× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

সাক্ষাৎকার : মো. সবুর খান

উদ্ভাবন কেন্দ্র হিসেবে বিশ্বে স্বীকৃত হতে চাই

গোলাম কিবরিয়া

প্রকাশ : ১৬ নভেম্বর ২০২৫ ১২:৩৮ পিএম

আপডেট : ২৬ নভেম্বর ২০২৫ ২৩:৪৪ পিএম

উদ্ভাবন কেন্দ্র হিসেবে বিশ্বে স্বীকৃত হতে চাই

ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির চেয়ারম্যান মো. সবুর খান। নিজে একজন সফল উদ্যোক্তা, নতুন উদ্যোক্তা তৈরি করতেও সব সময় আগ্রহী। বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে ভাবনা, গবেষণা, উদ্যোক্তাদের জন্য পরামর্শ—এমন নানা কিছু নিয়ে প্রতিদিনের বাংলাদেশের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি।  সাক্ষাৎকার নিয়েছেন গোলাম কিবরিয়া।

প্রতিদিনের বাংলাদেশ : ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির শিক্ষা-কার্যক্রমে আপনি কোন বিষয়ের ওপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন?

চেয়ারম্যান : আমরা শিক্ষাব্যবস্থাকে শুধুমাত্র জ্ঞান অর্জনের জায়গা হিসেবে না; বরং চরিত্র, দক্ষতা ও দায়িত্ববোধ গঠনের কেন্দ্র হিসেবে দেখি। ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে আমরা সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেইÑ শিক্ষার্থীর ক্যারিয়ার রেডিনেস, উদ্যোক্তা চিন্তা এবং নৈতিকতা ও মানবিকতার সমন্বয়ের ওপর।

শিক্ষার্থীরা যাতে পড়াশোনা শেষে শুধু চাকরিপ্রার্থী না হয়ে উদ্যোক্তা ও উদ্ভাবক হতে পারেন, সেই লক্ষ্যেই আমরা আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছি।

প্রবা : বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা খাতে আপনার বিশ্ববিদ্যালয়কে কীভাবে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ে আলাদা করবেন?

চেয়ারম্যান : ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির সবচেয়ে বড় শক্তি হলো এর ইন্টিগ্রেটেড ইকোসিস্টেম; যেখানে শিক্ষা, গবেষণা, উদ্ভাবন, উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থানের সবকিছু একসঙ্গে কাজ করে। আমাদের ‘Employability 360°’ ধারণা, ‘Microcredential Program’, ‘Capstone Project System’ এবং ‘One Student One Laptop’ উদ্যোগ ড্যাফোডিলকে অন্য সবার চেয়ে আলাদা করেছে। এখানে শিক্ষার্থীরা শেখে বাস্তব অভিজ্ঞতার মাধ্যমে; শুধুমাত্র বই নয়, বরং হ্যান্ডস অন প্রজেক্ট, ইন্টার্নশিপ এবং ইনোভেশন ল্যাবের মাধ্যমে।

প্রবা : শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্ভাবনী চিন্তা ও সমস্যা সমাধানের মানসিকতা গড়ে তুলতে কী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে?

চেয়ারম্যান : আমরা বিশ্বাস করি, উদ্ভাবন শেখানো যায় না, তাকে উদ্বুদ্ধ করতে হয়। এই চিন্তা থেকেই ডিআইইউতে গড়ে উঠেছে : ইনোভেশন অ্যান্ড ইনকিউবেশন সেন্টার, ড্যাফোডিল বিজনেস ইনকিউবেটর, নলেজভ্যালে কো-ওয়ার্কিং হাব (KnowledgeVale Co-working Hub) এবং বাংলাদেশ ভেঞ্চার ক্যাপিটাল লিমিটেড (BVCL); যা শিক্ষার্থীদের স্টার্টআপ আইডিয়ায় সিড ফান্ড ও মেন্টরশিপ দিয়ে থাকে। এ ছাড়া ক্যাপস্টোন প্রজেক্ট সিস্টেমের মাধ্যমে প্রতিটি শিক্ষার্থী বাস্তব জীবনের কোনো সমস্যা সমাধানের জন্য একটি প্রজেক্ট করে, যা তার চিন্তাশক্তি ও বাস্তব অভিজ্ঞতা বাড়ায়।

প্রবা : ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটি গবেষণায় কীভাবে এগিয়ে যাচ্ছে?

চেয়ারম্যান : ডিআইইউ এখন গবেষণাকে শুধু একাডেমিক বাধ্যবাধকতা নয়, বরং উদ্ভাবনের উৎস হিসেবে দেখে। আমাদের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা নিয়মিতভাবে Scopus-indexed এবং Q1/Q2-ranked জার্নালে প্রকাশনা করছে। আমরা স্থাপন করেছি রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশন উইং, এআই অ্যান্ড ডেটা সায়েন্স ল্যাব, সাইবার সিকিউরিটি ল্যাব এবং স্মার্টসিটি রিসার্চ সেন্টার। যেখানে গবেষণা সরাসরি শিল্প ও সমাজে প্রয়োগ করা হচ্ছে। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় (যেমন AUAP, IAUP, Erasmus+) যৌথ গবেষণা ও এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম পরিচালিত হচ্ছে।

প্রবা : বাংলাদেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কী?

চেয়ারম্যান : সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলোÑ নীতিগত বৈষম্য ও মানসিক দৃষ্টিভঙ্গি। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো দেশের উচ্চশিক্ষায় বিশাল অবদান রাখলেও অনেক সময় নীতিনির্ধারণে সমান মর্যাদা ও সহায়তা পায় না। আমার মতে, সরকার যদি বেসরকারি-সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে গবেষণা অনুদান, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও নীতিগত সুযোগে সমতা আনে, তবে দেশীয় উচ্চশিক্ষা অনেকদূর এগিয়ে যাবে। আমি মনে করি, এখন সময় এসেছে একটি ‘Higher Education Commission for Private Universities’ গঠনের; যা নীতি, মান ও সহযোগিতার মাধ্যমে

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে সহযোগিতা করবে, নিয়ন্ত্রণ নয়। এ ছাড়া গবেষণা অনুদান, বিদেশি শিক্ষক বিনিময় এবং উদ্যোক্তা শিক্ষাকে নীতিগতভাবে উৎসাহিত করতে হবে। এমন নীতি হতে হবে যেন বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শুধু জ্ঞান নয়, অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানেও অবদান রাখতে পারে।

প্রবা : দেশের উচ্চশিক্ষা নীতিতে আপনি কী ধরনের পরিবর্তন বা উন্নয়ন প্রত্যাশা করেন?

চেয়ারম্যান : আমি মনে করি, এখন সময় এসেছে একটি ‘Higher Education Commission for Private Universities’ গঠনের; যা নীতি, মান ও সহযোগিতার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে সহযোগিতা করবে, নিয়ন্ত্রণ নয়। এ ছাড়া গবেষণা অনুদান, বিদেশি শিক্ষক বিনিময়, এবং উদ্যোক্তা শিক্ষাকে নীতিগতভাবে উৎসাহিত করতে হবে। 

প্রবা : আগামী পাঁচ বছরে ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটিকে আপনি কোথায় দেখতে চান?

চেয়ারম্যান : আমাদের লক্ষ্য স্পষ্টÑ DIU-কে এশিয়ার সেরা ১০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে নিয়ে যাওয়া। এর অংশ হিসেবে আমরা প্রথমত. AI-Driven Learning Ecosystem তৈরি করছি; দ্বিতীয়ত. আন্তর্জাতিক শাখা (Dubai, Australia, Central Asia) সম্প্রসারণ করছি; তৃতীয়ত. Smart Education City-এর মাধ্যমে শিক্ষা, উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা বিকাশের মডেল বিশ্বে ছড়িয়ে দিচ্ছি। আমরা চাই DIU শুধু একটি বিশ্ববিদ্যালয় নয়, একটি জাতীয় উদ্ভাবন কেন্দ্র হিসেবে বিশ্বে স্বীকৃত হোক।


প্রবা : কর্মমুখী শিক্ষাব্যবস্থা দেশের চিত্র কীভাবে বদলে দিতে পারে?

চেয়ারম্যান : কর্মমুখী শিক্ষা মানে শুধু চাকরি নয়, এটি আত্মনির্ভরতা, দক্ষতা ও দায়িত্ববোধের শিক্ষা। যদি প্রত্যেকটি শিক্ষার্থী নিজের পেশাগত দক্ষতায় আত্মবিশ্বাসী হন, তাহলে বিদেশে শ্রম রপ্তানির পরিবর্তে আমরা স্কিল রপ্তানি করতে পারব। আমরা বিশ্বাস করি, কর্মমুখী শিক্ষাই হবে দারিদ্র্যমুক্ত ও প্রযুক্তিনির্ভর বাংলাদেশ গঠনের মূল চাবিকাঠি।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা