চবিতে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৫:২৭ পিএম
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষে গুরুতর আহত হয়েছেন সমাজতত্ত্ব বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. মামুন। তাঁর ব্রেইন হেম্পার হওয়ায় অপারেশন করা হয়েছে। অপারেশনের পর কেবিনে স্থানান্তর করা হলে দেখা যায় মামুনের মাথার ব্যান্ডেজে লেখা- ‘হাড় নেই চাপ দিবেন না’।
বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) টানা চারদিন লাইফ সাপোর্ট এবং আইসিইউতে থাকার পর অবস্থার কিছুটা উন্নতির কথা জানিয়েছেন পার্কভিউ হাসপাতালের জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) জিয়াউদ্দিন।
জানা যায়, হামলার সময় ধারালো দেশীয় অস্ত্র দিয়ে মামুনের মাথার পেছনে ব্রেইনের অংশে মারাত্মকভাবে আঘাত করেছে স্থানীয়রা। অপারেশনে তার মাথা থেকে ১৩ টুকরো হাড় বের করা হয়েছে। তার খুলি এখন ফ্রিজে সংরক্ষিত আছে। সুস্থ হয়ে উঠলে দুই মাস পর মামুনের মাথার খুলি লাগাতে হবে বলে বিশেষজ্ঞ ডাক্তাররা জানিয়েছেন। এছাড়া তার নাকে ও মুখে অনেক রক্তক্ষরণের পাশাপাশি মাথার পর্দা ফেটে যায়।
গত ৩১ আগস্ট সংঘর্ষের সময় মামুনের মাথায় ধারালো রামদা, চাপাতি দিয়ে আঘাত করা হয়। গুরুতর অবস্থায় নগরের পার্কভিউ হাসপাতালে আনা হলে ওই দিন রাতে তার অস্ত্রোপচার করে তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। এরপর অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে আইসিউতে পাঠানো হয়। পরে তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি দেখে গতকাল বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) হাসপাতালের কেবিনে স্থানান্তর করা হয়।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ছড়িয়ে পড়া একটি ছবিতে দেখা যায় আহত মামুনের মাথার ব্যান্ডেজে লেখা- ‘হাড় নেই চাপ দিবেন না’। মাথার অংশে খুলি না থাকায় কোনো চাপ যেন না পড়ে তাই সতর্কতাস্বরূপ এটি লেখা হয়েছে।
মামুনের সহপাঠী রাসেল রানা বলেন, ওর অবস্থা বর্তমানে উন্নতির দিকে যাচ্ছে। কেবিনে স্থানান্তর করা হয়েছে। ইশারার মাধ্যমে কথা বলার চেষ্টা করছে। মাথার হাড় ভেঙ্গে ভিতরে টুকরা টুকরো হয়ে গিয়েছিল এবং ভিতরে রক্ত জমাট বেঁধেছিল। এজন্য মাথার পেছনে ব্রেইনের অংশে অপারেশন করা হয়েছে।
তিনি আরোও বলেন, খুলি পুনরায় লাগাতে ডাক্তার সাধারণত দুই মাস সময় চেয়েছেন। পরিস্থিতি ভালো হলে এক মাসের মধ্যে লাগাতে পারে। যদি অবনতি হয় তাহলে আরও বেশি সময় লাগতে পারে। তবে বর্তমানে সে শঙ্কামুক্ত আছে।
পার্কভিউ হাসপাতালের জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) জিয়াউদ্দিন বলেন, মামুন মোটামুটি ভালো আছে। তার জ্ঞানও ফিরে আসছে। বর্তমানে কেবিনে তার চিকিৎসা চলছে। মাথার ব্রেনের অংশে অপারেশন করায় আপাতত খুলি খুলে সংরক্ষণ করা হয়েছে। এ অবস্থায় তার মাথায় হাড় নেই। এক-দুই মাস পর অথবা অবস্থা অনুযায়ী খুলি আবার লাগানো হবে।
উল্লেখ্য, গত শনিবার (৩০ আগস্ট) রাতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেটে ভাড়া বাসায় প্রবেশের সময় দারোয়ানের বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে মারধরের অভিযোগ করেন নারী শিক্ষার্থী। খবর পেয়ে অন্য শিক্ষার্থীরা ছুটে গেলে গ্রামবাসীর সাথে মধ্যরাতে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। এর জেরে রবিবার (৩১ আগস্ট) সারাদিন দফায় দফায় স্থানীয় ও চবি শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪২১ জন শিক্ষার্থী আহত হয় বলে নিশ্চিত করেন চবি মেডিকেল প্রধান ডা. আবু তৈয়ব। এরমধ্যে ৪ জনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় শুরুতে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়।