প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০১ নভেম্বর ২০২৫ ১৪:২৫ পিএম
প্রবেশ পদে ১১তম গ্রেড প্রদানসহ তিন দফা দাবিতে এবার আন্দোলনে নামতে যাচ্ছেন সহকারী শিক্ষকরা। ১৫ নভেম্বরের মধ্যে দাবি মানা না হলে কর্মবিরতিসহ নানা কর্মসূচিতে যাবেন তারা।
শনিবার (১ নভেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের আব্দুস সালাম হলে প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সংগঠন ঐক্য পরিষদ সংবাদ সম্মেলন করে এ ঘোষণা দেয়।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ১৫ নভেম্বরের মধ্যে দাবি পূরণে দৃশ্যমান উদ্যোগ না দেখা গেলে কর্মবিরতিসহ নানা কর্মসূচি দেওয়া হবে।
বাংলাদেশ প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সমাজের সভাপতি শাহিনুর আল আমীন লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন। কর্মসূচি ঘোষণা করেন বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমাজের সভাপতি আনিসুর রহমান।
লিখিত বক্তব্যে শাহিনুর আল আমীন বলেন, ‘দেশের প্রান্তিক পর্যায়ে প্রায় তিন লাখ ৮০ হাজার সহকারী শিক্ষক শিক্ষা কার্যক্রমে নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। কিন্তু সহকারী শিক্ষকদের মর্যাদা ও আর্থিক নিরাপত্তা দীর্ঘদিন ধরেই অবহেলিত। বর্তমানে একজন সহকারী শিক্ষক ১৩তম গ্রেডে যোগদান করে সর্বমোট মাত্র ১৭ হাজার ৬৫০ টাকা বেতন পান, যা বর্তমান বাজারমূল্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের অন্যতম প্রধান দাবি সহকারী শিক্ষক এন্ট্রি পদে ১১তম গ্রেডে ১২ হাজার ৫০০ টাকা স্কেলে সর্বসাকল্যে বেতন হবে ১৯ হাজার ৮২৫ টাকা। সরকারের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় রেখেই আমরা এই সামান্য দাবিটি করছি যেখানে সরকারকে অতিরিক্ত মাত্র দুই হাজার ২৬৫ টাকা প্রদান করতে হবে।’
লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, ‘একই শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও অন্যান্য দপ্তরে কর্মরত সরকারি চাকরিজীবীরা ১০-১১তম গ্রেডে যোগদান করলেও প্রাথমিক সহকারী শিক্ষকরা বহুবছর ধরে ১৩তম গ্রেডে রয়েছেন। যা ‘অমানবিক ও বৈষম্যমূলক’। পাশাপাশি ২০০৯ সাল থেকে পদোন্নতি কার্যক্রম স্থগিত থাকায় অধিকাংশ শিক্ষক জীবনভর সহকারী শিক্ষক হিসেবেই অবসর নেন।’
শিক্ষকদের দাবিগুলো হলো-
সহকারী শিক্ষকদের এন্ট্রি পদে ১১তম গ্রেড প্রদান; ১০ বছর ও ১৬ বছরের উচ্চতর গ্রেড প্রদানের জটিলতা নিরসন; এবং শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতির মাধ্যমে পদোন্নতির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।
১৫ নভেম্বরের মধ্যে দাবিগুলো বাস্তবায়ন না হলে সারাদেশব্যাপী পরবর্তী কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছেন সহকারী শিক্ষক নেতারা।