প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৭ অক্টোবর ২০২৫ ১৯:৩৩ পিএম
দাবি আদায়ে নতুন কর্মসূচি হিসেবে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অনশন শুরু করেছেন সারাদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারিরা। শিক্ষা উপদেষ্টার ‘অসৌজন্যমূলক আচরণ’র প্রতিবাদ ও দ্রুত বাড়িভাড়া, মেডিকেল ভাতা ও উৎসব ভাতা বৃদ্ধির প্রজ্ঞাপন জারির দাবিতে শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) জুমার নামাজের পর তারা অনশন শুরু করেন তারা।
অনশন কর্মসূচি থেকে জানানো হয় আগামী রবিবার (১৯ অক্টোবর) যমুনা অভিমুখে লংমার্চ করার পরিকল্পনার কথা। এ জন্য আন্দোলনরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সারা দেশের শিক্ষকদের এ কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার আহ্বানও জানানো হয়।
এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোটের সদস্যসচিব অধ্যক্ষ দেলাওয়ার হোসেন আজিজী বলেন, ‘আজ (শুক্রবার) আমাদের পরিকল্পনা ছিল অনশন করার, তা আমরা শুরু করেছি। আমরা টিএসসিতে সমাবেশ করেছি। আগামী রবিবার লংমার্চের চিন্তা রয়েছে।’
এর আগে, শুক্রবার সকাল থেকেই কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জড়ো হন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা শিক্ষক ও কর্মচারিরা। বেলা ১১টা ৩৫ মিনিট থেকে দুপুর ১২টা ২০ মিনিট পর্যন্ত হাজারখানেক শিক্ষক-কর্মচারি শহীদ মিনারে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেন। শহীদ মিনার থেকে শিববাড়ি মোড় ঘুরে তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে যান। সেখানে বেলা ১১টা ৫৫ থেকে ১২টা ১০ মিনিট পর্যন্ত সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন। পরে মিছিলটি পুনরায় শহীদ মিনারে ফিরে আসে।
আর জুমার নামাজের পর থেকে শহীদ মিনারের পাদদেশে অনশন শুরু করেন তারা। জুমার পর বৃষ্টির মধ্যেই তারা শহীদ মিনারে অবস্থান নেন। এই প্রতিবেদন তৈরির সময়ও তারা অনশনে ছিলেন।
এসময় এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোটের সদস্যসচিব অধ্যক্ষ দেলাওয়ার হোসেন আজিজী বলেন, বিপন্ন, হতাশাগ্রস্ত শিক্ষকরা শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করছে। এটাকে দুর্বলতা ভেবে ভুল করবেন না। ছয় লাখ শিক্ষক-কর্মচারি একত্রিত হলে ঢাকাকে অচল করে দেওয়া হবে।
তিনি জানান, প্রাথমিক শিক্ষকদের চার লাখ সদস্য তাদের আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেছেন। এছাড়া ডাকসুর ভিপিসহ অসংখ্য মানুষ এই আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়েছেন। আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদুল্লাহ হলের নির্বাচিত ভিপির সঙ্গে ফিলিস্তিনের পতাকা হাতে প্রতিজ্ঞা করেছি, ন্যায্য দাবি আদায় না করে শহীদ মিনার ত্যাগ করব না।
দেলোয়ার হোসেন আজিজী বলেন, সরকার আমাদের সঙ্গে প্রহসন করছে, তামাশা করেছে। আমাদের দাবিগুলো মন্ত্রণালয় ডিসাইডেড। কিন্তু এখন তারা তিনটি দাবির একটির চার ভাগের এক ভাগ মানতে চাইছেন। অন্য দুটি দাবি নিয়ে কথাই বলছে না। বৃহস্পতিবার মন্ত্রণালয়ে কথা বলে এসে আমি শিক্ষকদের জিজ্ঞাসা করেছি, তারা এই প্রস্তাবে সন্তুষ্ট কিনা, তারা সরকারের সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করেছেন।