বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৪ অক্টোবর ২০২৫ ১১:১০ এএম
ইসকন নিষিদ্ধের দাবি ও দেশজুড়ে ইসকনের সহিংসতা, হত্যা ও দেশবিরোধী কার্যক্রমের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থীরা।
বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) রাত ১১টায় ঢাবির হল পাড়া থেকে মিছিলটি শুরু হয়। পরবর্তীতে, ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মধ্য দিয়ে শেষ হয়।
মিছিলে শিক্ষার্থীদের ‘ইসকন তুই জঙ্গি, স্বৈরাচারের সঙ্গী’, ‘একটা একটা ইসকন ধর, ধরে ধরে জেলে ভর’, ‘আমার সোনার বাংলায়, ইসকনের ঠাঁই নাই’, ‘ইসকন আর স্বৈরাচার, মিলেমিশে একাকার’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে শোনা যায়।
বিক্ষোভ পরবর্তী সমাবেশে ঢাবি শিক্ষার্থী রিয়াদুল ইসলাম বলেন, ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে ইসকন নানা দেশবিরোধী কাজে লিপ্ত হয়েছে। তারা পলাতক স্বৈরাচারের সাথে মিশে দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে। তারা আদালত চত্বরে আইনজীবী আলিফকে হত্যা করেছে। তারপরও তাদের নিষিদ্ধকরণে সরকারের অনীহা দেখা যাচ্ছে।
আরেক শিক্ষার্থী মো. মাহতাপ ইসলাম বলেন, ‘জঙ্গিবাদবিরোধী বক্তব্য দেওয়ায় খতিব মহিবুল্লাহকে পঞ্চগড়ে ইসকন সদস্যরা অপহরণ করে নির্যাতন চালিয়েছে। এ ঘটনায় বাংলাদেশের ছাত্রসমাজ তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে। ১৭ বছর ধরে স্বৈরাচারের ছত্রছায়ায় ভারতীয় প্রভাবের মাধ্যমে বাংলাদেশ পরিচালনার যে অপচেষ্টা চলছে, আমরা আগস্ট বিপ্লবের মাধ্যমে দেখিয়ে দিয়েছি ভারতের কোনো প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী বাংলাদেশ চলবে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘ভারত এখনও ইসকনকে ব্যবহার করে বাংলাদেশে অস্থিতিশীলতা তৈরি করছে। চট্টগ্রামে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলী হত্যাসহ একাধিক ঘটনায় ইসকন সদস্যদের সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আমরা পরিষ্কারভাবে জানাতে চাই স্বৈরাচারকে যেমন বিদায় দিয়েছি, ইসকনকেও এই দেশ থেকে বিদায় জানাব।’
বিক্ষোভে সলিমুল্লাহ মুসলিম হল সংসদের জিএস সাদমান আব্দুল্লাহ বলেন, ‘ইসকন তার শুরু থেকেই একটি জঙ্গি সংগঠন হিসেবে কাজ করছে। তারা ভারতীয় প্রেসক্রিপশন বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের মুসলিম সমাজে বিভাজন সৃষ্টির চেষ্টা করছে। গাজীপুরে ১৩ বছরের এক মেয়েকে ধর্ষণ এবং খতিব অপহরণের ঘটনাসহ নানা অপরাধে তাদের জড়িত থাকার অভিযোগ আছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশে আমরা জুলাই-আগস্টের বিপ্লবে রক্ত দিয়েছি। সেই রক্তের বিনিময়ে অর্জিত বাংলাদেশে কোনো জঙ্গিবাদী বা ইসলামবিরোধী সংগঠন তাদের কার্যক্রম চালাতে পারবে না। আমরা প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি অতি দ্রুত ইসকনকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করতে হবে।’