জাকসু নির্বাচন
হাসনাত শাহীন, শরিফুজ্জামান ফাহিম ও রাজিব রায়হান
প্রকাশ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ০৯:৫২ এএম
আপডেট : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ০৯:৫৩ এএম
জাকসু নির্বাচনে বৃহস্পতিবার ফজিলাতুননেসা কেন্দ্রে উৎসবমুখর পরিবেশে শিক্ষার্থীদের ভোটের লাইন। ছবি : আরিফুল আমিন
দিনভর নানা অনিয়ম, পাল্টাপাল্টি অভিযোগ, বিভিন্ন সময়ে কয়েকটি হলে ভোটগ্রহণ বন্ধ, অব্যবস্থাপনা আর ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার এক ঘণ্টা আগে ছাত্রদল ছাড়াও আরও চারটি প্যানেলের ভোট বর্জননের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন।
জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের পর ভোট বর্জন করেছে সম্প্রীতির ঐক্য, সংশপ্তক পর্ষদ, স্বতন্ত্র অঙ্গীকার পরিষদ ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের আংশিক প্যানেল। এ ছাড়া বেশ কয়েকজন স্বতন্ত্র প্রার্থীও তাদের সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করে ভোট বর্জন করেছেন।
দীর্ঘ ৩৩ বছর পর জাকসুর এই ভোট আয়োজন নিয়ে প্রশাসনেরও ছিল নানা গাফিলতি এবং দক্ষতার অভাব। শিক্ষার্থীদের মধ্যেও এ নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ থাকলেও ছিল না খুব একটা উচ্ছ্বাস। এ ছাড়াও তিন শিক্ষকের নির্বাচনী দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানো তুমুল আলোচনা তৈরি করেছে।গতকাল বৃহস্পতিবার জাকসু নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের কাছে নির্বাচন বর্জনের কথা জানান গণিত বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, অধ্যাপক নাহরিন ইসলাম ও অধ্যাপক শামিমা সুলতানা।
এদিকে ফলাফল আজ দুপুরের আগে প্রকাশ করা হবে না বলে জানা গেছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে ২১টি হলে একযোগে শুরু হয় ভোট গ্রহণ। বিকাল ৫টায় ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও কোনো কোনো কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ চলে রাত ৮টা পর্যন্ত। জাকসুতে এবার ভোটার সংখ্যা ১১ হাজার ৭৪৩ জন।
সরেজমিন দেখা যায়, ভোট শুরু ২ ঘণ্টা পরই শুরু হয় ঝুমবৃষ্টি। বৃষ্টি উপেক্ষা করেই বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে ভোটারদের ভিড়। তবে নির্বাচন ঘিরে উৎসবমুখর পরিবেশ ছিল না। নিজ নিজ হলে ভোট হওয়া শিক্ষার্থীরা ভোট দিয়েই রুমে চলে গেছেন। কোনো কোনো জায়গায় ছিল শিক্ষার্থীদের জটলা।
দিনভর উত্তেজনার রেশ থাকে রাত পর্যন্ত। গতকাল রাতে প্রতিবাদী মিছিল করেছে ছাত্রদল।
অনিয়ম, ভোট কারচুপি ও প্রশাসনের বিপক্ষে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ
ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার দেড় ঘণ্টা আগে সাড়ে ৩টার দিকে নির্বাচন বর্জন করেছে ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেল। তাদের অভিযোগ, ব্যাপক অনিয়ম, ভোট কারচুপি ও প্রশাসনের পক্ষপাতিত্বের কারণে নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে না।
ভোট বর্জনের জন্য জরুরি সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রদল-সমর্থিত প্যানেলের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) প্রার্থী তানজিলা হোসেন বৈশাখী বলেন, ‘শুরু থেকেই আমাদের আশঙ্কা ছিল এটি সাজানো নির্বাচন হবে। আমরা বারবার প্রশাসনকে জানিয়েছিলাম যে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না, কিন্তু প্রশাসন আমাদের দাবি উপেক্ষা করেছে।’
এ সময় তিনি বিভিন্ন হলে ভোটগ্রহণে অনিয়ম, জাল ভোট, নকল ব্যালট ব্যবহার, পোলিং এজেন্টদের কাজে বাধা দেওয়া এবং শিবির-সমর্থিত প্রার্থীদের বিশেষ সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ তোলেন।
ছাত্রদল ভোট বর্জনের পর নির্বাচনে প্রশাসনের পক্ষপাতমূলক ভূমিকা ও ছাত্রশিবিরকে ভোট জালিয়াতিতে সহযোগিতার অভিযোগ তুলে ভোট বর্জনের ঘোষণা দেয় ছাত্র ইউনিয়ন একাংশসহ কয়েকটি বাম সংগঠনের প্যানেল ‘সংশপ্তক পর্ষদ’। ছাত্র ইউনিয়ন অপরাংশ সমর্থিত প্যানেল সম্প্রীতির ঐক্যও নির্বাচন কমিশনের প্রতি অনাস্থা জানিয়েছে। বিকালে প্যানেলের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদপ্রার্থী শরণ এহসান সংবাদ সম্মেলনে বলেন, এই নির্বাচন যথাযথ প্রক্রিয়া মেনে হচ্ছে না। আমরা এই নির্বাচন কমিশনের প্রতি অনাস্থা জ্ঞাপন করছি। আমরা বলতে চাই, তারা শুরু থেকেই আমাদের আস্থা, ভরসা ও আকাঙ্ক্ষার জায়গা নষ্ট করেছে। পাশাপাশি বামদের আরেক প্যানেল স্বতন্ত্র অঙ্গীকার পরিষদ ও কয়েকজন স্বতন্ত্র প্রার্থীও নির্বাচন বর্জন করেন।
পাল্টাপাল্টি অভিযোগ
ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার পরপরই ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের প্রার্থীরা পাল্টাপাল্টি অভিযোগ তুলতে শুরু করেন। বেলা যত বাড়ে অভিযোগ ততই বাড়তে থাকে। ছাত্রদলের অভিযোগ, শিবিরের প্যানেলের প্রার্থীরা নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন ভোটগ্রহণের সময় লিফলেট বিতরণ করেছেন। নির্বাচনের ব্যালট পেপার জামায়াতকর্মীর প্রতিষ্ঠানে তৈরি এবং জামায়াত কর্মীর প্রতিষ্ঠানে ব্যালট পেপার তৈরির কারণে শিবির এক্সট্রা সুবিধা পেয়েছেন বলে তারা জানান। এ ছাড়াও তারা শিবিরের বিপক্ষে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের ভোট কারচুপির অভিযোগ আনেন।
একই ইস্যুতে ছাত্রদলের বিপক্ষে অভিযোগ আনে ইসলামী ছাত্রশিবির। তারা অভিযোগ করেন সঠিক তথ্যকে বিকৃত করে অপপ্রচার করছে ছাত্রদল। তারা দাবি করেন, ছাত্রদলকে সুবিধা দিতে সকল ব্যবস্থা করা হয়েছে। তারা আরও দাবি করেন যে প্রতিষ্ঠানে ব্যালট পেপার ছাপানো হয়েছে সেটি জামায়াতের নয় বরং বিএনপি সমর্থকের। ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে ছাত্রদলের একাধিক সাবেক শিক্ষার্থী, কেন্দ্রীয় নেতা এবং কয়েকজন বিএনপি নেতার অবস্থানকে সুষ্ঠ ভোটগ্রহণে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভীতিকর অবস্থা সৃষ্টি করেছে বলেও তারা অভিযোগ করেন। এ ছাড়াও নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ এর অভাব এবং প্রশাসনের অসহযোগিতার কথা বলেন তারা।
ভোটে নানা অব্যবস্থাপনা
জাকসু নির্বাচন নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে নানা অব্যবস্থাপনার অভিযোগ এনেছেন শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন প্যানেল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা।
এর মধ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হলে (বর্তমানে ১০ নম্বর), মীর মশাররফ হোসেন হল, ফজিলাতুন্নেছা হলে সকাল ৯টায় ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও পৌনে এক ঘণ্টা পিছিয়ে শুরু সকাল পৌনে ১০টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়। এরপর সাড়ে ১০টার দিকে দেখা দেয় বৈদ্যুতিক গোলযোগ।
ভোটগ্রহণ শুরুর পরপরই মওলানা ভাসানী হল, শহীদ রফিক-জব্বার হল, ফজিলতুন্নেছা হল, এ এফ এম কামালউদ্দিন হল, প্রীতিলতা হল এবং বীরপ্রতীক তারামন বিবি হলে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। ফলে অন্ধকারের মধ্যেই মোবাইলের আলো দিয়ে ২৫ মিনিট চলে ভোটগ্রহণ। ব্যালট আসতে দেরি হওয়ায় ওই কেন্দ্রে ভোট শুরু করতে দেরি হয়েছে বলে জানান নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তবে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণ সম্পর্কে কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি সেলের সদস্য ফজলুল করিম পাটোয়ারী। তিনি বলেন, ‘সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য নোটিস দেওয়া হয়েছিল প্রশাসনকে। কেন বিদ্যুৎ বিভ্রাট হয়েছে সে বিষয়ে অবগত নই।’
এর বাইরে এ ছাড়াও বেশ কয়েকটি কেন্দ্রে মোট ভোটারদের থেকে অতিরিক্ত ব্যালট পেপার নেওয়ার অভিযোগ তুলেছে ছাত্রদল-শিবিরসহ কয়েকজন প্রার্থী। ছবিযুক্ত ভোটার তালিকা করার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা করতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ৫-৬টি কেন্দ্রে ভোট দেওয়ার পর শিক্ষার্থীদের হাতের আঙুলে মার্কার দিয়ে দাগ দেওয়া হয়নি। আবার কোনো কোনো কেন্দ্রে দাগ লাগালেও তা দ্রুত মুছে গেছে। এ ছাড়াও পোলিং এজেন্টদের দেওয়া হয়নি কোনো কার্ড। কাজী নজরুল ইসলাম হলের ছাত্রদলের এজেন্ট জিসান বলেন, নির্বাচনে কোনো পোলিং এজেন্টদের কার্ড দেওয়া হয়নি। এ ছাড়াও আমার হলে ভোট দেওয়ার পর মার্কার দিয়ে দাগ দেওয়া হচ্ছে না। বিভিন্ন কেন্দ্রে সাংবাদিক প্রবেশেও বাধা দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ (বাগছাস) সমর্থিত প্যানেলের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) প্রার্থী আবু তৌহিদ মোহাম্মদ সিয়াম বলেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হল, রফিক জব্বার হল, শহীদ তাজউদ্দীন হল ও কাজী নজরুল ইসলাম হলসহ কয়েকটি হলে কালি ব্যবহার করা হচ্ছে না। যদি আইডেন্টিফিকেশন না থাকে পরে জালিয়াতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেল সমন্বিত শিক্ষার্থী জোটের ভিপি প্রার্থী আরিফ উল্লাহ বলেছেন, ‘আমরা গতকাল থেকে দেখতে পেয়েছি বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচন কমিশন ভোটের সুষ্ঠু পরিবেশ রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে।
এ ছাড়াও ওএমআর মেশিনে স্ক্যানিংয়ের মাধ্যমে ভোট গণনার পরিকল্পনা থাকলেও শেষদিকে এই এই সিদ্ধান্ত বাতিল করে হাতে গণনার সিদ্ধান্ত নেয় নির্বাচন কমিশন। বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষণ কমিটির সদস্য ড. সালেহ আহম্মদ খান জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু নির্বাচনে মেশিনে ভোট গণনা নিয়ে বিতর্ক উঠেছিল। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই জাকসুতে এবার সব ভোট হাতে গণনা করা হচ্ছে।
নির্বাচনে ব্যালট পেপারেও ছিল ভুল। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হলে কার্যকরী সদস্য পদে ৩ জন প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার কথা থাকলেও ব্যালটে দেওয়া নির্দেশনায় কেবল একজন প্রার্থীর পাশে টিকচিহ্ন দেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এতে ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি দেখা দেয়।
হলের পোলিং কর্মকর্তা উজ্জ্বল কুমার মণ্ডল বলেন, ‘বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। আমরা দ্রুত নির্বাচন কমিশনকে জানিয়েছি। শিক্ষার্থীদের বিষয়টি বুঝিয়ে বলা হয়েছে, তারা যাতে নিয়ম মেনে তিনজন প্রার্থীকে ভোট দেন।’
দুই কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ বন্ধ
নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ এনে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ ও বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা হলে (বর্তমান ১৫নং) দুইবার করে বেশ কিছু সময় ভোটগ্রহণ বন্ধ ছিল।
জানা যায়, শিক্ষার্থীদের হট্টগোলের কারণে সোয়া ১২টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত বঙ্গমাতা হলে ভোটগ্রহণ বন্ধ ছিল। আর দুপুর ১২টা থেকে ২০ মিনিটের মতো ভোট বন্ধ ছিল তাজউদ্দীন হলে। হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক লুৎফুল এলাহী বলেন, বেলা পৌনে ১২টার দিকে কেন্দ্রে কিছুটা সমস্যা দেখা দিলে ভোটগ্রহণ বন্ধ রাখা হয়। পরে পরিস্থিতে নিয়ন্ত্রণে আসলে ভোট গ্রহণ শুরু হয়।
সংবাদ সম্মেলন করে নির্বাচনী দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান তিন শিক্ষক
নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ তুলে ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার ঘণ্টাখানেক আগে নির্বাচনী দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান বিএনপিপন্থী তিন শিক্ষক অধ্যাপক শামীমা সুলতানা, নজরুল ইসলাম ও নাহরিন খান।
বিকালে সংবাদ সম্মেলন অধ্যাপক শামীমা সুলতানা বলেন, কেন্দ্রে কেন্দ্রে অতিরিক্ত ব্যালট সরবরাহ করা হয়েছে। আমরা এর প্রতিবাদ করেছি। কিন্তু তারা গুরুত্ব দেয়নি। দায়িত্বরতরা বলেছে, অতিরিক্ত ব্যালট ছিঁড়ে ফেলতে। ভোট শেষে ভোটারের আঙুলে কালো কালির ছাপ দেওয়ার কথা, সেটাতে তারা যে মার্কার সরবরাহ করেছে, তা দিয়ে ছাপ দেওয়া সম্ভব নয়। এ অবস্থায় আমাদের মনে হয়েছে, আমরা নির্বাচন চালিয়ে যেতে পারি না।
রবীন্দ্রনাথ হল থেকে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতা আটক
নির্বাচন চলাকালে ক্যাম্পাসে অবৈধভাবে অবস্থান করার অভিযোগে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি হাফিজুর রহমান সোহানকে আটক করা হয়েছে। আটককৃত ছাত্রদল নেতা সোহান বিশ্ববিদ্যালয়টির ইংরেজি বিভাগের ৩৬তম ব্যাচের (২০০৬-০৭ শিক্ষাবর্ষ) সাবেক শিক্ষার্থী। বেলা ১১টার দিকে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের একটি কক্ষ থেকে তাকে আটক করা হয়। আটকের পর ছাত্রদলের ওই নেতাকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টরিয়াল বডির হাতে তুলে দেওয়া হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক একেএম রাশিদুল আলম বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। তার কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
সার্বিক বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সদস্য সচিব ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক একেএম রাশিদুল আলম বলেন, সুন্দর এবং সুশৃঙ্খলভাবে জাকসুর ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। আমরা সারারাত ধারাবাহিকভাবে কাজ করার পর কাল ফলাফল ঘোষণা করতে পারব বলে আশা করছি।