সাত কলেজ
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৯:২৮ পিএম
রাজধানীর সাত সরকারি কলেজ নিয়ে ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’ করার পরিকল্পনার বিরোধিতা করছেন ওইসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকেরা। তাদের দাবি, প্রস্তাবিত কাঠামোয় বিশ্ববিদ্যালয় না করে পৃথক ক্যাম্পাস স্থাপন করে এই সাতটি সরকারি কলেজকে নতুন এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত করা হোক।
বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সামনে বিসিএস জেনারেল এডুকেশন অ্যাসোসিয়েশনের ব্যানারে অবস্থান কর্মসূচি ও মানববন্ধন করে এ দাবির কথা জানান শিক্ষকরা।
তারা আরও বলছেন, সরকারের এ পদক্ষেপে রাজধানীর সাত কলেজে উচ্চশিক্ষা ও নারী শিক্ষার সুযোগ সংকুচিত হবে, কলেজের স্বতন্ত্র কাঠামো আর থাকবে না এবং একাধিক শতবর্ষী কলেজের ঐতিহ্য বিলুপ্তি হবে।
সাত কলেজ স্বাতন্ত্র্য রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক ইডেন মহিলা কলেজের অধ্যাপক মাহফিল আরা বেগম বলেন, ‘‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্তি থেকে সাত কলেজকে অব্যাহতি দিয়ে একটি স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরুর পরিকল্পনা চলমান। কিন্তু হঠাৎ করে ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’ নামে যে কাঠামো সামনে এসেছে, তা এই প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা সংকোচন, শিক্ষার গুণগত মান হ্রাস এবং ইতিহাস ও ঐতিহ্যের পরিপন্থী।’’
তিনি আরও বলেন, “২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে সাত কলেজে অনার্স প্রথম বর্ষে আসন সংখ্যা ছিল ২১ হাজার ৩৬৩টি, যেখানে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয় কাঠামোতে আসন রাখা হয়েছে ১১ হাজার ১৫০ টি। এতে করে ১০ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষার সুযোগ বঞ্চিত হবে। ইতিপূর্বে জগন্নাথ কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের ফলে চার শতাধিক শিক্ষক পদ বিলুপ্ত হয়েছিল। এসব কলেজে শিক্ষকরা সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তা।”
তিনি বলেন, “কলেজগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হলে তাদেও পদমর্যাদা ও পদোন্নতি নির্ধারণ জটিল হবে। এসব কলেজ থেকে প্রায় দেড় হাজারেরও বেশি পদ বিলুপ্ত হবে যা ভবিষ্যতে সাধারণ শিক্ষা ক্যাডার পদপ্রার্থীদের সুযোগ বঞ্চিত করবে।”
অধ্যাপক মাহফিল আরা বলেন, ‘১৮৭৪ সালে মহসিনিয়া ফান্ডের সহায়তায় প্রতিষ্ঠিত কবি নজরুল সরকারি কলেজ দেশের অন্যতম প্রাচীন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান। প্রায় ২০ হাজার স্নাতক এবং ৩ হাজার ৫০০ উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত এই কলেজ পুরান ঢাকায় শতবর্ষব্যাপী শিক্ষা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। এখানে একটি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ও পরিচালিত হচ্ছে।’
কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া শিক্ষকরা বলেন, ইডের মহিলা কলেজ ও বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ দীর্ঘকাল ধরের নারী শিক্ষার অগ্রযাত্রায় অবিস্মরণীয় ভূমিকা পালন করে আসছে। বিশেষত রক্ষণশীল ও নিম্ন আয়ের পরিবারের নারী শিক্ষার্থীদের জন্য এগুলো একটি নিরাপদ, সাশ্রয়ী ও মর্যাদাপূর্ণ শিক্ষাকেন্দ্র। প্রস্তাবিত সংকোচন কার্যকর হলে রাজধানীতে নারীদের উচ্চশিক্ষা মারাত্মকভাবে ব্যহত হবে। তাদের প্রবেশাধিকার সংকীর্ণ হবে; যা নারী শিক্ষার ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
সংকট সমাধানে কিছু প্রস্তাবনা তুলে ধরেন শিক্ষকরা- সাত কলেজের বিদ্যমান অবকাঠামো ও মানবসম্পদ কাজে লাগিয়ে কলেজিয়েট বা অধিভুক্ত কাঠামোতে পরিচালনার ব্যবস্থা করা, প্রশাসন ও পাঠদানে শিক্ষা ক্যাডারদের নিযুক্ত রাখা। এছাড়া শিক্ষক নিয়োগ, গবেষণা বাজেট, ল্যাব ও লাইব্রেরি সুবিধা বৃদ্ধি, আবাসন সংকট নিরসন ও বৃত্তি সুবিধা নিশ্চিত করে গুণগত উচ্চশিক্ষা বজায় রাখার প্রস্তাবনাও দেন তারা।
মানববন্ধনে সাত কলেজের শিক্ষক, বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের নেতা এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মকর্তারা অংশ নেন।