প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২২ অক্টোবর ২০২৫ ১৯:২২ পিএম
ছবি সংগৃহীত।
ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগার অভিযোগে সাইবার সুরক্ষা আইনে করা মামলায় বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী শ্রীশান্ত রায়কে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।
বুধবার (২২ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলামের আদালত এই আদেশ দেন।
এদিন আসামিকে আদালতে হাজির করে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও চকবাজার থানার উপ-পরিদর্শক শাহজাহান সিরাজ তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন।
এ সময় আসামিপক্ষের আইনজীবী সাইফুল ইসলাম শ্রীশান্ত রায়ের জামিন চেয়ে শুনানি করেন। তিনি বলেন, এই মামলায় সব কয়টি ধারা জামিনযোগ্য। সে ক্ষেত্রে তিনি এই মামলায় জামিন পেতে পারেন। তবে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন জামিনের বিরোধিতা করে বলেন, জামিন যোগ্য ধারা হলেও বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা করে অনেক ক্ষেত্রে জামিন দেয়া যায় না। জামিন নামঞ্জুর করে আসামিকে কারাগারে পাঠানো হোক।
পরে উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আসামির জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। একই সঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তার উপস্থিতিতে বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) জামিন শুনানির দিন ধার্য করেন।
এর আগে ওই ঘটনায় বুধবার চকবাজার থানায় বুয়েটের নিরাপত্তা কর্মী মো. আফগান হোসেন বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বুয়েটের আহসান উল্লাহ হলে অবস্থান করে ছদ্মনাম ব্যবহার করে মুসলিম নারী ও ইসলাম ধর্ম নিয়ে এ বছরের ৮ জুন থেকে ৭ সেপ্টেম্বর বিভিন্ন পোস্ট দেওয়া হয়। সেখানে অশ্লীল এবং কুরুচিপূর্ণ, ধর্মীয় বিদ্বেষপূর্ণ বক্তব্য জুড়ে দেওয়া হয়। দীর্ঘদিন চেষ্টার পর ছদ্মনামের প্রকৃত আসামি শ্রীশান্ত রায়কে শনাক্ত করা হয়। মুসলিম নারী সংক্রান্ত অশ্লীল মন্তব্য এবং ধর্মীয় ঘৃণা ও বিদ্বেষমূলক মন্তব্য বুয়েটের অন্যান্য শিক্ষার্থী ও ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছে।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) রাতে যৌন হয়রানি ও ধর্ষণের অভিযোগে বুয়েটের ইইই বিভাগের ৩য় বিভাগের শিক্ষার্থী শ্রীশান্ত রায়কে গ্রেপ্তারের দাবিতে বিক্ষোভ করছে বুয়েটের শিক্ষার্থীরা। পরবর্তীতে দাবির মুখে তার ছাত্রত্ব সাময়িকভাবে বাতিল করে বুয়েট প্রশাসন। এদিন রাত সাড়ে ১২টায় বুয়েটের ছাত্রকল্যাণ পরিদপ্তরের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এর আগে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম রেডডিট-এ মুসলিম নারীদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য ও ধর্ষণের অভিযোগে শ্রীশান্তকে গ্রেপ্তারের দাবিতে বুয়েটের আহসানুল্লাহ হলে বিক্ষোভ করে শিক্ষার্থীরা। পরবর্তীতে পুলিশ এসে ক্যাম্পাসে অবস্থান নিলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।