জাকসু নির্বাচন
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৭:৪৩ পিএম
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) নির্বাচনে ‘সম্প্রতির ঐক্য’ প্যানেলের ভিপি পদপ্রার্থী অমর্ত্য রায় জনের ভোটার ও প্রার্থীতা বাতিল করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এর বিপরীতে প্রার্থীতা ফিরে পেতে হাইকোর্টে রিট করেছেন তিনি।
সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) জনসংযোগ বিভাগের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ড. মোহাম্মদ মহিউদ্দিন স্বাক্ষরিত এক জরুরি সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়। এছাড়াও রিট আজই করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন অমর্ত্য নিজেই।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৭-২০১৮ শিক্ষাবর্ষে ১ম পর্ব স্নাতক (সম্মান) শ্রেণিতে ৪৭তম ব্যাচে ভর্তিকৃত প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষার্থী অমর্ত্য রায় জন গত ১৮ আগস্ট ২০২৫ তারিখে স্নাতকোত্তর পর্বে ভর্তির জন্য আবেদন করলে তা বিবেচনার জন্য গত ০১ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত শিক্ষা পর্ষদের সভায় উপস্থাপিত হয়। সভায় পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্য যাচাই-বাছাই করে দেখা যায়, অমর্ত্য রায় জন ২০২১ সালে ৪র্থ পর্ব স্নাতক (সম্মান) চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন, এবং ৪০৭ ও ৪০৮ নং কোর্সে 'এফ' গ্রেড পেয়ে অকৃতকার্য হন। উক্ত পরীক্ষা ০৬-০৭-২০২৩ তারিখে শুরু হয়ে ১৭-০৮-২০২৩ তারিখে শেষ হয়েছিলো।
তিনি উল্লিখিত দুটি কোর্সে অকৃতকার্য হয়ে ১ম বার ২০২২ সালে অনুষ্ঠিত ৪র্থ পর্ব স্নাতক (সম্মান) চূড়ান্ত পরীক্ষা অর্থাৎ ৪৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের সাথে মানোন্নয়ন পরীক্ষা দেবার জন্য আবেদন করেন। যথাযথ কর্তৃপক্ষ তা অনুমোদন করলে তিনি উক্ত ব্যাচের শিক্ষার্থীদের সাথে ওই দু'টি কোর্সে মানোন্নয়ন পরীক্ষা দেন। কিন্তু তিনি আবারও উভয় কোর্সেই 'এফ' গ্রেড পান অর্থাৎ অকৃতকার্য হন। উক্ত ৪র্থ পর্ব স্নাতক (সম্মান) চূড়ান্ত পরীক্ষা ২৯-০৫-২০২৪ তারিখ থেকে শুরু হয়ে ০৯-০৬-২০২৪ তারিখে শেষ হয়েছিলো।
ওই দুটি কোর্সে অকৃতকার্য হয়ে তিনি ২য় বার ২০২৩ সালে অনুষ্ঠিত ৪র্থ পর্ব স্নাতক (সম্মান) চূড়ান্ত পরীক্ষা অর্থাৎ ৪৯ তম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের সাথে মানোন্নয়ন পরীক্ষা দেবার আবেদন করেন এবং যথাযথ কর্তৃপক্ষ তা অনুমোদন দেয়। তিনি ৩য় বার (অর্থাৎ ২য় বার মানোন্নয়ন) পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে ৪০৭ নং কোর্সে কৃতকার্য ও ৪০৮ নং কোর্সে 'এফ' গ্রেড পান, অর্থাৎ অকৃতকার্য হন। উক্ত পরীক্ষা ১২-০৫-২০২৫ এবং ১৮-০৫-২০২৫ তারিখে অনুষ্ঠিত হয়েছিলো।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় পরীক্ষা অধ্যাদেশ ২০০৩ এর ধারা ১০(ii), ১২(ii) ও ১৩(iv) অনুযায়ী ২০১৯-২০২০ শিক্ষাবর্ষের পূর্বে ভর্তিকৃত একজন শিক্ষার্থী শুধু ২টি কোর্সে 'এফ' গ্রেড পেলে অর্থাৎ অকৃতকার্য হলে উক্ত ২টি কোর্সে একবারই মানোন্নয়ন পরীক্ষা দেবার সুযোগ পাবেন। গত ০১-০৯-২০২৫ তারিখে অনুষ্ঠিত শিক্ষা পর্ষদের সভায় অমর্ত্য রায় জন-এর ২য় বার মানোন্নয়ন পরীক্ষা দেবার বিষয়টি পরীক্ষা অধ্যাদেশ ২০০৩ অনুযায়ী বিধিবহির্ভূত বলে পরিগণিত হয়।
তবে শিক্ষা পর্ষদ তাঁর শিক্ষাজীবনের বিষয়টি মানবিক বিবেচনায় নিয়ে ২য় বার দেয়া পরীক্ষা বিশেষ পরীক্ষা হিসেবে গ্রহণ করবার জন্য সুপারিশ করে। এছাড়া ৪০৮ নং কোর্সে বিশেষ পরীক্ষা দেবার আবেদনটি ২য় বার বিশেষ পরীক্ষা দেয়ার আবেদন হিসেবে গ্রহণ ও স্নাতক (সম্মান) পর্যায়ে কৃতকার্য হওয়া সাপেক্ষে স্নাতকোত্তর শ্রেণিতে ভর্তির আবেদন বিবেচনায় নেবার জন্য সুপারিশ করে। উক্ত সুপারিশসমূহ গত ০৪ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় উপস্থাপিত হলে অনুমোদিত হয়।
এদিকে, রিটের বিষয়ে অমর্ত্য রায় জানান, আমি আমার প্রার্থীতা ফিরে চেয়ে হাইকোর্টে রিট করেছি। জাকসু স্থগিত চেয়ে রিট করিনি। গণমাধ্যম গুলোতে ভুল তথ্য এসেছে। আশা করছি এর সমাধান পাবো।
এ নিয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনের সদস্যসচিব ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক একেএম রাশিদুল আলম বলেন, 'অমর্ত্য নিয়মিত শিক্ষার্থী নন। জাকসু সংবিধান অনুযায়ী অনিয়মিত শিক্ষার্থীরা ভোটার বা প্রার্থী হতে পারেন না। তাই তার প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে।
রিট আবেদনের আগে রবিবার অমর্ত্য রায়ের প্রার্থিতা ফিরিয়ে দিতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, রেজিস্ট্রার ও জাকসু নির্বাচনের প্রধান কমিশনার বরাবর আইনি নোটিশ পাঠানো হয়।
১২ ঘণ্টার মধ্যে প্রার্থিতা বহাল চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার সারা হোসেন ই-মেইলের মাধ্যমে এই আইনি নোটিশ পাঠান।