শিক্ষক-কর্মচারী আন্দোলন
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৯ অক্টোবর ২০২৫ ১০:০৬ এএম
মূল বেতনের ২০ শতাংশ বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ভাতা দেড় হাজার টাকা এবং কর্মচারীদের উৎসব ভাতা ৭৫ শতাংশ করার দাবিতে এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের আন্দোলন অতিবাহিত করল এক সপ্তাহ। দাবি আদায়ে অনড় শিক্ষক-কর্মচারীরা টানা সাত দিন ধরে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থান করছেন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি, অনশন ও কর্মবিরতি পালনের পাশাপাশি প্রতিদিন নানা কর্মসূচি পালন করছেন। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল শনিবার তারা কালো পতাকা মিছিল ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেন। নতুন কর্মসূচি হিসেবে আজ শহীদ মিনার থেকে শিক্ষা ভবন অভিমুখে ‘ভুখা মিছিল’ করবেন তারা।
গতকাল সন্ধ্যায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে প্রতিদিনের বাংলাদেশকে এ ঘোষণার কথা জানান এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণপ্রত্যাশী জোটের সদস্য সচিব অধ্যক্ষ দেলাওয়ার হোসেন আজিজী। তিনি বলেন, ‘আমাদের পূর্বপরিকল্পনা অনুসারে আগামীকাল (রবিবার) যমুনা অভিমুখে লংমার্চ করার কথা ছিল। আমরা এ কর্মসূচি আপাতত বাতিল করে ‘ভুখা মিছিল’ করার নতুন কর্মসূচি হাতে নিয়েছি। কাল (রবিবার) দুপুর ১২টায় শহীদ মিনার থেকে থালা-বাটি হাতে শিক্ষা ভবন অভিমুখে এই ভুখা মিছিল করব। এর পাশাপাশি দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত চলমান কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি চলবে।’
এদিকে শিক্ষকদের আন্দোলনে নীতিগতভাবে সমর্থন জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। একই সঙ্গে দলটি ক্ষমতায় গেলে রাষ্ট্রের আর্থিক অনুকূলতা সাপেক্ষে পর্যায়ক্রমে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের বিষয়ে ইতিবাচক বিবেচনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। গতকাল বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. তাইফুল ইসলাম টিপু স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে দলের এই অবস্থানের কথা জানানো হয়।
বিবৃতিতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উদ্ধৃতি দিয়ে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম জানান, দেশের একটি দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি শিক্ষকদের ন্যায্য দাবির সঙ্গে নীতিগতভাবে একমত। শিক্ষকদের জন্য তাদের অঙ্গীকার হলো- মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় চাকরির নিরাপত্তা, সর্বোচ্চ সামাজিক মর্যাদা এবং তাদের অবদানের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি নিশ্চিত করা।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, জনগণের ভোটে বিএনপি যদি পুনরায় রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পায়, তবে রাষ্ট্রের আর্থিক অনুকূলতা বিবেচনা করে শিক্ষকদের আর্থিক নিরাপত্তা বৃদ্ধি, চাকরির স্থায়ীকরণ এবং সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে পর্যায়ক্রমে জাতীয়করণের বিষয়ে ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করা হবে।
কালো পতাকা হাতে বিক্ষোভ মিছিল
এদিকে গতকাল দুপুরে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা কালো পতাকা মিছিল ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন। দুপুর ১২টার দিকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে কালো পতাকা মিছিল নিয়ে দোয়েল চত্বর হয়ে কদম ফোয়ারা চত্বরে শিক্ষক-কর্মচারীরা বিক্ষোভ সমাবেশ করেন। এতে হাজারের বেশি শিক্ষক-কর্মচারী অংশ নেন। এ সময় তাদের আন্দোলনে সংহতি প্রকাশ করেন গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান। বিক্ষোভ সমাবেশে দেলাওয়ার হোসেন আজিজী বলেন, ‘সরকারকে বেকায়দায় ফেলার কোনো চিন্তা আমাদের নেই। শিক্ষকরা মৃত্যুর শপথ নিয়ে শহীদ মিনারে এসেছেন। কোনো টালবাহানা চলবে না।’ শিক্ষক-কর্মচারীরা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, শহীদ মিনারে অনশনের পাশাপাশি দাবি আদায় না হলে তারা আমরণ অনশন কর্মসূচিতে যাবেন।
অপরদিকে, শিক্ষক-কর্মচারীদের দীর্ঘ আন্দোলনের পরও তাদের দাবি মেনে নিয়ে প্রজ্ঞাপন না হওয়ার পেছনে চারজন জড়িত বলে উল্লেখ করেছেন অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেন আজিজী। তার ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া পোস্টে জড়িতদের নাম প্রকাশ করে তিনি লেখেন, ‘২০% বাড়ি ভাড়ার প্রজ্ঞাপন আটকে দিয়েছে সেলিম, জাকির, বাহাউদ্দীন ও মোমতাজিরা। আমাদের ন্যায্য অধিকারের বিপক্ষে যারা অবস্থান নিয়েছে সময় এসেছে এদের বর্জন করার।’
তিনি আরও লিখেছেন, ‘সবাই কালো পতাকা নিয়ে আসুন। ১২টার সময় কালো পতাকা মিছিলের মাধ্যমে শিক্ষকদের প্রতি রাষ্ট্রের অবহেলার প্রতিবাদ জানানো হবে। সবাই চলে আসুন।’
প্রসঙ্গত, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা মূল বেতনের ২০ শতাংশ বাড়িভাড়া, এক হাজার ৫০০ টাকা মেডিকেল ভাতা ও কর্মচারীদের উৎসব ভাতা ৭৫ শতাংশ করার দাবিতে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আন্দোলন শুরু করেন গত ১২ অক্টোবর। পরে পুলিশি নির্যাতনের পর লাগাতার কর্মসূচি শুরু করেন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। একই সঙ্গে সারা দেশের প্রায় ৩০ হাজার এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মবিরতি পালন শুরু করেন তারা।