বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ২১:৩১ পিএম
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য পোষ্য কোটা পুনর্বহালের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে এক শিক্ষার্থী আমরণ অনশনে বসেছেন। শুক্রবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে মাথায় ও শরীরে কাফনের কাপড় জড়িয়ে তিনি এ কর্মসূচি শুরু করেন।
ওই শিক্ষার্থীর নাম আসাদুল ইসলাম। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি একটি ব্যানারে লিখেছেন— ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পোষ্য কোটা নামক বিষফোঁড়া পুনর্বহাল রাখার প্রতিবাদে আমরণ অনশন ধর্মঘট।’
আসাদুল ইসলাম বলেন, পোষ্য কোটা নামক বিষফোঁড়া নির্মূল করতে আমি এই কর্মসূচি নিয়েছি। জুলাই আন্দোলনে রক্তপাত ও স্বৈরশাসকের পতনের পর যে কোটা বাতিল হয়েছিল, তা আবার ফিরেছে। আমি কোটার পক্ষে নই। যদি কোটা দেওয়া হয়, তবে সেটা গ্রামের কৃষক-শ্রমিক-মজুরের সন্তানদের দেওয়া উচিত। তিনি আরও জানান, এই পোষ্য কোটা বাতিল করার সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত আমার অনশন কর্মসূচি চলবে। প্রশাসন সিদ্ধান্ত না বদলানো পর্যন্ত খাবার-পানি গ্রহণ করবেন না। এখন পর্যন্ত প্রশাসনের কেউ আসেনি। আমি রাতে এখানেই অবস্থান করব।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত ভর্তি উপকমিটির সভায় শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য ১০টি শর্তে পোষ্য কোটা পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। উপাচার্যের দায়িত্বে থাকা সহ-উপাচার্য (প্রশাসন) মোহাম্মদ মাঈন উদ্দীনের সভাপতিত্বে এই সিদ্ধান্ত হয়। পরে রাত আটটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এই সিদ্ধান্তের আগাম খবর জানতে পেরে সন্ধ্যা সাতটার দিকে তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ জানান শিক্ষার্থীরা। পরে বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের নেতা-কর্মীরা তাদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন। রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত এই বিক্ষোভ চলে। গতকাল শুক্রবার বাদ জুমা নামাজের পর বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন শিক্ষার্থীরা।
সমাবেশে শিক্ষার্থীরা বলেন, পোষ্য কোটা একটি মীমাংসিত ইস্যু। এটি অন্যায্য ও অযৌক্তিক। তারা প্রয়োজনে রক্ত দেবেন, কিন্তু ক্যাম্পাসে এই কোটা ফিরতে দেবেন না। দীর্ঘ ৩৫ বছর পর রাকসু নির্বাচন ঘিরে যখন উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে, তখন এই কোটা ইস্যুর মাধ্যমে শিক্ষক-শিক্ষার্থী দ্বন্দ্ব সৃষ্টি করে নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন শিক্ষার্থীরা।