সিরাজগঞ্জ সংবাদদাতা
প্রকাশ : ১৪ ডিসেম্বর ২০২২ ২০:২৯ পিএম
সিরাজগঞ্জের বেতিল উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের পরিচালনা কমিটির বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বুধবার মানববন্ধন করেছেন শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা। ছবি: প্রবা
সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার একটি বিদ্যালয়ে পরীক্ষা চলার সময় তিন শিক্ষার্থীকে আটকে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া তাদেরকে বার্ষিক পরীক্ষাতেও অংশ নিতে দেওয়া হয়নি। বুধবার (১৪ ডিসেম্বর) দুপুরে সিরাজগঞ্জ -এনায়েতপুর সড়কের বেতিল বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে এমন ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থীর হলেন নবম শ্রেণির ইমরান শেখ ও আলিফ হোসেন এবং সপ্তম শ্রেণির আবদুল্লাহ প্রামাণিক।
শিক্ষার্থীরা জানান, বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) হাফিজুর রহমান, পরিচালনা কমিটির সভাপতি আবদুল সালাম ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্যদের অনিয়ম-দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। এ সময় বিদ্যালয়ের দপ্তরী, কর্মচারী, পরিচালনা কমিটির সদস্য ও বহিরাগত সন্ত্রাসীরা মানববন্ধনে হামলা চালিয়ে শিক্ষার্মীদের বেধড়ক মারধর করে। এছাড়া ব্যানার-ফেস্টুনও ছিনিয়ে নেওয়া হয়। মারধরে অন্তত ১৫ শিক্ষার্থী আহত হন। খবর পেয়ে এনায়েতপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মানববন্ধনকারীদের ধাওয়া করে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ সময় তিন পরীক্ষার্থীকে আটক করে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির কাছে সোপর্দ করা হয়।

স্থানীয়রা জানান, ওই তিন শিক্ষার্থীদের জিজ্ঞাসাবাদের নামে অভিভাবকদের সামনে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করেছে পরিচালনা কমিটি। খবর পেয়ে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা বেলা সাড়ে ১১টায় আবারও আজুগড়া এলাকায় মানববন্ধর ও বিক্ষোভ মিছিল করেন। মানববন্ধন চলার সময় বাধা পুলিশ বাধা দেয়। এ ঘটনা ভিডিও করার সময় সাংবাদিকের মুঠোফোন কেড়ে নেওয়ারও চেষ্টা করে বাহিনীটি। পরে ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ উপপরিদর্শক প্রণয় কুমারের সাংবাদিকদের সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন।

আটক ছাত্রদের সঙ্গে কথা বলতে বিদ্যালয়টিতে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের বার্ষিক পরীক্ষা চলা অবস্থায় অফিস কক্ষে শতাধিক লোকজন নিয়ে বৈঠক চলছে। ওই বৈঠকে আটক তিন ছাত্রকে জিজ্ঞাসাবাদের নামে জোরপূর্বক সাদা কাগজে পরিচালনা কমিটির পক্ষে মুচলেকা নেওয়া হচ্ছে । এছাড়া একই দিনে ওই ছাত্রদের পরীক্ষা চললেও তাদের অংশ নেওয়া থেকে বিরত রাখা হয়েছে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও পরিচালনা কমিটির সদস্যরা তাদের পরীক্ষায় অংশ নিতে দেননি।
সাংবাদিকদের উপস্থিতি দেখে বৈঠক স্থগিত করেন বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ হাফিজুর রহমান।
তিনি প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘মানববন্ধনের নামে কতিপয় শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ের সামনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার চেষ্টা করলে পুলিশ ও স্থানীয়রা তাদের ধাওয়া করে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ সময় তিন শিক্ষার্থীকে আটক করে তাদের অভিভাবকদের সামনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তাদের ওপর কোনো নির্যাতন করা হয়নি।’

তিন শিক্ষার্থীকে পরীক্ষায় অংশ নিতে না দিয়ে এমন জিজ্ঞাসাবাদ আইন সম্মত কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এদের ব্যবস্থা পরে করা হবে।’
এত মানুষ একসঙ্গে তিন শিশু শিক্ষার্থীকে এমন জিজ্ঞাসাবাদ আইন সম্মত কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আমরা বক্তব্য নেই।’
আটক আলিফ হোসেনের বাবা আল মামুন প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘আমার ছেলেকে কী কারণে আটক করা হয়েছে সেটি আমাকে এখনও জানানো হয়নি।’
আহত শিক্ষার্থীদের একজন কাউছার আহমেদ বলেন, ‘বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হাফিজুর রহমান, পরিচালনা কমিটির সভাপতি আবদুল সালামসহ অন্য সদস্যদের অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার প্রতিবাদে আমরা শান্তিপূর্ণভাবে মানববন্ধন শুরু করি। এসময় বিদ্যালয়ের কয়েকজন কর্মচারী ও পরিচালনা কমিটির সদস্য বহিরাগতদের সঙ্গে নিয়ে আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে আমাদের ১৫ শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। তিনজনকে আটক করে তাদের ওপর অমানবিক অত্যাচার নির্যাতন করা হয়েছে।’
এ বিষয়ে কথা বলার জন্য বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি আবদুস সালামকে একাধিকবার ফোন দেওয়া হয়। তবে তিনি ফোন ধরেননি।
তবে পরিচালনা কমিটির সদস্য রফিকুল ইসলাম প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘পরীক্ষার বিষয়ে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে তাদের আজকের বিষয়ে অটো পাস দিয়ে দিব।’
এর জন্য প্রাতিষ্ঠানিক কোনো নিয়ম আছে কি না জানতে চাইলে তিনি কোনো উত্তর দেননি।
বিষয়টি নিয়ে সিরাজগঞ্জের জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) আরিফুর রহমান প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে পুলিশের কোনো গাফিলতি থাকলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’