× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

প্রাথমিকের শিক্ষা কার্যক্রমে হযবরল

কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিবেদক

প্রকাশ : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৫:১৬ পিএম

আপডেট : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৫:২৭ পিএম

প্রাথমিকের শিক্ষা কার্যক্রমে হযবরল

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় সরকারের বাধ্যতামূলক প্রাথমিকের শিক্ষা কার্যক্রমে হযবরল অবস্থা বিরাজ করছে। একদিকে শিক্ষক সংকটে অর্জিত হচ্ছে না শতভাগ শিখন ফল। অপরদিকে অপ্রতুল সড়ক যোগাযোগ, প্রাথমিক শিক্ষা খাতে বরাদ্দকৃত সরকারি অর্থ লোপাট, শিক্ষকদের স্কুলে অনুপস্থিতি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সক্রিয় রাজনীতিতে অংশগ্রহণ, কোচিং বাণিজ্য এবং দরিদ্র্যতায় কলাপাড়া উপকূলীয় এলাকায় প্রাথমিক স্তর থেকে শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার হার বাড়ছে, এমনই অভিমত বিশেষজ্ঞদের।  

সূত্র জানায়, উপজেলার দুর্গম জনপদ চম্পাপুর ইউনিয়নের ৭৬ নম্বর পূর্ব পাটুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সংখ্যা ৩১৫। শিক্ষক রয়েছে মাত্র দুজন। মর্নিং শিফটে শিশু শ্রেণিতে শিক্ষার্থী ৪৮ জন, প্রথম শ্রেণিতে ৫১, দ্বিতীয় শ্রেণিতে ৭৫ শিক্ষার্থী। ডে শিফটে তৃতীয় শ্রেণিতে শিক্ষার্থী রয়েছে ৪৫ জন, চতুর্থ শ্রেণিতে ৫৬ এবং পঞ্চম শ্রেণিতে ৪০। বিদ্যালয়টি থেকে এ বছর ১৪ জন শিক্ষার্থী প্রাথমিকের বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নেবে বলে জানায় সূত্রটি। তবে স্কুল থেকে কতজন শিক্ষার্থী ঝরে পড়েছে সে তথ্য নেই সংশ্লিষ্টদের কাছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. হারুন-অর-রশিদ বলেন, ‘দীর্ঘদিন শিক্ষক সংকটে স্কুলে সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত টানা উপস্থিত থাকতে হচ্ছে, একটুও বিশ্রাম নেওয়ার সুযোগ নেই। এত কাজের চাপে তিনবার মাইনর স্ট্রোক ও কিডনি জটিলতায় ভুগছি। এরপরও স্কুলে চলমান প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত দ্বিতীয় প্রান্তিক মূল্যায়ন পরীক্ষার সকল কাজসহ দাপ্তরিক দায়িত্ব পালনে বাধ্য হচ্ছি। কর্তৃপক্ষকে বারবার বলার পর অন্য স্কুল থেকে সম্প্রতি একজন শিক্ষককে ডেপুটেশনে দিয়েছে।’

উপজেলার লতাচাপলি ইউনিয়নের ৭৮ নম্বর খাজুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি কুয়াকাটা পর্যটন নগরীর পার্শ্ববর্তী গ্রামে হলেও স্কুলটির চারপাশে কোনো পাকা সড়ক না থাকায় বর্ষা মৌসুমে হাঁটুসমান কর্দমাক্ত রাস্তায় শিক্ষার্থীদের হাঁটা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। এছাড়া শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে দেয় সড়কে দুটি ভাঙা কাঠের সাঁকো। ছোট ছোট শিশুরা একহাতে স্কুলব্যাগ, অন্য হাতে ভেজা জামা সামলে টলমল পায়ে সাঁকোতে ওঠে। আর সামান্য অসাবধানতায় সাঁকো থেকে নিচে পড়ে যায়। এভাবে প্রায়ই দুর্ঘটনায় হাত-পা ভেঙে গুরুতর আহত হয় শিশুরা। বই-খাতা পানিতে ভিজে নষ্ট হয়। এতে স্কুলে যেতে অনীহা তৈরি হচ্ছে শিশুদের। এ কারণে বৃষ্টির দিনে স্কুলে শিশুদের উপস্থিতি অর্ধেকের নিচে নেমে আসে; এমন তথ্য জানা যায় শিশুদের পরিবার সূত্রে। এ স্কুল সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকেও ঝরে পড়া শিশুদের তথ্য জানা যায়নি। তবে স্কুলের সময় নদীপাড়ে, সমুদ্র তীরে দরিদ্র পরিবারের অভিভাবকদের সঙ্গে চিংড়ি রেণু সংগ্রহের কাজে দেখা মিলছে প্রাথমিক স্তর থেকে ঝরে পড়া অনেক শিশুকে।

অভিভাবক ও এলাকাবাসী জানান, খাজুরা এলাকার প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর একমাত্র শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এটি। শিশুদের ভবিষ্যৎ রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে দুইটি কালভার্টসহ রাস্তা পাকাকরণ প্রয়োজন। বহুবার বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করেও কোনো সাড়া মেলেনি। ফলে হতাশা বাড়ছে এলাকাবাসীর মধ্যে। বাড়ছে প্রাথমিক শিক্ষা থেকে ঝরে পড়ার শঙ্কাও।

প্রাথমিকের অপর একটি সূত্র জানায়, উপজেলায় ১৭১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী সংখ্যা ৩১৫০ জন। কিন্তু সমন্বিত প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থাপনা তথ্যে (আইপিইএমআইএস) যথাসময়ে শিক্ষার্থীদের তথ্য ইনপুট না দেওয়া এবং যথাযথ কাগজপত্র সংরক্ষণ না করায় ২০২৫ সালে অনুষ্ঠেয় প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় ১২৬০ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণের সুযোগ পাচ্ছে।

শিক্ষা অফিস সূত্র জানায়, উপজেলায় প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে ৩১টি, সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য ১১৪টি। এছাড়া দীর্ঘদিন শিক্ষা অফিসে সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের পদ শূন্য রয়েছে ৩টি, উচ্চমান সহকারী ১, অফিস সহকারী ১ এবং হিসাব সহকারী পদ শূন্য রয়েছে ১টি। জনবল সংকটে প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে বলে দাবি সূত্রটির।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাহিদা বেগম বলেন, জনবল সংকটে প্রাথমিকের শিক্ষা কার্যক্রম কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে। জনবল সংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে। আশা করছি, অচিরেই সংকট সমাধান হবে।

সাহিদা বেগম আরও বলেন, উপজেলার দাসের হাওলা স্কুল ভবনটি ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। অচিরেই অস্থায়ী টিনশেড শ্রেণিকক্ষ তৈরি করে পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। এছাড়া বেশ কিছু স্কুলের সড়ক যোগাযোগ দুর্গম হওয়ায় ওই সেগুলো সংস্কার করা জরুরি। এ বিষয়গুলো উপজেলার মাসিক সমন্বয় সভায় যথাযথ কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা