× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

রাকসু নির্বাচন

ছুটির দিনেও জমজমাট প্রচারণা

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক

প্রকাশ : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ২০:১২ পিএম

ছুটির দিনেও জমজমাট প্রচারণা

পঞ্চম দিনের মতো চলছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু), হল সংসদ ও সিনেট ছাত্র প্রতিনিধি নির্বাচনের প্রচারণা। শুক্রবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও  প্রার্থীদের প্রচারণায় মুখর ছিল ক্যাম্পাস। সকালের দিকে ক্যাম্পাসে আনাগোনা কম থাকলেও দুপুরের পর থেকে জমে ওঠে প্রচারণা।  

গতকাল  সকালের দিকে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন মেসগুলোতে নিজেদের প্রচারণা নিয়ে হাজির হন প্রার্থীরা। যেহেতু ছুটির দিনে শিক্ষার্থীরা মেসে বেশি সময় কাটান। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে প্রার্থীরা ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ছুটে গিয়েছেন, বিতরণ করছেন নিজেদের পরিচিতি ছাপানো লিফলেট ও পোস্টার।

জুমআর নামাজ শেষে বেরিয়ে আসা শিক্ষার্থীদের কাছে ভোট চাইতে জড়ো হন বিভিন্ন প্যানেল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। এ সময় ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণে বিভিন্ন অভিনবত্বে ভরা লিফলেট ও পোস্টার বিলি করেন। টাকা ও পত্রিকার আদলে তৈরি করা পোস্টার, দলিলের মতো দেখতে এসব লিফলেট ভোটারদের মধ্যে বেশ আগ্রহ তৈরি করেছে।

দুপুরে কেন্দ্রীয় মসজিদে প্রাচারণায় যান ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের সহ-সভাপতি (ভিপি) পদপ্রার্থী শেখ নূর উদ্দিন আবীর। তিনি বলেন, ‘মসজিদে জুম'আর নামাজের পরে সবার কাছে দু'আ চেয়েছি। তারপর আজকের মতো প্রচারণায় নেমেছি। সময় অল্প, কিন্তু আমরা প্রচুর পরিশ্রম করে যাচ্ছি সব শিক্ষার্থীদের কাছে পৌছানোর জন্য।’

‘গণতান্ত্রিক শিক্ষার্থী পর্ষদ’ প্যানেল মনোনীত ভিপি পদপ্রার্থী ফুয়াদ রাতুল বলেন, নির্বাচন কমিশন বার বার তফসিল পরিবর্তনের ফলে প্রচারণার সময় কমে এসেছে। তবুও আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি সকলের কাছে পৌছানোর।’

পত্রিকার আদলে তৈরি লিফলেট দিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছিলেন কেন্দ্রীয় সংসদে সহকারী-মিডিয়া ও প্রকাশনা সম্পাদক মুনান হাওলাদার। তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে কোনো ছুটির দিন থাকতে পারে না। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত প্রচারণা চালাচ্ছি। আজ শুক্রবার সকালে বিভিন্ন মেসগুলোতে প্রচারণা চালিয়েছি। এখন আবার ক্যাম্পাসে। আমি প্রতিটি শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছাতে চাই, তাদের কথা সরাসরি শুনতে চাই।’

উচ্ছাস প্রকাশ করে ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘রাকসু নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পুরো ক্যাম্পাসজুড়ে যেন একটি উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছে। ছুটির দিনগুলোতেও প্রার্থীদের সরব পদচারণা দেখে মনে হচ্ছে, এ যেন এক সত্যিকারের উৎসব। 

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক ভর্তিতে পোষ্য কোটা পুনর্বহালের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। শুক্রবার দুপুর ২ টার দিকে জুম'আর নামাজ শেষে কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনে থেকে একটি মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি ক্যাম্পাসের শহীদ শামসুজ্জোহা চত্বরে এসে বিক্ষোভ সমাবেশে মিলিত হয়।

এসময় বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীরা ‘পোষ্য কোটার বিরুদ্ধে ডাইরেক্ট একশন’, ‘ভিক্ষা কোটার বিরুদ্ধে ডাইরেক্ট একশন’, ‘ভিক্ষা লাগলে ভিক্ষা নে পোষ্য কোটার কবর দে’, আলি রায়হান মুগ্ধ, শেষ হয়নি যুদ্ধ, প্রভৃতি স্লোগান দেন।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, ‘পোষ্য কোটা একটা মীমাংসিত ইস্যু। যাকে কোনো ভাবেই ফিরিয়ে আনা চলবে না। আমরা রক্ত দেবো, কিন্তু এই ক্যাম্পাসে পোষ্য কোটা ফিরতে দিবো না।’ 

ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী সজিবুর রহমান বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামের মাধ্যমে পোষ্য কোটার কবর রচনা করেছিলাম। শুক্রবার দেখলাম কবর থেকে আবার তা উঠিয়ে আনা হয়েছে। পোষ্য কোটা একটা মীমাংসিত ইস্যু। যাকে কোনো ভাবেই ফিরিয়ে আনা চলবে না।’

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্দেশে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী মাহির ফয়সাল বলেন, ‘আপনারা যদি রক্ত চান, আমরা রক্ত দিতে রাজি আছি। এই রক্ত দিয়ে গোসল করবেন, নাকি পিপাসা মেটাবেন? আমাদের রক্ত অনেক আছে। আমরা রক্ত দেবো, কিন্তু এই ক্যাম্পাসে পোষ্য কোটা ফিরতে দিবো না।’

আইন ও ভূমি প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী কামরুল হাসান সজীব বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন রাকসু নির্বাচন চায় না। যেহেতু তারা চায় না, তাই রাকসু নির্বাচনকে বানচাল করার জন্য নির্বাচনের অল্পকিছু আগ মুহুর্তে এই পোষ্য কোটার ইস্যুটাকে জ্বলন্ত করে নিয়ে এসেছে।’

এর আগে, গত ২ জানুয়ারি শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে পোষ্য কোটা বাতিল ঘোষণা করেন উপাচার্য সালেহ্ হাসান নকীব। তিনি বলেছিলেন, ‘আমি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলতে চাই, আমি ১ শতাংশ পোষ্য কোটা রাখারও পক্ষে নই। আমি অঙ্গীকার করছি, এই পোষ্য কোটা রাখা হবে না। ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষেই এটি বাস্তবায়ন করা হবে।’

এরপর পোষ্য কোটা পুনর্বহালের দাবিতে ধারাবাহিক আন্দোলনে নামেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। প্রশাসনের আশ্বাসে তাঁরা কর্মসূচি স্থগিত করেছিলেন। সর্বশেষ গত বুধবার পোষ্য কোটা পুনর্বহালসহ তিন দাবিতে ২৪ ঘণ্টা সময় বেঁধে দেওয়া হয়। দাবি না মানলে ২১ সেপ্টেম্বর থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার  এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে তৎক্ষনাৎ প্রতিবাদ জানিয়ে উপাচার্যের বাসভবন ঘেরাও করে প্রায় ৪ঘন্টা বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। রাত সাড়ে ১১টার দিকে  বাদ জুম'আ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ থেকে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করার ঘোষণা দিয়ে কর্মসূচি শেষ করেন শিক্ষার্থীরা।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা