বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৬ নভেম্বর ২০২৫ ১৮:৫৯ পিএম
আপডেট : ০৬ নভেম্বর ২০২৫ ১৯:০২ পিএম
দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ‘সংগীত ও শারীরিক শিক্ষা’ বিষয়ের শিক্ষক পদ পুনর্বহালের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) সংগীত এবং শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোডে দুপুর সাড়ে ১১টায় সংগীত ও বিকেল ৩ টায় শারীরিক শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থীরা এই কর্মসূচি পালন করেন।
এর আগে গত রবিবার ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা-২০২৫’ সংশোধন করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংগীত ও শারীরিক শিক্ষা বিষয়ের সহকারী শিক্ষক পদ বাতিল করা হয়। এর প্রেক্ষিতেই আজ মানববন্ধন করেন শিক্ষার্থীরা।
মানববন্ধন কর্মসূচিতে সংগীত এবং শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা ‘শিল্পের আলো জ্বালতে চাই, সংগীত শিক্ষক নিয়োগ চাই’, ‘একমুখী শিক্ষানীতি নয়, চাই সাংস্কৃতিক অভ্যুদয়’, ‘প্রাথমিক শিক্ষায় সংগীত শিক্ষক পদ পুনবর্হাল চাই’, ‘হেলথ ইজ ওয়েলথ’, ‘শারীরিক শিক্ষা মানে সুস্থ মন সুন্দর জীবন, ‘দাবি মোদের একটাই, শারীরিক শিক্ষা শিক্ষক চাই’ প্রভৃতি প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন।
প্রতিবাদ কর্মসূচিতে সংহতি জানিয়ে সংগীত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক শায়লা তাসনীম বলেন, সংগীত পবিত্র বিষয়। সংগীত চর্চা করলে মানুষের মন পবিত্র ও নির্মল হয়। একটা অবলা প্রাণীকেও যদি সংগীত শ্রবণ করানো হয় তবে তার মধ্যে পরিবর্তন আসবে।
সংগীতের শিক্ষক নিয়োগ বন্ধের বিষয়ে তিনি বলেন, সংগীত শিক্ষার জন্য যখন নতুন পদ সৃষ্টি হবে জেনেছিলাম তখন ভেবেছিলাম যারা সংগীত বিভাগ থেকে পাশ করে বের হচ্ছে তাদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। কিন্তু শিক্ষক নিয়োগ বন্ধ করে দেওয়ায় তাদের এ সুযোগটা আর থাকছেনা।
সংগীত বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী জাহিন বিশ্বাস এষা বলেন, সংগীত শিক্ষা বা শারিরীক শিক্ষা শিশুদের শারিরীক বিকাশ, মননের বিকাশ, মানসিক স্বাস্থ্য বিকাশের জন্য অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রাথমিকে যদি বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা যায় তাহলে শিশুরা ছোট থেকে এই ধরণের সৃজনশীলতা, মননশীলতা নিয়ে বড় হবে।
তিনি আরও বলেন, আমরা উপাচার্যের মাধ্যমে শিক্ষা উপদেষ্টা বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করবো। আমাদের যুক্তিগত খাতিরে প্রাথমিকের সংগীত শিক্ষক পদ পূর্ণ নিয়োগ বহাল চাই।
শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ইয়াসির আরাফাত বিজয় বলেন, অনেক শিক্ষার্থীরাই আছেন যারা বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ভয় ও দুশ্চিন্তায় ভুগে। যাদের শারীরিক শিক্ষার সাথে সম্পর্ক থাকে তারা সহজেই এই ভয় কাটিয়ে উঠতে পারবে। কিন্তু শিক্ষার্থীদের এই ভয় দূর করবে কে? সেটা কি পদার্থবিজ্ঞানের শিক্ষক, ইংরেজির শিক্ষক নাকি গণিতের শিক্ষক দূর করবেন?
একই বিভাগের স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী সপ্না আক্তার বলেন, শারীরিক শিক্ষা ও সংগীত উভয় বিভাগের শিক্ষক নিয়োগ প্রথমে স্থগিত করা হয়, পরবর্তীতে বাতিল করা হয়। শারীরিক শিক্ষা দৈনন্দিন শিক্ষার অবিচ্ছেদ্য অংশ। এটা আমাদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য উন্নয়নে ভূমিকা পালন করে। উন্নত দেশগুলোতে শারীরিক শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করা হলেও বাংলাদেশে অবহেলা করা হয়।