× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

সাক্ষাৎকার : অধ্যাপক শামস রহমান

গবেষণায় বিশেষ গুরুত্ব দিই

গোলাম কিবরিয়া

প্রকাশ : ১৬ নভেম্বর ২০২৫ ১৪:৪২ পিএম

আপডেট : ২৬ নভেম্বর ২০২৫ ২৩:৪১ পিএম

গবেষণায় বিশেষ গুরুত্ব দিই

ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক শামস রহমান। গবেষণার জন্য দেশে-বিদেশের বিভিন্ন পুরস্কারপ্রাপ্ত এই শিক্ষাবিদ বিশ্ববিদ্যালয়টির গবেষণা, বিষয়-বৈচিত্র্যে, কর্মমুখী শিক্ষার প্রয়োজনীয়তাসহ বিভিন্ন দিক নিয়ে প্রতিদিনের বাংলাদেশের সঙ্গে কথা বলেছেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন গোলাম কিবরিয়া

প্রতিদিনের বাংলাদেশ : এ দেশের উচ্চশিক্ষা খাতে ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটিকে কীভাবে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ে আলাদা করবেন? 

উপাচার্য : আমরা ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি কমিউনিটি হিসেবে আসলেই আলাদা। বিভিন্ন ক্ষেত্রে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় যেভাবে কাজ করে, আমরা তার চেয়ে একটু ভিন্নভাবে কাজ করতে চাই। আর তা শুধু কথায় নয়Ñ প্রোগ্রামে এবং আচার-আচরণেও। সাধারণ মানুষের জন্য স্বল্প খরচে আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা দেওয়ার স্বপ্ন নিয়ে যাত্রা শুরু এ প্রতিষ্ঠানের। আমাদের দেশে অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী আছে, যারা অর্থের অভাবে ভালো বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়। এসব শিক্ষার্থীর মেধা বিকাশে এগিয়ে এসেছে ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি। প্রতিষ্ঠার শুরু থেকে বিশ্ববিদ্যালয়টি শিক্ষার্থীদের পর্যাপ্ত বৃত্তি দিচ্ছে। দরিদ্র পরিবারের মেধাবী শিক্ষার্থীদের আমরা অনেক সময় শতভাগ বৃত্তি দিয়ে থাকি। অন্যান্য ভালো বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় এখানে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা অনেক বেশি। বেসরকারি এই বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করে ১৯৯৬ সালের সেপ্টেম্বরে। মাত্র ২০ জন শিক্ষার্থী ও ছয়জন শিক্ষক নিয়ে যাত্রা শুরু হয়। দীর্ঘ সময়ের ধারাবাহিকতায় আমরা সুনামের সঙ্গে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছি। 

প্রবা : মানসম্মত পাঠদানের জন্য আসলে কী ধরনের পদক্ষেপ নিতে হয়?

উপাচার্য : শিক্ষার্থীদের মানসম্মত পাঠদান নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে। এর মধ্যে আমরা সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি দক্ষ ও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষক নিয়োগ এবং শ্রেণিকক্ষে মানসম্মত পাঠদানের ওপর। শিক্ষকদের পাঠদান পদ্ধতি নিয়ে শিক্ষার্থীদের মন্তব্যকে আমরা বিশেষভাবে গুরুত্ব দিই। এ ছাড়া শিক্ষকদের পদোন্নতিতে পিএইচডি ডিগ্রিকে প্রাধান্য দেওয়া হয়। শিক্ষকদের পিএইচডি ডিগ্রি অর্জনে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নানা সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়। যেসব শিক্ষক বিদেশে পিএইচডি ডিগ্রি নিতে চান, তাদের ছুটি দেওয়াসহ দীর্ঘ সময় পর্যন্ত বেতন দেওয়া হয়। আমরা আশা করি, এসব শিক্ষক ডিগ্রি অর্জন শেষে দেশে ফিরে আসবেন। অনেকেই এভাবে ডিগ্রি নিয়ে ফিরে এসেছেন, আমরা অনেকটাই সফল হয়েছি। ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের রয়েছে আন্তর্জাতিক মানের লাইব্রেরি। এখানে একাডেমিক বিভিন্ন বই ছাড়াও রয়েছে অনেক গবেষণা গ্রন্থ, রেফারেন্স বই, জার্নাল ও ই-বুকের বিশাল ভান্ডার। একাডেমিক কাজের বাইরেও এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল দক্ষতা বাড়ানোর জন্য রয়েছে নানা ধরনের ক্লাব। নিজেদের আগ্রহ অনুযায়ী শিক্ষার্থীরা এসব ক্লাবের মাধ্যমে আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য তৈরি হন। সর্বোপরি একজন নবীনকে নতুন পৃথিবীর উপযোগী করে গড়ে তুলতে সর্বদা সচেষ্ট থাকে ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়।

প্রবা : বিষয়-বৈচিত্র্যের দিক থেকে এ বিশ্ববিদ্যালয় কেমন?

উপাচার্য : এই বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং, ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি, ফার্মেসি, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং, ম্যাথমেটিকস বিষয়ে পড়াশোনার সুযোগ। এ ছাড়া আছে ইংরেজি, আইন, সামাজিক সম্পর্ক, তথ্যবিজ্ঞান ও গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনা এবং সমাজবিজ্ঞান বিভাগ। এ ছাড়া ব্যবসায় ও অর্থনীতি অনুষদের অধীন রয়েছে ব্যবসায় প্রশাসন ও অর্থনীতি বিভাগ।

নতুন জ্ঞানের উদ্ভাবনায় ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয় সবসময় সচেষ্ট থাকে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের গবেষণায় উৎসাহিত করতে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং। এ কেন্দ্র থেকে নিয়মিত দক্ষতার উন্নয়নে প্রশিক্ষণ এবং গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশ করা হয়।

প্রবা : কর্মক্ষেত্রে প্রবেশে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ হিসেবে আপনাদের কোনো ভূমিকা থাকে কি?

উপাচার্য : শিক্ষার্থীরা এখানে ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয় স্টুডেন্ট কাউন্সিল নামে একটি কার্যক্রম পরিচালনা করে। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করা শিক্ষার্থীদের কর্মক্ষেত্র সম্পর্কে ধারণা এবং চাকরি পেতে নানা পরামর্শ দেওয়া হয়। কাউন্সিলের মাধমে বিভিন্ন বিষয়ের ওপর প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। ওই বিষয়ে দেশের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও শিল্প-কারখানার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে এসব প্রতিযোগিতায় আমন্ত্রণ জানানো হয়। ফলে এসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সম্পর্ক তৈরি হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করে সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রগুলোতে চাকরিপ্রার্থীরা বাড়তি সুবিধা পেয়ে থাকে। বিশ্ববিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থীদের এ ধরনের বিভিন্ন ক্লাব আছে। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করে বের হওয়া শিক্ষার্থীদের কর্মজীবনেও তারা এসব ক্লাব থেকে বিভিন্ন সুবিধা নিতে পারে। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবকে লক্ষ্য করে আমরা শিক্ষার্থীদের দক্ষ করে গড়ে তুলতে চাই। কারণ চাকরির বাজার অনেকটাই প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে যাচ্ছে। সময় উপযোগী নিত্যনতুন কোর্স ডিজাইন এবং আগের কোর্সগুলোকে আধুনিকায়নের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মানবসম্পদে পরিণত করতে চাই। 

প্রবা : গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনায় আপনার বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান কোন পর্যায়ে?

উপাচার্য : শুধু বিশ্ববিদ্যালয় র‌্যাঙ্কিং নয়, শিক্ষকদের মানোন্নয়নেও গবেষণা প্রয়োজন। র‌্যাঙ্কিংয়ের সাত-আটটি মাপকাঠির মধ্যে গবেষণা, বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম এবং সাসটেনেবিলিটি নির্ভর করে। ফলে গবেষণার জন্য তহবিল ও অবকাঠামোসহ প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ঢেলে সাজানোর চেষ্টা চলছে। বিশ্ববিদ্যালয়টিতে গবেষণা কার্যক্রম চলমান। শিক্ষকদের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদেরও গবেষণামূলক কাজে উৎসাহ দেওয়া হয়। গবেষণা শুধু কাগজে-কলমে না রেখে আমরা তা বাস্তব জীবনের ওপর প্রতিফলন দেখতে চাই।


শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা