ে সফলতা বা অসফলতা নিয়ে আমার কোনো প্রশ্ন নেই, কিন্তু এ দুটির দর্শনগত দিকটি আমার কাছে মূল্যবান মনে হয়েছে। অর্থাৎ পলিসির দিক থেকে এ দুটি প্রকল্প যুগোপযোগী, যদিও প্রয়োগের ক্ষেত্রে এগুলোকে নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে বলেই আমার ধারণা।
কেন আমি এ দুটি প্রকল্পের পেছনে কার্যশীল দর্শনের সমর্থক, সেটি ব্যাখ্যা করার জন্য ওপরের ভূমিকাটি দিলাম? এই আলোচনার শুরুতে আমি স্বপ্রণোদিত হয়ে লিখেছিলাম যে, প্রাতিষ্ঠানিক লেখাপড়াকে গুরুত্ব না দিয়ে ব্যক্তিমানুষের পক্ষে উন্নতি করা সম্ভব। এটি হচ্ছে একটি মৌলিক বৈশিষ্ট্য। মৌলিকভাবে কেউ সূর্যের মতো দেদীপ্যমান প্রতিভা নিয়ে জন্মাতেই পারেন, এটি তার এশেনশিয়ালিস্ট কোয়ালিটি। কিন্তু আমরা যখন একটি জাতির উচ্চশিক্ষার উন্নতির কথা বলছি, সেখানে আমাদের স্বীকার করতে হবে যে, সবাই রবীন্দ্রনাথ, শেক্সপিয়ার বা আইনস্টাইন হয়ে জন্মান না। জাতীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো নিয়োজিত থাকে, যাতে জনগণের বৃহৎ গোষ্ঠী, যারা এসেনশিয়ালিস্ট কোয়ালিটি নিয়ে জন্মাননি, যারা পরিবেশকে ছাড়িয়ে উঠতে পারেন না, তাদের কীভাবে শিক্ষিত করে তোলা যায়, সেই বাস্তব লক্ষ্য নিয়ে।
এখানে এসেন্সের বিপরীতে যেটি আসছে, সেটি হচ্ছে ম্যাটার বা বস্তু। বিধিপ্রদত্ত প্রতিভার উন্মেষের কথা ধরলে এসেন্স বস্তু আগে আসে। কিন্তু সমাজকে শিক্ষিত করতে প্রাগ্রাধিকার থাকবে এসেন্সের নয়Ñ বস্তুর। এই বস্তুগত প্রয়োজনীয়তা প্রচলিত অর্থে আমাদের শিক্ষায়তনগুলোতে অনুপস্থিত কিংবা প্রায় অনুপস্থিত। সেই অনুপস্থিতির ঘোর কাটাতে হেকেপ ও ব্যাকের প্রজেক্টগুলো প্রয়োজনীয় হয়ে পড়েছে।
আমরা প্রায়শই একটি চালাকিপূর্ণ কথা বলি যে, সৃষ্টিকর্তা কাউকেই প্রতিভাহীন করে পাঠাননি, সবাইকে কিছু না কিছু গুণ দিয়ে পাঠিয়েছেন। এই গণতান্ত্রিক অধ্যাত্মবাদ আসলে শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টামাত্র। কিন্তু বাস্তবের ধাক্কায় আধ্যাত্মিক নিশ্চয়তা একদমই টেকে না। আমার এই কথার বহু শতক আগেই ইংরেজ কবি টমাস গ্রে তাঁর ‘এলিজি ইন দ্য কান্ট্রি চার্চইয়ার্ড’ কবিতায় বলে গেছেন যে, সমান সুযোগ-সুবিধা পেলে একজন গ্রাম্য কবিও শেক্সপিয়ার বা মিল্টনের মতো বড় কবি হতে পারতেন বা সিমন দ্য বোভা নারীদের সম্পর্কে যেভাবে বলেছেন, ‘ওয়ান ইজ নট বর্ন আ ওম্যান, শি বিকামস আ ওম্যান’ (অর্থাৎ কেউ নারী হয়ে জন্মান না, তাকে নারী বানানো হয়), ঠিক সেভাবে আমরা বলতে পারি যে, কোনো শিক্ষার্থী খারাপ বা অনুপযুক্ত হয়ে জন্মান না, তাকে অনুপযুক্ত বা খারাপ শিক্ষার্থী বানানো হয়।
ধরুন, এই চ্যাটজিপিটির যুগে, তথ্যপ্রযুক্তির বিপ্লবের যুগে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যদি মাল্টিমিডিয়ার সুবিধা ক্লাসরুমগুলোতে নিশ্চিত না হয়, তা হলে উচ্চশিক্ষা গ্রহণার্থে আসা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পিছিয়ে পড়বেন। আর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতনের অবস্থা যদি সৈয়দ মুজতবা আলীর ‘পণ্ডিতমশাই’ গল্পের হেডমাস্টারের মতো হয়, তা হলে বস্তুগত ইনসেনটিভ না পেলে শিক্ষকরা ডিমোটিভেটেড থাকবেন।
তাই হেকেপ ও ব্যাক দিয়ে এই কথাটি অন্তত স্বীকৃতি পেয়েছে যে, বস্তুগত নিশ্চিত শিক্ষায়তন পর্যায়ে এসেন্সের আগে স্থান পেয়েছে। যদি ওবিই বা ফলাফল নির্ভর শিক্ষা প্রদান আক্ষরিক অর্থে প্রয়োগ করা যায়, তা হলে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা শিক্ষাপ্রদানের দায়িত্বের প্রতি যে ঐশ্বরিক উদাসীনতা প্রদর্শন করে থাকেন, কিন্তু নিজেদের অধিকারের ব্যাপারে পান থেকে চুন খসতে দেন না, তার প্রকোপ কিছুটা কমবে আশা করা যায়।
প্রায়শই পত্রপত্রিকায় এবং সামাজিক মাধ্যমে দেখি যে, বাংলাদেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ই র্যাঙ্কিং-এ প্রথম এক হাজারটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে নেই। এতে আমি চমৎকৃত হই না। কারণ আমার চোখে অকার্যকর শিক্ষাব্যবস্থার কারণে বাংলাদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শ্বেতহস্তীতে পরিণত হয়েছে। যে ওবিই-এর কথা বললাম, তার আলোকে বলতে হয় উচ্চশিক্ষায় নিবেদিত প্রতিষ্ঠানগুলো বস্তুতপক্ষে অনুৎপাদনশীল খাতে পরিণত হয়েছে। যে পুঁজি তাতে অপরিকল্পিতভাবে ব্যয়িত হচ্ছে তার রিটার্ন ব্যবসায়িক অর্থে খুবই যৎকিঞ্চিৎ।
এবার আমি একটি স্বনামধন্য ঐতিহ্যের প্রচলন ও অতিব্যবহার নিয়ে মন্তব্য করতে চাই; যা অনেকের কাছেই নেতিবাচক মনে হতে পারে। ছাত্ররাজনীতি ঐতিহাসিকভাবেই বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ক্ষেত্রে আমাদের সবার গৌরবের স্বাক্ষর। তার পরও স্বীকার করতেই হবে যে, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হলো জ্ঞান চর্চা, জ্ঞান সৃষ্টি ও জ্ঞান বিতরণের অভীষ্ট জায়গা। এই প্রক্রিয়ার অতি অবশ্য জরুরি হলো নিয়মিতভাবে, অক্ষুণ্নভাবে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীর হাজিরা, শিক্ষকের পাঠদান, পাঠাগার চর্চা ও সাংস্কৃতিক জীবন উদ্বোধিত থাকা। কিন্তু সেখানে যদি ইংরেজিতে যাকে বলে ‘অন দ্য ড্রপ অব আ হ্যাট’ হলেই শিক্ষার্থীরা হুট করে রাস্তায় বের হয়ে আসেন, স্লোগান দেন বা শিক্ষকরা ক্লাস বর্জনসহ নানা রকমের ইস্যুতে ক্যাম্পাস উত্তপ্ত রাখেন; তা হলে শেষ পর্যন্ত সবাইকেই ঠকতে হবে। কারণ ‘সময় এবং ঢেউ কারও জন্য অপেক্ষা করে না।’ শিক্ষাগ্রহণের জন্য যেমন বই, খাতা, মোবাইল, টেবিল. চেয়ার, বোর্ড, কম্পিউটার লাগে এবং এগুলোর যেমন বস্তুভিত্তিক খরচ ও প্রাপ্তি আছে, তেমনি সময়েরও একটি বস্তুগত প্রকরণ আছে। সময়ের গতি থামানো যায় না ঠিক; কিন্তু সময়ের কাজ সময়ে করলে ব্যক্তিজীবনে, শিক্ষাজীবনে, এমনকি ভবিষ্যতেও সময়কে নিয়ন্ত্রণে আনা যায় এবং তার সুফল পেতে পারেন শিক্ষার্থীরা।
বাংলাদেশ পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ দেশ। জনসংখ্যায় অষ্টম। এই দুটি মহাভয়ংকর সূচকের বিপক্ষে এটি খুবই যৌক্তিক যে, বাংলাদেশে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে উঠবেই। কিন্তু এক্ষেত্রে আমি দুটো অসুবিধার কথা বলব।
একটি হচ্ছে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মালিক যারা, তারা হয়তো উচ্চশিক্ষার সুযোগ উন্মুক্ত করার মহৎ লক্ষ্য নিয়েই প্রতিষ্ঠান স্থাপন করেছিলেন। কিন্তু দিন গেলে সব মহৎ প্রচেষ্টারই একটি বস্তুগত আখ্যান তৈরি হয়। ফলে হয় কীÑ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সূচনালগ্নেই মহৎ উদ্দেশ্যে ভাটা পড়ে, যখন দেখা যায় যে, বিশ্ববিদ্যালয় চালাতে কর্তৃপক্ষকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। শিক্ষাথী ভর্তি হচ্ছেন না, ভালো শিক্ষকও মিলছে না। তখন ঢোকে কলুষতা এবং বাধাগ্রস্ত হয় প্রাথমিক মহৎ উদ্দেশ্য। অধিকাংশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তির ক্ষেত্রে আপসরফা করতে বাধ্য হয়, ফলে দেখা যায়, যে শিক্ষার্থী ইংরেজিতে ‘হি গো’ লেখেন, সে-ও ভর্তি হচ্ছেন ইংরেজিতে অনার্স পড়তে। ফলে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাপ্রদান প্রকারান্তরে মানসম্পন্ন শিক্ষাপ্রদান থাকে না, বরঞ্চ সনদ প্রদান বা খারাপভাবে বললে, সনদ বিক্রির প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়।
দ্বিতীয়ত, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মান বজায় রাখা আরও কঠিন হয়ে পড়ে। যখন দেখা যায় যে, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অভ্যন্তরীণভাবে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মানোন্নয়নের জন্য কোনো ব্যবস্থা রাখা হয় না। এ ব্যাপারটা আমি সংশ্লিষ্ট অনেক বিভাগে এবং পত্রপত্রিকায় লেখার মাধ্যমে জানিয়েছি যে, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কঠোরভাবে বাছাই করে যদি এম ফিল এবং পিইচডি প্রোগ্রাম শুরু না করা হয়, তা হলে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা অনুপ্রেরণা হারিয়ে ফেলতে পারেন. তারা একটি অনুত্তেজক গোষ্ঠীতে পরিণত হতে পারেন। অথচ সাংবিধানিকভাবে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে এম ফিল, পিএইচডি প্রোগ্রাম খুলতে কোনো বাধা নেই। আমার অনেক পরিচিত জুনিয়র সহকর্মী সংসার করছেন পঁচিশ বছর, বয়স হয়ে গেছে পঞ্চাশের ওপর, কিন্তু এখনও সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কাজ করছেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে। কারণ অধিকাংশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মালিকদেরই মনোভাব হচ্ছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে একটা কলেজরূপী কিছু চালানো।
শেষের কথায় আসি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বা শিক্ষার্থী বা শিক্ষকরা সমাজবিচ্ছিন্ন কিছু নন। তবে এ সম্পর্কটা একটা দুষ্ট চক্রের মতো। সমাজ ঠিক না হলে যেমন উচ্চশিক্ষা ঠিক হবে না, তেমনি উচ্চশিক্ষা ঠিক না হলে সমাজ ঠিক হবে না। আমি এ-ও মনে করি যে, রাজনীতি ঠিক করার আগে শিক্ষাব্যবস্থাকে ঠিক করতে হবে। তা না হলে নতুন বোতলে সেই পুরনো মদই মিলবে।
শিক্ষাব্যবস্থাকে বিজ্ঞানধর্মী, যুক্তিপ্রধান, জ্ঞান উন্মেষকারী এবং শক্তিশালী করা হওয়া উচিত জাতির প্রথম কাজ। যদি বাজেট ১০০ টাকা হয়ে থাকে, সেটি বিশটি খাতে যেমন শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বাসস্থান, বস্ত্র, যোগাযোগ, বাণিজ্য, প্রযুক্তিগত যোগাযোগ, সামরিক, আইনশৃঙ্খলা ইত্যাদি খাতে ৫ টাকা করে সমানভাবে দেওয়া হোক। সমস্যার সমাধান আসবেই।