ঢাবি প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৬ অক্টোবর ২০২৫ ১৯:৪০ পিএম
দেশের পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের সংগঠন ইউনিভার্সিটি টিচার্স লিংক (ইউটিএল) -এর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আপ্টারের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ও আহবায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) বিকাল ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের টিয়ার্স ক্লাবে ২৬ সদস্য বিশিষ্ট আহবায়ক কমিটির ঘোষণা করেন ইউটিএল’র কেন্দ্রীয় আহবায়ক ও ঢাবির ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. আতাউর রহমান বিশ্বাস।
কমিটিতে ঢাবির আরবি বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. জোবায়ের মুহাম্মদ এহসানুল হককে আহবায়ক ও গণিত বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মোতালেব হোসেনকে সদস্য সচিব ঘোষণা করা হয়। এছাড়া যুগ্ম আহবায়ক হিসেবে প্রফেসর ড. আ খ ম ইউনুস ও প্রফেসর ড. এইচ এম মোশাররফ হোসেনের নাম ঘোষণা করা হয়। এছাড়া যুগ্ম সদস্য-সচিব হিসেবে প্রফেসর ড. মো. আবু সায়েম, প্রফেসর ড. মো. মিজানুর রহমান ও মুহাম্মদ ওমর ফারুক এবং ট্রেজারার হিসেবে প্রফেসর ড. মুহাম্মদ জহিরুল ইসলামের নাম ঘোষণা করা হয়।
এ সময় লিখিত বক্তব্যে ইউটিএল’র কেন্দ্রীয় আহবায়ক অধ্যাপক মো. আতাউর রহমান বিশ্বাস বলেন, জান, আত্মমর্যাদা, বিশ্বাস ও স্বাধীনতা- এই চার মূলনীতিকে ধারণ করে ২০১৪ সালের জুলাই মাসে ইউটিএল আত্মপ্রকাশ করে। বাংলাদেশের ইতিহাসে অভূতপূর্ব এক ছাত্র-জনতার বিপ্লব সংঘটিত হয়, যা জাতীয় চেতনা ও মননকে নতুনভাবে জাগিয়ে তুলেছে। রাজনৈতিক সংস্কৃতি, মূল্যবোধ ও দৃষ্টিভঙ্গিতে যে পরিবর্তনের ধারা সূচিত হয়েছে, ইউটিএল সেই ধারার আলোকে শিক্ষা অঙ্গনে একটি ইতিবাচক রূপান্তর আনতে চায়। শিক্ষকদের মর্যাদা রক্ষা, অ্যাকাডেমিক সততা, নিরাপদ ও মুক্ত ক্যাম্পাস, গবেষণায় উৎকর্ষতা এবং জাতীয় উন্নয়নে গঠনমূলক সম্পৃক্ততা ইউটিএল’র মূল লক্ষ্য। আমাদের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো- রাজনৈতিক আনুগত্যের সংস্কৃতি মুক্ত থেকে শিক্ষা, গবেষণা, আত্মমর্যাদা, চিন্তার স্বাধীনতা ও জাতীয় দায়িত্ববোধ জাগিয়ে তোলা।
ইউটিএল’র ঢাবির নবগঠিত কমিটির আহবায়ক অধ্যাপক ড. জোবায়ের মোহাম্মদ এহসানুল হক বলেন, শতবর্ষী এই বিশ্ববিদ্যালয় অনেক প্রত্যাশা নিয়ে পথচলা শুরু করলেও বিগত দিনগুলোতে প্রশাসনের ব্যাপক দুর্নীতি, দায়িত্বহীনতা ও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের ফলে ঢাবি তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের বিভিন্ন সংগঠন থাকলেও এর বেশিরভাগই রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত নয়। শিক্ষকদের বিভিন্ন দাবি আদায়ের লক্ষ্যে শিক্ষক সমিতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করার কথা থাকলেও রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে শিক্ষক সংগঠনগুলো তাদের রাজনৈতিক আদর্শ ও আধিপত্য বিস্তার করতে গিয়ে সাধারণ শিক্ষকদের যৌক্তিক দাবি আদায়ে ব্যর্থ হয়েছে। তাই ২৪’র অভ্যুত্থান উত্তর নতুন বংলাদেশে প্রয়োজন হয়েছে এমন একটি শিক্ষক সংগঠনের যারা বিশ্বাস করেন যে, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকরা জাতির উচ্চতর আকাঙ্ক্ষা পূরণে পথপ্রদর্শক এবং সমাজকে ন্যায়, নৈতিকতা ও জানের পথে নিয়ে যেতে পারে।
এ সময় ইউটিএল’র সদস্য সচিব অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বিলাল হোসাইন বলেন, জুলাই বিপ্লব পরবর্তী বাংলাদেশে নৈতিক ও আদর্শিক রূপান্তরের সময় চলছে। এই প্রেক্ষাপটে শিক্ষকদের নীরব পর্যবেক্ষকের ভূমিকা থেকে বেরিয়ে এসে জাতির দিকনির্দেশক ও জনমত নির্মাতা হিসেবে কাজ করা প্রয়োজন। সেই লক্ষ্যেই ইউটিএল একটি সক্রিয়, পেশাদার ও সক্ষম শিক্ষক সংগঠন হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলছে। যা গত ২৬ জুলাই ইউটিএল’র আত্মপ্রকাশ পরবর্তী সময়ে নানা কার্যক্রমের দ্বারা পরিলক্ষিত হয়েছে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন- ইউটিএল’র কেন্দ্রীয় নেতারা, ঢাবির বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক ও বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা।