বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ২২:৪৪ পিএম
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) শর্তসাপেক্ষে পোষ্য কোটা পুনর্বহাল করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ২০২৪-২৫ বর্ষের ভর্তি উপ-কমিটি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গেই শহীদ শামসুজ্জোহা চত্বরে বিক্ষোভ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। সেখান থেকে মিছিল করে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নেন। এ সময় হঠাৎ বৃষ্টি নামলে, বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে বিক্ষোভ চালিয়ে যান।
উপাচার্যের বাসভবনের সামনে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে ছাত্রশিবির ও ছাত্রদল ক্ষোভে যোগ দেন। এ সময় ‘একশান টু একশান, ডাইরেক্ট একশন; কোটা না মেধা, মেধা মেধা’ প্রভৃতি স্লোগান দেন।
এদিকে শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দাবি মেনে নেওয়ায় কর্মসূচি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানিয়েছেন আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া এক শিক্ষক।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ‘প্রাতিষ্ঠানিক’ এই সুবিধায় ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের ভর্তি পরীক্ষায় কমপক্ষে ৪০ নম্বর পেতে হবে। এ ছাড়াও প্রশাসন এই সুবিধার ক্ষেত্রে ১০টি শর্ত দিয়েছে।
প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধায় ভর্তির শর্তগুলো হলো :
১. কেবল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের গর্ভজাত সন্তান এই ভর্তির সুযোগ পাবে
২. ভর্তির প্রাথমিক আবেদনের জন্য বিজ্ঞাপিত যোগ্যতা এবং শর্ত এক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে
৩. মেধার ভিত্তিতে ভর্তির জন্য নির্ধারিত আসনসংখ্যার অতিরিক্ত হিসেবে এ প্রক্রিয়ায় ভর্তির বিষয়টি বিবেচনা করা হবে
৪. ভর্তির ক্ষেত্রে প্রাপ্ত নম্বর বিবেচনা করে মেধা অনুসরণ করা হবে
৫. ভর্তির আবেদন বিবেচনার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিভাগের নির্ধারিত শর্তাবলিসহ অবশ্যই ন্যূনতম পাস নম্বর থাকতে হবে
৬. কোনো বিভাগে ২ জনের অধিক ভর্তির সুযোগ থাকবে না
৭. কোনো শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীর সন্তানকে তার কর্মরত বিভাগে ভর্তি করানো যাবে না
৮. এ সুবিধার আওতায় নিজেদের মধ্যে ‘অটো মাইগ্রেশন’ ছাড়া শিক্ষার্থীর বিভাগ পরিবর্তনের অন্য কোনো সুযোগ থাকবে না
৯. ভর্তির ক্ষেত্রে এবং পরবর্তীতে কোনো অভিভাবকের অনিয়মের আশ্রয় নেওয়ার বিষয় প্রমাণিত হলে ছাত্রত্ব বাতিলসহ সংশ্লিষ্ট অভিভাবকের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত শৃঙ্খলাবিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে মর্মে অঙ্গীকারনামায় উল্লেখ করতে হবে
১০. এ সুবিধার আওতায় ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থী কোনোভাবেই আবাসিক হলে সিটের জন্য আবেদন করার সুযোগ পাবে না।
শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের এগ্রোনমি অ্যান্ড এগ্রিকালচারাল এক্সটেনশন বিভাগের অধ্যাপক আব্দুল আলিম বলেন, ‘আমাদেরকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। তবে আমাদের দাবির বিষয়ে কিছুটা বিবেচনা করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। তা ছাড়া দীর্ঘ ৩৫ বছর পরে রাকসু নির্বাচন হচ্ছে আমরা রাকসুকে কোনো চাপে ফেলতে চাই না। এ বিষয়টি বিবেচনা করে আজ রাতে একটি সভা করে কর্মসূচি প্রত্যাহার করব।’
জানতে চাইালে বিশ্ববিদ্যালয়ে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মো. মাঈন উদ্দিন বলেন, ‘আজকে ভর্তি উপ-কমিটির একটি সভা ছিল। সভায় ২০২৪-২৫ বর্ষের ভর্তিতে শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের শর্তসাপেক্ষে প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধা দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে এত বিচলিত হওয়ার কিছু নেই তাদের ভর্তি কার্যক্রম নির্দিষ্ট শর্ত মেনেই করা করা হবে।’
এদিকে পোষ্য কোটা পুনর্বহালের সিদ্ধান্তকে প্রত্যাখ্যান করে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করেছেন শিক্ষার্থীরা। বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নিয়েছেন।
এ সময় শাখা ছাত্র অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও রাকসুর জিএস পদপ্রার্থী আল শাহরিয়া শুভ বলেন, নির্লজ্জ প্রশাসন পোষ্য কোটা ফিরিয়ে এনেছেন। আমরা এখানে রাকসু বানচালের ইঙ্গিত লক্ষ করছি। এখন আমরা উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নিয়েছি।’
উল্লেখ্য, ‘প্রাতিষ্ঠানিক’ সুবিধা নিশ্চিতের দাবিতে কয়েক মাস আগে থেকে আন্দোলন করে আসছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এর আগে কয়েক দফা কর্মবিরতি, অবস্থান কর্মসূচিও পালন করেছেন তারা। সর্বশেষ গত বুধবার দাবি মানতে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছিলেন তারা। এ সময়ের মধ্যে দাবি মানা না হলে আগামী রবিবার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য সর্বাত্মক কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়ে রেখেছিলেন শিক্ষক-কর্মকর্তারা।