বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৮ অক্টোবর ২০২৫ ১৫:৫২ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) তীব্র শিক্ষক সংকট থাকলেও প্রশাসন এক বছরেরও বেশি সময় ধরে প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির পরেও শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারেনি। প্রশাসনিক দুর্বলতা ও নানা টালবাহানার কারণে নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পারেনি বলে জানিয়েছ প্রশাসন। যা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ২০২৪ সালের মার্চ ও জুন মাসে দুটি শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। এতে বিভিন্ন বিভাগে অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক, সহকারী অধ্যাপক এবং প্রভাষক পদে মোট ৬০টি শূন্য পদের কথা জানানো হয়। এর মধ্যে ৫১টি পদই ছিল প্রভাষক পদে। তবে, প্রকাশিত ৫১টি প্রভাষক পদের বিপরীতে গত ৭ই জুলাই মাত্র ১০টি পদে পুনঃনিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরুর তোড়জোড় শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
এই সময় উপাচার্য ও রেজিস্ট্রার দ্রুত বাকি পদগুলোতেও পুনঃনিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ এবং বাদ পড়া বিভাগগুলোতে শিক্ষক নিয়োগের কার্যক্রম শুরুর প্রতিশ্রুতি দিলেও তা কার্যকর হয়নি।
অভ্যন্তরীণ আপগ্রেডেশনের জন্য বৈষম্যমূলক নিয়োগের অভিযোগ
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তুলনামূলক কম শিক্ষক সংকট থাকা বিভাগগুলোতে তড়িঘড়ি করে ১০টি প্রভাষক পদে নিয়োগ কার্যক্রম শুরু করা হয় যার মূলে ছিল কয়েকটি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপকদের অধ্যাপক পদে উন্নীতকরণ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক জানিয়েছেন, অধ্যাপক পদে শূন্যপদে উন্মুক্ত নিয়োগ দিলে অভ্যন্তরীণ পদপ্রার্থীরা পিছিয়ে পড়তে পারেন এবং জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। তাই কৌশল হিসেবে, অধ্যাপক পদের বিপরীতে প্রকাশিত প্রভাষক পদে নিয়োগ সম্পন্ন করে সেই অধ্যাপক পদগুলোকে 'ব্লক' করে অভ্যন্তরীণ শিক্ষকদের আপগ্রেডেশন দেওয়া হবে।
পুনঃনিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত বিভাগগুলো হলো গণিত, সমাজবিজ্ঞান, পরিসংখ্যান, মার্কেটিং, কোস্টাল স্টাডিজ অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট, ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ এবং মৃত্তিকা ও পরিবেশ বিজ্ঞান। এর মধ্যে পরিসংখ্যান বিভাগ বাদে বাকি ৬টি বিভাগেই অধ্যাপক পদের বিপরীতে প্রভাষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়।
অন্যদিকে, সমাজকর্ম ও গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের মতো একাধিক বিভাগে শিক্ষক সংকট তীব্র আকার ধারণ করলেও নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে না। এই দুটি বিভাগে মাত্র ৩ জন করে শিক্ষক দিয়ে ৭টি ব্যাচের ক্লাস কার্যক্রম চলছে। এর ফলে একেকজন শিক্ষককে ৭/৮টি করে কোর্স পড়াতে হচ্ছে। নতুন ইউজিসি নীতিমালায় খণ্ডকালীন বা বাইরের কোর্স টিচার নিয়োগে নিষেধাজ্ঞা থাকায় চাপ আরও বেড়েছে।
সমাজকর্ম বিভাগের শিক্ষার্থী রিফাত জাহান বলেন, ‘মাত্র ৩জন শিক্ষক দিয়ে একটা ডিপার্টমেন্ট চলছে। এটা আমাদের জন্য খুবই দুর্ভোগের। শিক্ষকের এই তীব্র ঘাটতি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও শিক্ষাজীবনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।’
গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী শুভব্রত মন্ডল বলেন, ‘শিক্ষক সংকট থাকায় শিক্ষকরা অনেক সময় আমাদের দিকে পুরোপুরি মনোযোগ দিতে পারেন না। আমরা চাই, খুব দ্রুত এ বিষয়টি সমাধান করা হোক।’
সমাজকর্ম বিভাগের চেয়ারম্যান আবু জিহাদ বলেন, ‘মাত্র ৩জন শিক্ষক দিয়ে একটা ডিপার্টমেন্ট চলা কোনোভাবেই সম্ভব না। আমি নিজে বারবার উপাচার্যের সাথে কথা বলেছি দ্রুত শিক্ষক নিয়োগের কার্যক্রম শুরুর জন্য।’
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কলা ও মানবিক অনুষদের এক বিভাগের চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমাদের বিভাগে ৬জন শিক্ষক দিয়ে ৬টি ব্যাচ চালাতে গিয়ে শিক্ষকরা হিমশিম খাচ্ছেন। আমরা চাইবো বাকি বিভাগগুলো পুনঃবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে খুব দ্রুত নিয়োগ কার্যক্রম শুরু করুক।’
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মুহসিন উদ্দীন বলেন, ‘বাকি ডিপার্টমেন্টের শিক্ষক নিয়োগের পুনঃবিজ্ঞপ্তিতে কোনো বাধা নেই। তবে, ইউজিসি থেকে নিয়োগের অনাপত্তিপত্র ছাড় দেওয়ার পরেই আমরা কাজ শুরু করতে পারবো।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম পরিস্থিতি স্বীকার করে বলেন, ‘যে অর্থবছরে পদ ছাড় করা হয়েছে সে অর্থবছরে নিয়োগ না দিতে পারায় পদগুলো ইউজিসি ব্লক করে দিয়েছে। এখন পদগুলো ছাড় করানোর জন্য চিঠি দেব। পদ ছাড় হলে তারপর পুনরায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেয়া হবে। আশাকরি দ্রুত সময়ের মধ্যে অনুমোদন পাব এবং পরবর্তী কার্যক্রম শুরু করতে পারব।’