বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৬:৪০ পিএম
আপডেট : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৭:১৫ পিএম
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) নির্বাচনের আমেজ বাড়ছে দিন দিন। সেই সঙ্গে ক্যাম্পাসজুড়ে বাড়ছে মাদকের ছড়াছড়ি। এ নিয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে দেখা দিয়েছে তীব্র উদ্বেগ। অভিযোগ উঠেছে, অনেক প্রার্থী প্রচারণার পাশাপাশি ভোটারদের হাতে মাদক পৌঁছে দিচ্ছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ক্যাম্পাসের বিভিন্ন আড্ডাস্থল, টারজান পয়েন্ট, সিডনি ফিল্ড, আবাসিক হলগুলোতে মাদকের সহজলভ্যতা চোখে পড়ছে। এতে জুনিয়র শিক্ষার্থীদের টার্গেট করে মাদক ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে । শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, নির্বাচনের সময় ভোটারদের প্রভাবিত করতে কিছু প্রার্থী গোপনে গাঁজা, অ্যালকোহলসহ বিভিন্ন নেশাজাতীয় দ্রব্য সরবরাহ করছেন। এতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য ক্যাম্পাসের পরিবেশ ক্রমেই অস্বস্তিকর হয়ে উঠছে। শিক্ষার্থীদের অনেকেই সামাজিক মাধ্যমে এ বিষয়ে সমালোচনা করছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, নির্বাচনে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিম, হলসমূহের প্রভোস্ট ও দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকদের দায়িত্বে অবহেলার কারণে এমনটা ঘটছে। এছাড়া নির্বাচন উপলক্ষে কিছু প্রার্থী এটাকে কাজে লাগিয়ে ভোট বাগানোর চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ আছে।
স্বতন্ত্র প্যানেলের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদপ্রার্থী মো. শাকিল আলী বলেন, বিভিন্ন হলে মদসহ অন্যান্য নেশাজাতীয় দ্রব্য সাপ্লাই দেওয়া হচ্ছে, যা নির্বাচনী আচরণবিধি তো বটেই, বিশ্ববিদ্যালয় ও দেশের আইনেরও পরিপন্থী। এছাড়া নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গ করে বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা হলে হলে বিরিয়ানি সাপ্লাই দিচ্ছেন। ভোটারদের ক্যান্টিনে নিয়ে খাওয়াচ্ছেন। আমরা আশঙ্কা করছি, এগুলো নিরপেক্ষ নির্বাচনের সম্পূর্ণ পরিপন্থী।
এদিকে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক সোহেল আহমেদকে সভাপতি করে ২১ সদস্যবিশিষ্ট একটি মাদক নিয়ন্ত্রণ কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক সোহেল আহমেদ বলেন, আমরা ইতোমধ্যে একটি মাদক নিয়ন্ত্রণ কমিটি গঠন করেছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভোস্টবৃন্দ এবং নিরাপত্তা শাখার সহযোগিতায় মাদকের বিরুদ্ধে অধিক তৎপরতা চালানো হবে। সকলের সহযোগিতা কামনা করছি।