ফরিদপুর সংবাদদাতা
প্রকাশ : ১৫ ডিসেম্বর ২০২২ ০৮:০১ এএম
আপডেট : ১৫ ডিসেম্বর ২০২২ ০৮:১৮ এএম
এসএসসি ও এইচএসসির মেধাবী শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সন। প্রবা ফটো
স্কুলের গভর্নিং বডির নির্বাচনে এমপি নির্বাচনের চেয়েও বেশি তোড়জোড় চলে উল্লেখ করে ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সন বলেন, বর্তমানে একটা স্কুলের প্রধান শিক্ষক নিয়োগে ২২ থেকে ২৩ লাখ টাকার দুর্নীতি হয়। আর শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতি হলে শিক্ষায় উন্নয়ন সম্ভব নয়।
ফরিদপুরের কবি জসীমউদ্দিন হলে জেলা পরিষদের উদ্যোগে এসএসসি ও এইচএসসির মেধাবী শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বুধবার (১৪ ডিসেম্বর) দুপুরে নিক্সন চৌধুরী একথা বলেন।
অনুষ্ঠানে এসএসসিতে কৃতকার্য ২২১ জন এবং এইচএচসিতে কৃতকার্য ১০০ শিক্ষার্থীকে জেলা পরিষদ মেধা বৃত্তি দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে শহীদ বুদ্ধিজীবী হত্যা দিবস উপলক্ষে নিহতদের স্মরণে এক মিনিট নিরবতা পালন ও তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করা হয়।
এতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে নিক্সন চৌধুরী বলেন, ‘২০১৪ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছি। তখন একটি স্কুলঘর তৈরির জন্য শিক্ষকরা, অভিভাবকরা বারবার ধরনা দিতেন। আজ প্রধানমন্ত্রী প্রত্যেকটি হাইস্কুলে, প্রত্যেকটি প্রাইমারি স্কুলে চারতলা ভবন করে দিয়েছেন। এজন্য এখন শিক্ষক বা অভিভাবকরা আর ভবনের জন্য আসেন না। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সব রকমের সহযোগিতা করা হচ্ছে। তবে আমরা যতোই চেষ্টা করি, যতোই কাজ করে যাই, যতোই ভবন বানাই না কেনো; যদি শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতি হয় তাহলে কোনভাবেই শিক্ষার উন্নতি হতে পারে না।’
তিনি আরও বলেন, 'আজ একটি স্কুলে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দিতে ২২ থেকে ২৩ লাখ টাকাও লেনদেন হয়। মাঝেমধ্যেই দেখি স্কুল কমিটি নিয়া লাখ লাখ টাকা খরচ করতেছে। গভর্নিং কমিটি নিয়ে রাজনীতি হচ্ছে। মনে হচ্ছে চেয়ারম্যান, উপজেলা চেয়ারম্যান, এমপি নির্বাচন নিয়েও এতো দৌড়াদৌড়ি হয় না যতো দৌড়াদৌড়ি গভর্নিং বডি নিয়ে হচ্ছে। আবার এটার পাশাপাশি দেখি নিয়োগ বাণিজ্য চলছে।' স্কুলের সভাপতি হওয়ার পেছনে অনেক লোভ লালসা থাকে। শিক্ষক নিয়োগ করে, পিয়ন নিয়োগ করে, স্কুলের জমিতে দোকান বানিয়ে প্লট বানিয়ে অনেক রকমের ব্যবসা তৈরি করে স্কুলটিকে ঘিরে।
'আমরা ভবন করবো, মাঠ করবো, সব করবো। কিন্তু শিক্ষক নিয়োগে যদি দুর্নীতি হয় সকল উন্নয়ন কিন্তু ব্যর্থ হবে। আমরা যতোই ভবন বানাই, যতোই মাঠ বানাই, আগে শিক্ষক দুর্নীতি বন্ধ করতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবি করবো, যাকে দিয়ে স্কুলের উন্নয়ন হবে, যে দুর্নীতি করতে পারবে না তাকে গভর্নিং বডির নিয়োগ দেন। এই বিষয়ে আরো দরদ দিয়ে যদি যোগ্য ব্যক্তিকে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয় তাহলে আগামীতে শিক্ষার উন্নয়ন হবে। সংসদ সদস্য হিসেবে আমি সংসদেও একথা বলবো,' বলেন নিক্সন চৌধুরী।
ফরিদপুর জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী মুজিবুর রহমানের সভাপতিত্বে এ সভায় আরও বক্তব্য দেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহাদাৎ হোসেন ও সরকারি সারদা সুন্দরী মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক কামরুজ্জামান চৌধুরী, মেধাবী শিক্ষার্থী তারানা জাহান সন্ধি ও সাদিয়া আফরিন এ্যনি। এ সময় সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক অসীম কুমার সাহা, ভাঙ্গা উপজেলা চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান, জেলা যুবলীগের যুগ্ন আহ্বায়ক শামীম তালুকদার, রুকসুর সাবেক ভিপি কাওসার আকন্দ সহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।