চাকসু নির্বাচন
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ২০:২৭ পিএম
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) নির্বাচনে শাখা ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘সম্প্রীতির শিক্ষার্থী জোট’ প্যানেলের দুই নারী প্রার্থী সাইবার বুলিং ও স্লাট-শেমিংয়ের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ এনেছেন।
রবিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুর দেড়টায় চাকসু নির্বাচন কমিশনের কার্যালয়ে প্রধান নির্বাচন কশিমনার অধ্যাপক ড. মনির উদ্দিনের কাছে এ নিয়ে লিখিত অভিযোগ দেন ওই দুই নারী প্রার্থী। তারা হলেন, চাকসু নির্বাচনে সহ-দপ্তর সম্পাদক জান্নাতুল আদন নুসরাত ও নির্বাহী সদস্য জান্নাতুল ফেরদাউস সানজিদা।এ সময় তাদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন শাখা শিবিরের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ পারভেজ ও অর্থ সম্পাদক মুজাহিদুল ইসলাম।
অভিযোগপত্রের সঙ্গে সংযুক্ত প্রমাণে দেখা যায়, শরিফ মোহাম্মদ নামের আইডি থেকে কমেন্ট করা হয়েছে, ‘এইদিকে আমি আপুর উপ্রে ক্রাশ খেয়ে বসে আছি।‘ মেহেদী হাসান শরিফ নামের আইডি থেকে কমেন্ট করা হয়েছে ‘ভিডিও সার্ভিস দিতাছে শুনলাম’; রোহান খান নামের আইডি থেকে কমেন্ট করা হয়েছে ‘শিবিরের প্রিয় দাসী’।
লিখিত অভিযোগপত্রে ভুক্তভোগীরা জানান, আসন্ন চাকসু নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বর্তমান সময়ে বিভিন্ন বট আইডি, ভুয়া ফেইসবুক পেইজ ও অ্যাকাউন্ট থেকে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীদেরকে লক্ষ্য করে নানাবিধ মানহানিকর কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। বিশেষত সাইবার বুলিং, স্লাটশেমিং, ট্যাগিং ও ভুয়া ফ্রেমিংয়ের মাধ্যমে হেয়প্রতিপন্ন করা হচ্ছে। এ ধরনের কার্যকলাপ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও মানসিক সুস্থতার জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এ বিষয়ে চাকসু নির্বাচন কমিশনের প্রধান নির্বাচন কশিমনার অধ্যাপক ড. মনির উদ্দিন বলেন, “আমাদের নিকট তারা লিখিত ও মৌখিক অভিযোগ জমা দিয়েছে।
এদিকে চাকসু নির্বাচনে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ (বাগছাস) আনুষ্ঠানিকভাবে প্যানেল ঘোষণা না করলেও স্বতন্ত্রভাবে সংগঠনটির ৯ জন নেতা নির্বাচনে বিভিন্ন পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। রবিবার বিকেল সাড়ে ৩টায় চাকসু ভবনের সামনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির প্রার্থীদের পরিচিতিপর্ব অনুষ্ঠিত হয়। এসব প্রার্থীদের পাশে থাকার পূর্ণ সমর্থন জ্ঞাপন করেছে সংগঠনটি।
শাখা বাগছাসের প্রার্থীদের মধ্যে যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন সুলতানুল আরেফিন (সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক), ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট ও আন্তর্জাতিক সম্পাদক পদে আশরাফ চৌধুরী (যুগ্ম-সদস্য সচিব), ছাত্রী কল্যাণ সম্পাদক পদে নওশীন তাবাচ্ছুম জুথি (সহ-মুখপাত্র), সহ-সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক পদে উলফাতুর রহমান রাকিব (যুগ্ম-আহ্বায়ক), সহ-যোগাযোগ ও আবাসন সম্পাদক পদে মো. নাঈম বিশ্বাস (সদস্য), সহ-খেলাধুলা ও ক্রীড়া সম্পাদক পদে মো. তাওসিফ ইয়াসার রুদ্র । এছাড়াও নির্বাহী সদস্য পদে লড়বেন তানভীর অন্তু (যুগ্ম-আহ্বায়ক), মো. ফয়সাল মিয়া (যুগ্ম-সদস্য সচিব) ও মো. ওসমান গনি (সদস্য)।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে শাখা বাগছাসের আহ্বায়ক মুনতাসির মামুন বলেন, “আসন্ন চাকসু নির্বাচনে বাগছাস চবি শাখার পক্ষ থেকে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক প্যানেল ঘোষণা করা হয়নি। তবে আমাদের সংগঠনের যে সকল নেতৃবৃন্দ প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন, সংগঠন তাদের পাশে থাকবে এবং পূর্ণ সমর্থন জ্ঞাপন করবে।”
এদিকে নির্বাচনে স্বতন্ত্র থেকে যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা শাখাওয়াত হোসেন শিপন যাতায়াত, আবাসন ও খাদ্য সংকট, গবেষণার মানোন্নয়ন এবং নিরাপদ ক্যাম্পাসহ ১৫টি ইশতেহার ঘোষণা করেন। রবিবার দুপুর আড়ায়টায় চাকসু ভবনের সামনে এসব ইশতেহার ঘোষণা করেন তিনি।
তার ইশতেহারের মূল দিকগুলো হলো, পরিবহন ও অভ্যন্তরীণ যাতায়াত; শাটল সমস্যা নিরসন; আবাসন সংকট নিরসন; খাদ্য সংকট সমাধান; প্রশাসনিক কার্যক্রম আধুনিকায়ন; লাইব্রেরি, রিডিং রুম ও ল্যাব আধুনিকায়ন; শিক্ষার মানোন্নয়ন ও গবেষণা বাজেট বৃদ্ধি; নিরাপদ ক্যাম্পাস নিশ্চিতকরণ; মেডিকেল সেন্টার সংস্কার ও আধুনিকায়ন। এছাড়া, চাকসু ও সমাবর্তনকে নিয়মিত ক্যালেন্ডারে অন্তর্ভুক্তকরণ; অবৈধ নিয়োগ বাণিজ্য বন্ধ; নারী শিক্ষার্থীদের কল্যাণ; খেলাধুলা ও বিনোদন; হলভিত্তিক সংগঠন প্রতিষ্ঠা ও শিক্ষার্থীদের অধিকার ও দাবি আদায়ে অবিচল অবস্থান।
সংবাদ সম্মেলন শেষে শাখাওয়াত হোসেন শিপন বলেন, “আমি চবি ছাত্রশিবিরের সম্পৃক্ত ছিলাম। গত জুলাই মাসে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক প্রয়োজনে সংগঠন থেকে অফিশিয়ালি নিয়মতান্ত্রিকভাবে বিদায় নিয়েছি। আমি শিবিরের বিদ্রোহী প্রার্থী নই।”