ঢাবি প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৮:১০ পিএম
প্রবা ফটো।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে থেকেও অনিয়মের অভিযোগ তোলা বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দলের দ্বিচারিতা বলে মন্তব্য করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সংগঠন ইউনিভার্সিটি টিচার্স লিংক (ইউটিএল)।
শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকালে ডাকসু ভবনের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ইউটিএল এ মন্তব্য করে।
লিখিত বক্তব্যে সংগঠনের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. আতাউর রহমান বিশ্বাস বলেন, ডাকসু নির্বাচন আমরা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছি। ব্যবস্থাপনার সামান্য ত্রুটি ছাড়া ভোটকে প্রভাবিত করতে পারে এমন কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতি ইউটিএলের নজরে আসেনি। অথচ নির্বাচনের দুই সপ্তাহ পর কিছু ছাত্র সংগঠন ও শিক্ষক সংগঠন নির্বাচনকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে। এটি ৪০ হাজার শিক্ষার্থীর স্বাধীন রায়কে অসম্মান এবং গণতান্ত্রিক অর্জনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা।
তিনি অভিযোগ করেন, জুলাই পরবর্তী সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাঠামোয় সাদা দলই নেতৃত্ব দিচ্ছে। বিভিন্ন অনুষদের ডিন ও ১৮টি হলের মধ্যে ১৬টির প্রভোস্ট সাদা দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত। এমনকি ডাকসু নির্বাচনের জন্য গঠিত কমিশনের ১০ জন সদস্যের মধ্যে ৮ জনই সাদা দলের প্রতিনিধিত্ব করেন। অথচ নির্বাচন পরিচালনার মূল দায়িত্বে থেকেও নিজেদের বিবৃতিতে অনিয়মের অভিযোগ তোলা দ্বিচারিতা ছাড়া আর কিছু নয়।
এ সময় ইউটিএলের পক্ষ থেকে কিছু প্রস্তাবনা পেশ করা হয়। প্রস্তাবনাগুলো হলো-
১. বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনকে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট বিষয়ের উত্থাপিত অযৌক্তিক প্রশ্নের সুরাহা করতে হবে। শিক্ষার্থীদেরকে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের পর কোনো ধরনের হ্যারেসমেন্ট কিংবা তাদের ম্যান্ডেট কেড়ে নেওয়ার মতো কর্মকান্ড বন্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে উদ্যোগ গ্রহণ করা।
২. ঢাবি সাদা দলের শিক্ষকরা প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণে পরিচালিত নির্বাচনকে সাদা দলের প্যাডে বিবৃতি দিয়ে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে, যা মোটেও কাম্য নয়। এ ধরনের বিবৃতি প্রত্যাহার করা।
৩. ২০২৫ সালের ডাকসু নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হওয়ায় ইতোমধ্যে দেশ-বিদেশে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে। এমন নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করে যেসব তৎপরতা পরিলক্ষিত হচ্ছে, সেগুলোর বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ করা।