প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৩ অক্টোবর ২০২৫ ১১:১৪ এএম
বাড়িভাড়া, মেডিকেল ও উৎসব ভাতা বৃদ্ধি করে প্রজ্ঞাপন জারির দাবিতে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা রবিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান নিলে পুলিশি অ্যাকশনে সমাবেশ পণ্ড হয়। শিক্ষকদের অনেকে এ সময় পুলিশের হাতে হেনস্তার শিকার হন। -প্রবা ফটো
মূল বেতনের ২০ শতাংশ বাড়িভাড়াসহ বিভিন্ন ভাতা বাড়ানোর দাবিতে আন্দোলনরত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের ওপর পুলিশের হামলা, সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ ও আটকের প্রতিবাদে লাগাতার কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছেন এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোট। আজ সোমবার থেকেই লাগাতার কর্মবিরতি পালন করবে বলে জানিয়েছে সংগঠনটির নেতারা।
গতকাল রবিবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থান কর্মসূচি থেকে এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোটের সদস্য সচিব অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেন আজিজী এ ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, আমাদের শান্তিপূর্ণ সমাবেশে পুলিশ হামলা করেছে। এর প্রতিবাদে সোমবার (আজ) থেকে সারা বাংলাদেশের ত্রিশ হাজার এমপিওভুক্ত স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়া পর্যন্ত লাগাতার কর্মবিরতি চলবে। আমরা পুলিশি হামলার প্রতিবাদে কর্মবিরতি এক দিন এগিয়ে নিয়ে এসেছি।
এদিকে, শিক্ষকদের ওপর পুলিশি হামলার পর শহীদ মিনারে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দেখা করে একাত্মতা পোষণ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির শীর্ষ নেতারা। সেখানে এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, রাস্তায় শিক্ষকদের যেভাবে পেটানো হয়েছে এটি কোনো সভ্য রাষ্ট্রীয় চরিত্র হতে পারে না। অনতিবিলম্বে এই হীন কাজের জন্য সরকারকে ক্ষমা চাইতে হবে। এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা দেশে চতুর্থ শ্রেণির নাগরিকের মতো বসবাস করেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের দাবির প্রতি এনসিপির সমর্থন জানিয়ে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, শিক্ষকরা যাতে দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত শহীদ মিনার ছেড়ে না যান। এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও সদস্য সচিব আখতার হোসেন শিক্ষকদের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন এবং দাবি আদায়ে সার্বিক সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।
এর আগে গতকাল রবিবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোটের ব্যানারে কয়েক হাজার শিক্ষক ও কর্মচারী অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন। তাদের দাবি ছিলÑ মূল বেতনের ২০ শতাংশ বাড়িভাড়া ভাতা, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের চিকিৎসা ভাতা ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ৫০০ টাকা করা এবং এমপিওভুক্ত কর্মচারীদের উৎসব ভাতা মূল বেতনের ৫০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৭৫ শতাংশ করতে হবে। এ অবস্থান কর্মসূচি থেকে সোমবারের (আজ, ১৩ অক্টোবর) মধ্যে ২০ শতাংশ বাড়িভাড়া-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারির আল্টিমেটাম দেন শিক্ষকরা। এর মধ্যে প্রজ্ঞাপন জারি করা না হলে পরদিন মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) থেকে সারা দেশের সব বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্লাস বর্জন করার ঘোষণার আল্টিমেটাম দেন শিক্ষকরা।
দুপুর দেড়টায় তারা পুলিশের অনুরোধে প্রেস ক্লাবের সামনে থেকে সরে গিয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থান কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু শিক্ষক-কর্মচারীদের একটি অংশ প্রেস ক্লাবের সামনেই অবস্থান ধরে রাখেন। দুপুর ১টা ৫৫ মিনিটে পুলিশ জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সড়ক থেকে শিক্ষকদের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে চলে যেতে বলে। কিন্তু শিক্ষকদের একটা অংশ তা মানতে রাজি হয়নি। তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে ভুয়া ভুয়া বলতে থাকে। এক পর্যায়ে পুলিশ পর পর বেশ কিছু সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে ও লাঠিচার্জ করে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনের সড়ক থেকে শিক্ষকদের সরিয়ে দেয়। প্রেস ক্লাবের সামনে জলকামানও আনা হয়। এতে কয়েকজন শিক্ষক গুরুতর আহত হন। আহতদের মধ্যে তিনজন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। হাসাপাতাল সূত্র জানায়, আহত শিক্ষকদের মধ্যে মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম কাজলের মাথায় লাঠির আঘাত, গণপতি হাওলাদারের বাম পায়ে আঘাত ও মো. আক্কাস আলী ডান পায়ের ঊরুতে আঘাত লেগেছে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. ফারুক জানান, জাতীয় প্রেস ক্লাব থেকে আহত হয়ে তিনজন ঢাকা মেডিকেলে এসেছিল, তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
প্রসঙ্গত, গত ৩০ সেপ্টেম্বর এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বাড়িভাড়া ৫০০ টাকা বাড়িয়েছে সরকার। তবে গত ৫ অক্টোবর এই ঘোষণা প্রকাশ্যে এলে শিক্ষকরা তা প্রত্যাখ্যান করে আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন। এরপর গত ৬ অক্টোবর এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বাড়িভাড়া ভাতা অন্তত দুই হাজার বা তিন হাজার টাকা করার প্রস্তাব অর্থ বিভাগে পাঠায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়।