প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১০ নভেম্বর ২০২৫ ২২:২১ পিএম
আপডেট : ১০ নভেম্বর ২০২৫ ২২:২৩ পিএম
ফাইল ছবি।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের আশ্বাসে আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। একই সঙ্গে দুদিন কর্মবিরতি পালনের পর মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) থেকে শ্রেণিকক্ষে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন তারা। সোমবার (১০ নভেম্বর) অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সভা শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ ঘোষণা দেন বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক খায়রুন নাহার লিপি।
এদিকে রাত পৌনে ৯টার দিকে এ আন্দোলন স্থগিত ঘোষণা নিয়ে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠক শেষে আন্দোলন স্থগিতের খবর ছড়ালে ভিন্নমতের শিক্ষকরা নেতাদের উদ্দেশে ভুয়া, ভুয়া স্লোগান দিতে থাকেন। তারা বলেন, দশম গ্রেডের প্রজ্ঞাপন ছাড়া আমরা ঘরে ফিরব না।
এ সময় বৈঠকে অংশ নেওয়া শিক্ষক নেতারা সেখান থেকে সটকে পড়েন। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি এবং তাদের আন্দোলন স্থগিত ঘোষণার বিরুদ্ধে অন্য শিক্ষকদের আন্দোলন অব্যাহত ছিল।
এর আগে সোমবার বিকাল ৫টায় অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদারের সভাপতিত্বে যৌথসভায় বসেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আবু তাহের মো. মাসুদ রানাসহ দুই মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তা এবং আন্দোলনরত শিক্ষকদের ১৭ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল। তিন ঘণ্টার বৈঠক শেষে বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির (শাহিন-লিপি) সাধারণ সম্পাদক খায়রুন নাহার লিপি সাংবাদিকদের বলেন, আমাদের দাবি দশম গ্রেড হলেও অর্থ মন্ত্রণালয় আমাদের জন্য ১১তম বাস্তবায়নের নিশ্চয়তা দিয়ে প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। তাদের প্রতি আস্থা রেখে আমরা মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) থেকে আমাদের সব কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নিচ্ছি। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ও এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষকদের আন্দোলন প্রত্যাহারের কথা জানিয়েছে।
সচিবালয়ে সভা শেষে প্রাথমিক শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ শিবলী সাদিক তিন দফা দাবি নিয়ে আলোচনা ও সমাধানের কথা জানিয়েছেন। এক বিজ্ঞপ্তিতে তিনি জানান, সভায় সহকারী শিক্ষকদের বর্তমান বেতন স্কেল উন্নীত করার বিষয়ে অর্থ সচিব বলেছেন, বেতন গ্রেড ১১তে উন্নীত করার বিষয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবটি অর্থ বিভাগ জাতীয় বেতন কমিশন ২০২৫-এ প্রেরণ করেছে; যা জাতীয় বেতন কমিশনের বিবেচনাধীন রয়েছে। জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ পাওয়ার পরে অর্থ বিভাগ এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করবে।
শিক্ষকদের ১০ এবং ১৬ বছর পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেড প্রাপ্তির বিষয়ে জটিলতা প্রসঙ্গে অর্থ সচিব বলেন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে অর্থ বিভাগে একটি প্রস্তাব করলে অর্থ বিভাগ বিষয়টি পর্যালোচনা করবে। শিক্ষকদের শতভাগ পদোন্নতির বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিদ্যমান বিধিমালার আলোকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
এর আগে গত রবিবার সারা দেশে কর্মবিরতি ও শহীদ মিনারে অবস্থান কর্মসূচির পর সন্ধ্যায় আন্দোলনরত শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনায় বসে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। সেই বৈঠকে আশানুরূপ সমাধান না এলেও প্রথমে কর্মবিরতি স্থগিত ঘোষণা করেন শিক্ষকরা। তবে রবিবার গভীর রাতে ফের কর্মবিরতি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন শিক্ষক নেতারা। এই ঘোষণার পর সোমবার বিদ্যালয়ে উপস্থিত থেকেই কর্মবিরতি পালন করেন দেশের প্রায় সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। ফলে দেশের প্রায় সব বিদ্যালয়ে বন্ধ ছিল পাঠদান কার্যক্রম। একই সঙ্গে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে তৃতীয় দিনের অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন সারা দেশ থেকে আসা শিক্ষকরা।
বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতির কোটালীপাড়া উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ওলিউল্লাহ হাওলাদার বলেন, আমরা উপজেলার সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলন সফল করার জন্য শ্রেণিকক্ষে পাঠদান বিরতিতে রয়েছি।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শেখর রঞ্জন ভক্ত বলেন, ঢাকার আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে কোটালীপাড়ায় সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মবিরতি করছেন শিক্ষকরা। তবে তারা বিদ্যালয়েই আছেন।
প্রসঙ্গত, দশম গ্রেড বাস্তবায়নসহ ১০ বছর ও ১৬ বছর পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেড দেওয়া সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান এবং শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতির নিশ্চয়তা- এই তিন দফা দাবিতে গত শনিবার সকাল থেকে শহীদ মিনারে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন শিক্ষকরা। ওইদিন বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে তারা ‘কলম বিরতি কর্মসূচি’ পালনে মিছিল নিয়ে শাহবাগের দিকে এগিয়ে যাওয়া শুরু করেন। বিকেল ৪ টার দিকে শাহবাগ থানার সামনে তাদের আটকে দেয় পুলিশ। এ সময় পুলিশের সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামান, লাঠি চার্জ, কাঁদুনে গ্যাসে কর্মসূচি পণ্ড হয়ে যায় শিক্ষকদের। দেড় শতাধিক শিক্ষক আহত হওয়ার পাশাপাশি ৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পর দিন রাতে শহীদ মিনারে অবস্থান কর্মসূচির পাশাপাশি সারা দেশে লাগাতার কর্মবিরতি শুরু করেন শিক্ষকরা। এর সঙ্গে চলতে থাকে ঢাকায় অবস্থান কর্মসূচি।