× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

জগন্নাথ হল ট্র্যাজেডির চার দশক, ঢাবিতে শোক দিবস পালন

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক

প্রকাশ : ১৫ অক্টোবর ২০২৫ ১৬:৩২ পিএম

আপডেট : ১৫ অক্টোবর ২০২৫ ১৬:৩৫ পিএম

জগন্নাথ হল ট্র্যাজেডির চার দশক, ঢাবিতে শোক দিবস পালন

জগন্নাথ হল ট্র্যাজেডির ৪০ বছর উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যে দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) শোক দিবস পালিত হয়েছে। বুধবার (১৫ অক্টোবর) দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে দিনটি পালন করা হয়। 

১৯৮৫ সালের এই দিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের তৎকালীন অনুদ্বৈপায়ন ভবনের টেলিভিশন কক্ষের ছাদ ধসে ২৬ জন ছাত্র, ১৪ জন অতিথি ও কর্মচারীসহ মোট ৪০ জন নিহত হন এবং অসংখ্য শিক্ষার্থী ও অতিথি আহত হন। 

বুধবার সকাল সাড়ে ৭টায় উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খানের নেতৃত্বে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ জগন্নাথ হল স্মৃতিসৌধে পুস্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর, সকাল ৮টায় জগন্নাথ হল অক্টোবর স্মৃতি ভবনস্থ টিভি কক্ষে উপাচার্যের সভাপতিত্বে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। 

আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশা, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, প্রক্টর সাইফুদ্দীন আহমেদ, জগন্নাথ হল প্রাধ্যক্ষ দেবাশীষ পাল ও অন্যান্য প্রাক্তন প্রাধ্যক্ষবৃন্দ। এছাড়াও, আরও উপস্থিত ছিলেন ডাকসু ভিপি আবু সাদিক কায়েম, জিএস এস এম ফরহাদসহ ডাকসু ও হল সংসদের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। পাশাপাশি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ঢাবি শাখার সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস ও সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন প্রমুখ। 

সভাপতির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান নিহতদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বলেন, তারা সবসময় আমাদের সাথে আছেন এবং থাকবেন। ১৯৮৫ সালের ১৫ অক্টোবরের ওই ঘটনা জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সারা বাংলাদেশের মানুষকে একীভূত করেছিল। আমরা বিশ্বাস করি সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে যেই ভ্রাতৃত্ব গড়ে উঠেছিলো তার নির্যাস এখনো আছে, সেজন্য আজকে আমরা একসাথে হতে পেরেছি। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কার নিয়ে তিনি বলেন, শুধুমাত্র সরকারি টাকার উপর নির্ভর করে আমরা এই বিশ্ববিদ্যালয়কে পূর্ণাঙ্গ রূপে সংস্কার করতে পারব না। বিশ্ববিদ্যালয়কে সংস্কার করতে আমি আপনাদেরকে, পুরো বাংলাদেশের মানুষকে পাশে চাই। এবার আমাদের সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচিত ডাকসু ও হল সংসদের প্রতিনিধিরাও আছেন। 

উপাচার্য আরও বলেন, আমি জানি আপনারা আমার পাশে আছেন। সেই হিসেবে আমি এক কদম করে ধীরে ধীরে এগোচ্ছি। এই হলটিকে (জগন্নাথ হল) আমরা আলাদা করে মর্যাদা দিই। আমরা আশা করি স্বচ্ছতার সাথে আমরা ধীরে ধীরে সফলতার দিকে এগিয়ে যাবো। 

প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশা বলেন, আমাদের প্রত্যেককে স্ব স্ব হলের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিকট তুলে ধরতে হবে। কয়েকটি হলে ইতোমধ্যে এ কাজগুলো চালু হয়েছে এবং সে অনুযায়ী আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি, তবে তা পর্যাপ্ত নয়। একটু সময় লাগলেও আমরা আশাবাদী অতিদ্রুত সব জায়গায় সংস্কারের ছোঁয়া নিয়ে আসতে পারব। 

কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, আর্থিক স্বাধীনতা না থাকায় আমরা অনেক কিছু চাইলেও পারি না। সরকারের কাছ থেকে আমরা যথোপযুক্ত বাজেট পাই না। আমরা নিজেরাও ভয়ে থাকি, কখন কোন হলে বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটে যায়। এ ধরনের দুর্ঘটনা যেনো ভবিষ্যতে না ঘটে সেজন্য আমাদের সবাইকে এক হয়ে রাষ্ট্রকে বুঝাতে হবে।

আলোচনা সভায় জগন্নাথ হল প্রাধ্যক্ষ দেবাশীষ পাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, অক্টোবর ট্র্যাজেডির মতো যেনো আর কোনো ঘটনা না ঘটে, এজন্য অতিদ্রুত বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল, ভবন ও রাস্তাঘাট সংস্কার করতে হবে। 

ডাকসুর ভিপি আবু সাদিক কায়েম নিহতদের স্মরণ করে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার জন্য এসে কোনো শিক্ষার্থী মারা যায়, এর থেকে বড় কষ্টের বিষয় আর হতে পারে না। ১৯৮৫ সালের ১৫ অক্টোবরের সেই ট্র্যাজেডি থেকে আমাদের শিক্ষা নিতে হবে। বিভিন্ন হলের শিক্ষার্থীরা এখনও আতঙ্কে আছে, এখনই যদি আমরা উপযুক্ত ব্যবস্থা না নিই তাহলে এর থেকে বড় ঘটনাও হতে পারে। এখনই সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো সংস্কার করা। 

জিএস এসএম ফরহাদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অব্যবস্থাপনা ও তদারকির অভাবে এতো শিক্ষার্থী একটি দুর্ঘটনার শিকার হয়ে নিহত হয়েছেন। আমরা অনেকগুলো ভালো প্রাণকে হারিয়েছি, যাদেরকে বাবা-মায়েরা অনেক আশা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠিয়েছিল। দুঃখের বিষয় আমরা এখনও দেখতে পাই, সাম্প্রতিক সময়েও বিভিন্ন হলের পলেস্তারা খসে পড়ার মতো ঘটনা ঘটেছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উচিত বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেট হলের আবাসন ব্যবস্থায় সঠিকভাবে ব্যবহার করা, যেনো আর কোনো প্রাণ না ঝরতে হয়।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা