জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৫ নভেম্বর ২০২৫ ১৭:১৫ পিএম
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক ড. নাহরিন ইসলাম খানের বিরুদ্ধে জামায়াত নেতার মানহানি মামলাকে মুক্তচিন্তা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পরিপন্থী বলে মন্তব্য করেছে জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম।
মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) রাতে জাবি জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. শামছুল আলম এবং সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মো. জামাল উদ্দীন স্বাক্ষরিত গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ কথা বলা হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক নাহরিন ইসলাম খানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ৫০০ ধারায় (মানহানি) মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানা গেছে। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী প্রেক্ষাপটে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর এমন চাপ সৃষ্টি ও ভিন্নমত দমনের প্রবণতা উদ্বেগজনক। জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম এ ধরনের কর্মকান্ডে তীব্র উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করছে।
এতে আরও বলা হয়, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা জাতীয় উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের অপরিহার্য উপাদান। তাই অধ্যাপক খান তার স্বাধীন মত প্রকাশের কারণে হয়রানির শিকার হবেন না এই প্রত্যাশা করছি। জাবি জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম মুক্তচিন্তা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষার প্রতি দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করছে।
এ বিষয়ে জাবি জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক ড. শামছুল আলম বলেন, অধ্যাপক নাহরিন ইসলাম খান একটি টকশোতে গণমাধ্যমের উদ্ধৃতি দিয়ে কিছু বক্তব্য দেন। সেখানে তিনি কোনো ব্যক্তি বা দলের নাম উল্লেখ করেননি। কিন্তু সেটিকে ইস্যু করে একটি রাজনৈতিক দলের একজন ব্যক্তি তার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন- এটা তারা করতে পারেন না। কারও বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত থাকলে পাল্টা মতামত দেওয়া যেত, কিন্তু মামলা করা মানে স্বাধীনভাবে কথা বলার পথ রুদ্ধ করা।
তিনি আরও বলেন, এভাবে মামলা করা ফ্যাসিস্ট রাজনীতির অংশ। শেখ হাসিনার সরকারের মতো বিরোধী মত দমনের প্রবণতা এখনও বহাল রয়েছে। তারা যদি ক্ষমতায় আসার আগেই এমন আচরণ করে, তবে আমরা আশঙ্কা করছি- ক্ষমতায় এলে তারা বিরোধীজোটের কাউকেই শান্তিতে থাকতে দেবে না।
এর আগে মঙ্গলবার সকালে সিরাজগঞ্জ সদর থানা আমলি আদালতে দণ্ডবিধির ৫০০ ধারায় মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলার বাদী অধ্যাপক জাহিদুল ইসলাম সিরাজগঞ্জ-২ আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী ও জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি।