জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়
ইউছুব ওসমান, জবি
প্রকাশ : ০২ অক্টোবর ২০২৫ ১২:২৬ পিএম
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড চর্চার পরিবেশ সংকুচিত হয়ে আসছে। অদৃশ্য বেড়াজালে আবদ্ধ হয়ে পড়েছে সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো। জবি কর্তৃপক্ষ বাজেট বরাদ্দ না দেওয়ায় অনুষ্ঠান করা যাচ্ছে না।
জানা গেছে, একসময় প্রাণবন্ত সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের জন্য আলাদা পরিচিতি ছিল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি)। বিভিন্ন সংগঠন নিজেদের উদ্যোগে আয়োজন করত গান, নাটক, আবৃত্তিসহ সাহিত্যচর্চার বহুমাত্রিক অনুষ্ঠান। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এই পরিবেশ ধীরে ধীরে সংকুচিত হয়ে আসছে। অদৃশ্য এক 'নিয়ন্ত্রণের শেকলে' আবদ্ধ হয়ে পড়েছে জবির সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো। এর প্রধান সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে বাজেট। সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের জন্য বাজেট বরাদ্দ দিচ্ছে না জবি প্রশাসন। এতে সংগঠনগুলো চরম হতাশার মধ্যে পড়েছে। ফলে প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণের শেকলে বাঁধা পড়েছে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড।
জানা গেছে, জবির যেসব অনুষ্ঠান আগে বিভিন্ন সংগঠন আয়োজন করত, তা এখন একেবারেই সীমিত হয়ে গেছে। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাজেট না পাওয়ায় সংগঠনগুলো নিজেদের স্বকীয়তা হারাচ্ছে। তারা আর স্বাধীনভাবে প্রোগ্রাম করতে পারছে না। যেসব সংগঠন আগে নিয়মিত উৎসব বা শিল্পচর্চার অনুষ্ঠান করত, এখন তাদের কার্যক্রম সীমিত হয়ে গেছে। গত এক বছরে উল্লেখযোগ্য কোনো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করতে পারেনি সংগঠনগুলো।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটি শুধু সাংস্কৃতিক অঙ্গনের জন্য নয়, বরং বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক পরিবেশের জন্যও এক ধরনের ক্ষতি। শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, মেধা বিকাশ ও মানসিক প্রশান্তির অন্যতম উৎস ছিল এসব আয়োজন। কিন্তু নিয়ন্ত্রণ ও আর্থিক সংকটে সেই পথ আজ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ক্রিয়াশীল সংগঠনগুলোর কার্যক্রমও প্রায় বন্ধের পথে।
সংগঠন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয় বাজেট না দেওয়ায় সংগঠনগুলো বাইরের স্পন্সর খুঁজতে চাইলেও নানা জটিলতা পেরোতে হয়। জবি প্রশাসনের রেফারেন্স না থাকায় তারা বাইরে থেকেও স্পন্সর আনতে পারেন না। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার কারণে বাইরের সহযোগিতা গ্রহণও কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। ফলে সংগঠনগুলো কার্যত দ্বিমুখী সংকটে পড়েছে। একদিকে অর্থ নেই, অন্যদিকে স্বতন্ত্রভাবে কাজ করার সুযোগও নেই।
এদিকে আগে যেসব প্রোগ্রাম বিভিন্ন সংগঠন আয়োজন করত, এখন সেসব আয়োজন করছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এতে সংগঠনগুলোর কর্মকাণ্ডও বন্ধ হয়ে গেছে। গত এক বছরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে কয়েকটা প্রোগ্রাম হলেও
সেসবে ছিল না আগের মতো সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের ছোঁয়া। এই সময়ে তেমন কোনো সাংস্কৃতিক আয়োজনও করতে পারেনি সংগঠনগুলো। বাজেটের অভাবে চলে না এসব সংগঠনের নিয়মিত কার্যক্রমও।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, জবি কর্তৃপক্ষ সাংস্কৃতিক চর্চাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে না। শুধু একাডেমিক পড়াশোনা নয়, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডও ছাত্রজীবনকে সমৃদ্ধ করে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোভাব এমন দাঁড়িয়েছে যে, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান যেন এক প্রকার 'অপ্রয়োজনীয় বিলাসিতা'। কর্তৃপক্ষ যদি সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর প্রতি আস্থা দেখায় এবং তাদের হাতেই অনুষ্ঠান আয়োজনের দায়িত্ব ফিরিয়ে দেয়, তবে আবারও প্রাণ ফিরে পাবে জবির সাংস্কৃতিক অঙ্গন।
জানতে চাইলে জবির ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাসির উদ্দীন আহমেদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংস্কৃতিক চর্চার আরও সুযোগ করে দেওয়া উচিত। বিভিন্ন সংগঠনকে স্বাধীনভাবে প্রোগ্রাম আয়োজনের সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন। প্রশাসনের কাজ হবে প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়া বা অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা।
এ বিষয়ে উপাচার্যের রুটিন দায়িত্বে থাকা ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাশ ভবনে বর্তমানে ১৮টি সংগঠন সক্রিয় রয়েছে এবং এসব সংগঠনের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক বাজেট বরাদ্দ করা হয়। তাই বাজেট ব্যবহারের ক্ষেত্রে যথাযথ জাস্টিফিকেশন করতে হয় আমাদের। কোনো সংগঠনের আলাদাভাবে অনুষ্ঠান করার সুযোগ এই মুহূর্তে নেই। ৫ আগস্টের আগের প্রশাসন ও বর্তমান প্রশাসন একরকম নয়।