ডাকসু নির্বাচন
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ২২:২৯ পিএম
আপডেট : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ২২:৩৯ পিএম
দিনভর ডাকসু ও হল সংসদের নির্বাচনের ভোটগ্রহণের পর এখন চলছে গণনা। শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও ফল ঘোষণা ঘিরে সন্ধ্যার পর থেকে ক্যাম্পাসে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
তবে ক্যাম্পাসে যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সতর্ক অবস্থানে আছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
নির্বাচনে ভোট কারচুপির পাল্টাপাল্টি অভিযোগ তুলেছে প্রায় সব পক্ষই। ভোট কারচুপির অভিযোগ তুলে ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রের সামনে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডার খবর পাওয়া গেছে।
এদিকে ভোট শেষ হওয়ার পর থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার আশপাশে অর্থাৎ দোয়েল চত্বর, শাহবাগ, নিউমার্কেট, নীলক্ষেত এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশপথগুলোতে ব্যাপক লোকজনের জমায়েত হওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে। তবে তাদের কাউকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে দিচ্ছে না আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
তবে জমায়েত হওয়া এসব লোকজন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী বলে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করেছেন ডাকসুর ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির সমর্থিত প্রার্থীরা।
ছাত্রদলের ভিপি প্রার্থী আবিদুল ইসলাম খানের ভাষ্য, নীলক্ষেত, শাহবাগ, চানখারপুলে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা ‘সংঘবদ্ধভাবে অবস্থান’ নিয়েছে।
অপরদিকে শিবির প্যানেলের জিএস পদপ্রার্থী এস এম ফরহাদের অভিযোগ, নয়টি পয়েন্টে যুবদল এবং বিএনপির নেতাকর্মীরা পাহারা দিচ্ছেন।
এরই মধ্যে সন্ধ্যার দিকে নির্বাচনে ভোট চুরির অভিযোগ তুলে ভিপি প্রার্থী আবিদুল ইসলাম আবিদের নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ছাত্রদল। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এই মিছিল করেন তারা।
এর আগে বিকেলে জরুরি সংবাদ সম্মেলেন করে ভোট কারচুপির অভিযোগ তোলেন আবিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘অমর একুশে হলে গেছি সেখানে কারচুপির প্রমাণ পেয়েছি। রোকেয়া হলেও কথা বলেছি। তারা বলেছে কারচুপি হয়েছে। এটা কোনোভাবে আশা রাখেনি। সকাল থেকে আমাদের পোলিং এজেন্টদেরও কেন্দ্রে ঢুকতে ক্ষেত্রে বাধা প্রদান করা হয়। প্যানেলের নম্বর সিটটাও দিতে গিয়ে প্রত্যেক জায়গায় বাধার মধ্যে পড়েছি। ভোটকেন্দ্রের বাইরেও বাধার সম্মুখীন হয়েছি।’
নির্বাচনের ফল ম্যানিপুলেশনের চেষ্টা করলে সাধারণ শিক্ষার্থীরা সম্মিলিতভাবে প্রতিরোধ করবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
ভোটগ্রহণ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেছেন ছাত্রশিবির সমর্থিত ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোটের ভিপি প্রার্থী আবু সাদিক কায়েম ও একই জোটের জিএস পদপ্রার্থী এস এম ফরহাদ।
সন্ধ্যার পর তারা সংবাদ সম্মেলনে ভিপি প্রার্থী আবিদুল ইসলামের সমালোচনা করে এস এম ফরহাদ বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন থেকে জানানো হয়েছিল, ভোট দেওয়া ছাড়া কোনো প্রার্থী বুথে ঢুকতে পারবে না। তাই আমাদের কেউ কোনো বুথে ঢুকেনি। কিন্তু আমরা দেখেছি, ছাত্রদলের প্যানেলের ভিপি প্রার্থী আবিদ ভাই প্রত্যেকটা বুথে ঘুরে বেড়িয়েছেন। আমরা গেলে আমাদের আটকানো হতো।’
তবে ভোটে কারচুপিসহ প্রার্থীদের নানা অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. নিয়াজ আহমেদ খান।
তিনি বলেন, আটটি কেন্দ্রে আমাদের মনিটরিং টিম কনসিস্টেন্ট কাজ করেছে। ভোট খুব সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয়েছে। কারচুপির কোনো সুযোগ নেই।
সন্ধ্যা থেকে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ঘিরে ক্যাম্পাসজুড়ে থমথমে পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। যেকোনো ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় ক্যাম্পাস এলাকায় সতর্ক অবস্থানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
পুলিশ, র্যাব, বিজিবিসহ সাদা পোশাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীদের পর্যাপ্ত সদস্যের উপস্থিতি দেখা করা গেছে।