ড. আব্দুল হান্নান চৌধুরী
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৯:০১ পিএম
ছবি: নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুল হান্নান চৌধুরী।
অধ্যাপক ড. আব্দুল হান্নান চৌধুরী নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়টির ব্যবসায় প্রশাসন ও অর্থনীতি অনুষদের অধ্যাপক। গ্রামীণ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন। ইতঃপূর্বে তিনি ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির উপ-উপাচার্য ও প্রাইম এশিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করেছেন। সম্প্রতি শিক্ষা, কর্মসংস্থান, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের সম্ভাবনা নিয়ে তার সঙ্গে কথা বলেছেন প্রতিদিনের বাংলাদেশের নিজস্ব প্রতিবেদক ফারুক আহমাদ আরিফ। সাক্ষাৎকারের চুম্বক অংশটি পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো।
প্রশ্ন : গণঅভ্যুত্থানে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কী অবদান?
উত্তর : আদালতের নির্দেশে কোটা প্রথা ফিরে আসায় ২০২৪ সালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্লাটফর্মে এই আদেশ বাতিলের দাবিতে যে আন্দোলন দানা বাঁধে তাতে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে অনন্য ভূমিকা পালন করেছে নর্থসাউথ, ব্র্যাক, ইস্ট ওয়েস্টসহ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। মূলত ১৭ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর হল বন্ধ করে দিলে ১৮ জুলাই থেকে আন্দোলন বাস্তবায়ন করে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। তারা রাজপথ অবরোধ থেকে শুরু করে প্রতিটি স্তরে বিক্ষোভ প্রতিবাদ অব্যাহত রেখেছিল। এটি অবশ্যই বলা যায় আন্দোলনটি বিজয়ী হওয়ার নেপথ্যে দায়িত্ব পালন করেছে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
প্রশ্ন : গণঅভ্যুত্থানের পর শিক্ষা খাতে কী পরিবর্তন লক্ষ করছেন?
উত্তর : শিক্ষা খাতে যে ধরনের পরিবর্তন ও অগ্রগতি প্রত্যাশা করা হয়েছিল তা হয়নি। গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী বেশ কয়েকটি কমিশন গঠন হলেও শিক্ষা খাতে কোনো কমিশন গঠন হয়নি। অন্তর্বর্তী সরকার শিক্ষা খাতে তেমন কোনো গুণগত পরিবর্তন আনতে পারেনি।
প্রশ্ন : সরকার বদলালে পাঠ্যক্রমও বদলে যায়, এ ক্ষেত্রে করণীয় কী?
উত্তর : বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর থেকে কোনো সরকার গুণগত শিক্ষার দিকে লক্ষ রেখে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করতে পারেনি। শিক্ষাব্যবস্থাকে গতিশীল করতে হলে সমস্ত শিক্ষা কাঠামোকে ঢেলে সাজাতে হবে। আমার ৩৭ বছরের শিক্ষকতা জীবনে দেখেছি, প্রতি ৫ বছর পরপর সরকার পরিবর্তন হয়, তার সঙ্গে সঙ্গে কারিকুলামও পরিবর্তন হয়। সেটি কতটা আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মেলাতে পারছÑ সেই চিন্তা নেই। তাই আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা হতে হবে উন্নত বিশ্বের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার মতো।
প্রশ্ন : বিশ্ববিদ্যালয়গুলো একেক ধরনের সিলেবাস-কারিকুলাম অনুসরণ করে। এক্ষেত্রে সমন্বিতভাবে সিলেবাস-কারিকুলাম প্রয়োজন কি না?
উত্তর : উচ্চ শিক্ষাঙ্গনে নানা ধরনের সিলেবাস-কারিকুলাম থাকতে পারে। তবে ইউজিসির মাধ্যমে একটি সমন্বিত শিক্ষা কার্যক্রম রাখা উচিত। যেখানে শিক্ষার্থীদের মূল বিষয়ের সম্পর্কে জ্ঞান থাকে। তারা যেন মুক্তচিন্তা ও সৃজনশীলতার মাধ্যমে কাজ করতে পারে। সেই জ্ঞান অর্জনের সুযোগ থাকে, তেমন ধরনের কারিকুলাম দরকার।
প্রশ্ন : বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ২০১৫ সালে শিক্ষায় কর আরোপের প্রতিবাদে আন্দোলনের মাধ্যমে করমুক্ত হয়েছে। আন্দোলনটি নিয়ে আপনার মূল্যায়ন কী?
উত্তর : বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল ও ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজগুলোতে বড় আঘাত এসেছিল ২০১৫ সালে শিক্ষায় করারোপ করায়। তখন ছাত্ররা ‘নো ভ্যাট অন এডুকেশন’ আন্দোলনের মাধ্যমে করমুক্ত হয়েছে। ভ্যাট সবসময় যেকোনো প্রতিষ্ঠান দিয়ে থাকে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ও সবসময় তাদের নানা ধরনের খরচ ও আয়ের ওপর ভ্যাট দিয়ে আসছে। সরকার বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রচুর পরিমাণ ভ্যাট পায়। এরপরও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের টিউশন ফির মধ্য থেকে করারোপ করেছিল। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ ও মেডিকেলের ব্যবধান রয়েছে। সেখানে বেসরকারি মেডিকেলের শিক্ষাকে করমুক্ত করা হয়েছে, আবার বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে করারোপ করা হয়েছে। এই ব্যবধান হলে চলবে না। সবাই উচ্চ শিক্ষার সঙ্গে সম্পৃক্ত। আমি মনে করি যেকোনো শিক্ষায় করারোপ করার প্রয়োজন নেই।
প্রশ্ন : কী ধরনের শিক্ষাব্যবস্থা দরকার?
উত্তর : আমরা এমন পৃথিবীতে বাস করছি, যা প্রযুক্তিনির্ভর। শিক্ষার্থীদের এমন জ্ঞান দান করতে হবে, যাতে তারা আগামী দিনে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারে। এই লব্ধ জ্ঞান দিয়ে ক্যারিয়ার গঠন করতে পারে। বর্তমান বিশ্বে কোন কোন বিষয়ের ডিগ্রি ছাত্র ও তার পরিবারের এবং সামগ্রিক উন্নতির জন্য প্রয়োজন, সেটি ভাবতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ধীরে ধীরে উন্নতির দিকে যাচ্ছে। তারা নতুন কারিকুলাম, নতুন ও আধুনিক প্রযুক্তিভিত্তিক সাবজেক্ট খুলছে। এসব দিয়ে আগামী দিনে তরুণদের মেধাশক্তির বিকাশ ঘটবে। তারা নিজেদের জীবনের সফলতার দিকে পৌঁছাবে।