× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

এইচএসসি ও সমমান

ফল বিপর্যয়ের নেপথ্যে

হাসনাত শাহীন

প্রকাশ : ১৭ অক্টোবর ২০২৫ ১২:৩৯ পিএম

আপডেট : ১৭ অক্টোবর ২০২৫ ১২:৩৯ পিএম

ফল বিপর্যয়ের নেপথ্যে

প্রতি বছরের মতো এবারও এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার পর থেকেই ফলের অপেক্ষায় ছিল শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টরা। গতকাল বৃহস্পতিবার ফল প্রকাশের মাধ্যমে সেই অপেক্ষার অবসান ঘটে। ফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বিগত দুই দশকের মধ্যে এবারের ফল সবচেয়ে খারাপ; বলা যায় ফল বিপর্যয় হয়েছে। কমেছে জিপিএ-৫-এর সংখ্যা ও পাসের হার। তথ্য বলছে, এবার ৯টি সাধারণ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার ৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ। এর চেয়ে কম পাসের হার ছিল ২০০৪ সালে। ওই বছর পাস করেছিল ৪৭ দশমিক ৭৪ শতাংশ শিক্ষার্থী। গতকাল দুপুরে রাজধানীর ঢাকা শিক্ষা বোর্ড কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে ফলাফল তুলে ধরেন আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. খন্দকার এহসানুল কবির।

মূলত তিনটি কারণে এবার কমেছে পাসের হার ও জিপিএ-৫। প্রথমত. এবারের এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা রাজনৈতিক অস্থিরতাসহ নানা কারণে ক্লাস করার সুযোগ পেয়েছে কম। দ্বিতীয়ত. ইংরেজি, হিসাববিজ্ঞান ও আইসিটিতে পাসের হার কম। তৃতীয়ত. উত্তরপত্র মূল্যায়নে ‘কড়াকড়ি’ ও গ্রাম-শহরের ফলেও ব্যাপক তারতম্য। অন্যদিকে শিক্ষাসংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারের শিক্ষার গুণগত মানে নজর না দেওয়া, বিগত সরকারের ভুলনীতি, দক্ষ শিক্ষকের অভাব, জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে শিক্ষার্থীরা নিয়মিত ক্লাসে অনুপস্থিত, ইংরেজি ও বিজ্ঞান বিভাগে যোগ্য শিক্ষকের অভাব, রাজনৈতিক বিবেচনায় শিক্ষা বোর্ড ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অযোগ্য লোক বসানোসহ নানা কারণের কথা।

গতকাল সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, আমরা এমন এক সংস্কৃতি গড়ে তুলেছি, যেখানে সংখ্যাই সত্য হয়ে উঠেছিল- পাসের হারই সাফল্যের প্রতীক, জিপিএ-৫-এর সংখ্যা ছিল তৃপ্তির মানদণ্ড। ভালো ফল দেখাতে গিয়ে অজান্তেই শিক্ষার প্রকৃত সংকট আড়াল করেছি। আজ সেই সংস্কৃতির পরিবর্তন চাই।

অধ্যাপক খন্দকার এহসানুল কবির বলেন, এই যে প্রায় অর্ধেক শিক্ষার্থী পাস করল না, এটা তো কাঙ্ক্ষিত নয়। এই বিষয়টিতে আমরা একটা আয়নার সামনে দাঁড়িয়েছি। তাতে আমরা দেখতে পাচ্ছি, গলদ আছে। সেই গলদের জায়গাগুলো ঠিক করতে হবে। সেই দায়িত্ব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের, সেই দায়িত্ব বোর্ডের, সেই দায়িত্ব সবার।

এইচএসসির ফল বিপর্যয়ের বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. মো. নুরে আলম সিদ্দিকী বলেন, যে ফলাফল হলো সেটাকে আমি বিপর্যয় বলব না। বরং এটাই বাস্তবতা এবং এমনই হওয়ার কথা ছিল। তিনি বলেন, বিগত সময়ে বারবার কারিকুলাম পরিবর্তনের প্রভাব শিক্ষাব্যবস্থায় পড়েছে। যার ফলে পাসের হার বাড়ানোর একটা প্রবণতা ছিল। এখন সেটা না থাকায় শিক্ষাব্যবস্থার আসল রূপ ফুটে উঠেছে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান বলেন, বিগত সরকারের আমলে শিক্ষাব্যবস্থাকে গুণগত মানের থেকে পরিমাণগত মানে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়েছিল। তাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল বেশি বেশি পাস করানো। 

এদিকে বরিশাল বোর্ডের চেয়ারম্যান ইউনুস আলী সিদ্দিকী, কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. শামছুল ইসলাম এবং সিলেট বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন জানান, সব পাবলিক পরীক্ষা নকলমুক্ত পরিবেশে নিতে এবং খাতা সঠিকভাবে মূল্যায়নের নির্দেশনা দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। সে কারণে পাসের হার একটু কমেছে।

২১ বছর পর এমন বিপর্যয়

দুই দশকের মধ্যে এবার এইচএসসিতে সবচেয়ে কম পাসের হার রেকর্ড হয়েছে। ২০০৫ সালের পর থেকে প্রায় প্রতি বছরই পাসের হার বেড়েছে বা সামান্য কমবেশি হয়েছে। কিন্তু এবার তাতে বড় ধাক্কা এসেছে। শুধু পাসের হার নয়, জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও কমেছে। 

তথ্য বলছে, এইচএসসিতে মোট ছেলে পরীক্ষার্থী ছিল ৬ লাখ ১১ হাজার ৪৪৬ জন। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৩ লাখ ৩৩ হাজার ৮৬৪ জন। আর মেয়ে পরীক্ষার্থী ছিল ৬ লাখ ২৪ হাজার ২১৫ জন। উত্তীর্ণ হয়েছে ৩ লাখ ৯৩ হাজার ৯৬ জন। সব মিলিয়ে এবার ফেল করেছে ৫ লাখ ৮ হাজার ৭০১ জন শিক্ষার্থী। এবার জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬৯ হাজার ৯৭ শিক্ষার্থী। জিপিএ-৫ পাওয়াদের মধ্যে ছাত্রী ৩৭ হাজার ৪৪ এবং ছাত্র ৩২ হাজার ৫৩ জন। গত বছর জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১ লাখ ৪৫ হাজার ৯১১ শিক্ষার্থী।

এবার ১১টি শিক্ষা বোর্ডের মধ্যে সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর মধ্যে ঢাকা বোর্ডে পাসের হার ৬৪ দশমিক ৬২ শতাংশ, রাজশাহী বোর্ডে ৫৯ দশমিক ৪০, কুমিল্লা বোর্ডে ৪৮ দশমিক ৮৬, যশোর বোর্ডে ৫০ দশমিক ২০, চট্টগ্রাম বোর্ডে ৫২ দশমিক ৫৭, বরিশাল বোর্ডে ৬২ দশমিক ৫৭, সিলেট বোর্ডে ৫১ দশমিক ৮৬, দিনাজপুর বোর্ডে ৫৭ দশমিক ৪৯ শতাংশ এবং ময়মনসিংহ বোর্ডে পাসের হার ৫১ দশমিক ৫৪ শতাংশ। মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের আলিম পরীক্ষায় ৭৫ দশমিক ৬১ শতাংশ। আর কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পাসের হার ৬২ দশমিক ৬৭ শতাংশ।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা