বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৯:০৪ পিএম
আপডেট : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৯:১০ পিএম
প্রবা ফটো
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) পোষ্য কোটা ইস্যুতে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে পোষ্য কোটা ফেরানোর প্রতিবাদে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শিক্ষক-কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের হাতাহাতি ও ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটেছে।
বিকেল চারটা থেকে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত (সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা) উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মাঈন উদ্দীন, প্রক্টর মাহবুবর রহমান, রেজিস্ট্রার ইফতেখারুল আলম মাসউদসহ শিক্ষক-কর্মকর্তারা অবরুদ্ধ ছিলেন।
এদিকে এ ঘটনায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক সালাহউদ্দিন আম্মার, শাখা ছাত্র অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আল শাহরিয়ার শুভসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের জুবেরী ভবনে এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পোষ্য কোটা পুনর্বহালের প্রতিবাদ ও বাতিলের দাবিতে দুপুর আড়াইটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে টায়ার পুড়িয়ে প্রতিবাদ জানান শিক্ষার্থীরা। কিছুক্ষণ পর উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মাঈন উদ্দীন প্রশাসন ভবন থেকে বেরিয়ে গাড়িতে উঠেন। এসময় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা গাড়ি আটকে দেন। এসময় ‘শিক্ষা-ভিক্ষা একসাথে চলে না’ স্লোগান দেন এবং উপ-উপাচার্যের গাড়ির ওপর টাকা ছুঁড়তে থাকেন। পরে উপ-উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহাবুর রহমানকে সঙ্গে নিয়ে বাসভবনের দিকে আসেন। শিক্ষার্থীরা তাদের অনুসরণ করে মিছিল নিয়ে উপ-উপাচার্যের বাসভবনের গেইটে তালা ঝুলিয়ে দেন।
পরে বাসভবনে ঢুকতে না পেরে ফিরে আসেন উপ-উপাচার্য ও প্রক্টর। একপর্যায়ে তারা জুবেরী ভবনের দিকে যান। শিক্ষার্থীরাও স্লোগান দিতে দিতে তাদের পেছন পেছন যান। উপ-উপাচার্য ও প্রক্টর জুবেরী ভবনের শিক্ষক লাউঞ্জের ভেতরে গেলে শিক্ষার্থীরা সেখানে গিয়েও স্লোগান দেন। পরে উপ-উপাচার্য জুবেরী ভবন থেকে আবার প্যারিস রোডে ফিরে আসেন। এসময় উপ-উপাচার্যের সঙ্গে প্রক্টরসহ জুবেরী ভবন থেকে আরও কিছু শিক্ষক ও কর্মকর্তা বেরিয়ে আসেন।

বিকেল চারটার কিছুক্ষণ পরে শিক্ষকরা আবার জুবেরী ভবনে ফিরে যেতে যান, এসময় রাস্তা থেকেই তাদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের ধস্তাধস্তি শুরু হয়। একপর্যায়ে জুবেরী ভবনের বারান্দায় আসলে কিছু শিক্ষক এবং কর্মকর্তা শিক্ষার্থীদের আটকানোর চেষ্টা করলে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। এ সময় উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মাঈন উদ্দীনকে চারপাশ থেকে আটকে দেন শিক্ষার্থীরা। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে শিক্ষক-কর্মকর্তাসহ উপ-উপাচার্য জুবেরী ভবনের দ্বিতীয় তলায় গেলে শিক্ষার্থীরা একটি কক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখেন। এরই মধ্যে রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ইফতিখারুল আলম মাসউদ, মানসিক চিকিৎসা কেন্দ্র প্রধান অধ্যাপক এনামুল হকসহ কয়েকজন শিক্ষক উপস্থিত হন। এসময় শিক্ষকদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের বাকবিতন্ডা হয় ও ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দেন।
সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা উপ-উপাচার্যাহ শিক্ষকদের অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ করছিলেন। জুবেরী ভবনের পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে আছে। শিক্ষার্থীরা ‘ভিক্ষা আর শিক্ষা একসাথে চলে না’ স্লোগান দেন।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান বলেন, ‘পোষ্য কোটা বাতিলের দাবিতে শিক্ষার্থীরা উপ-উপাচার্য স্যারকে অবরুদ্ধ করে তার বাসায় তালা ঝুলিয়ে দেয়। পরে আমরা জুবেরী ভবনের লাউঞ্জে বসি। সেখানে শিক্ষার্থীরা আবারও আমাদের বাধা দেয়। আমরা ফিরে গিয়ে পুনরায় আসার পর ভবনে ঢোকার চেষ্টা করলে তারা আবারও বাধা দেয়। এসময় ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে।’