বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৩:৫০ পিএম
আপডেট : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ২১:৩৬ পিএম
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনায় ৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে হাটহাজারী থানা পুলিশ। গত মঙ্গলবার রাতে হাটহাজারীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে গ্রেপ্তারের বিষয়টি গণমাধ্যমে নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হাটহাজারী সার্কেল) কাজী মো. তারেক আজিজ।
এদিকে স্থানীয়দের সঙ্গে শিক্ষার্থীরেদ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনায় আহত দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের একজনকে বেসরকারি পার্কভিউ হাসপাতালের আইসিইউতে এবং অন্যজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে। এদিকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) সিন্ডিকেট সভায় পাসকৃত সব সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে বুধবার অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে শাখা ইসলামী ছাত্রশিবির।
হাটহাজারী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী মো. তারেক আজিজ বলেন, ‘হাটহাজারীর বিভিন্ন স্থানে আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালায়। গ্রেপ্তার আটজন সংঘর্ষের ঘটনায় দায়ের করা মামলার আসামি।’
গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা হলেনÑ মো. ইমরান হোসেন (৩৫), হাসান (২২), রাসেল (৩০), মো. আলমগীর (৩৫), মো. নজরুল ইসলাম (৩০), মো. জাহেদ (৩০), মো. আরমান (২৪) ও দিদারুল আলম (৪৬)। তারা সবাই চট্টগ্রামের হাটহাজারীর ফতেহপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডের বাসিন্দা। পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারদের মধ্যে মামলার এজাহারে ইমরান ৬১ নম্বর, হাসান ৬৪ নম্বর এবং রাসেল ৮৬ নম্বর আসামি।
এর আগে সংঘর্ষের ঘটনার দুদিন পর গত মঙ্গলবার বিকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা দপ্তরের ডেপুটি রেজিস্ট্রার আবদুর রহিম বাদী হয়ে স্থানীয় যুবলীগ কর্মী মো. হানিফকে প্রধান আসামি করে ৯৫ জনের নামে মামলা করেন। সেখানে ৮০০ থেকে ১ হাজার জনকে নাম ছাড়া আসামি করা হয়।
প্রসঙ্গত, গত শনিবার রাত সোয়া ১২টা থেকে পরদিন দুপুর পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেট এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের কয়েক দফা সংঘর্ষ ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে মারধরের অভিযোগ থেকে সংঘর্ষের সূত্রপাত। সংঘর্ষে সহ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মো. কামাল উদ্দিন, প্রক্টর অধ্যাপক তানভীর মোহাম্মদ হায়দার আরিফ ও অন্তত ২০০ শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, এ ঘটনায় ১০ থেকে ১২ জন স্থানীয় বাসিন্দা আহত হন।
আহত শিক্ষার্থীদের অবস্থা আশঙ্কাজনক
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্থানীয়দের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনায় মাথায় মারাত্মকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত ইমতিয়াজ আহমেদ সায়েমের (২৪) অবস্থা আশঙ্কাজনক। তার চিকিৎসায় পার্কভিউ হাসপাতালে দুজন নিউরো সার্জন, একজন নিউরো মেডিসিন, একজন মেডিসিন, একজন অর্থোপেডিক ও একজন আইসিইউ বিশেষজ্ঞের সমন্বয়ে মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। অন্যদিকে মারাত্মক আহত ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী নাইমুল ইসলামের ভাস্কুলার ইনজুরি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে।
এদিকে স্থানীয় বেসরকারি হাসপাতাল পার্কভিউয়ের আইসিইউ থেকে কেবিনে স্থানান্তর করা হয়েছে আহত শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আলম মামুনকে।
পার্কভিউ হাসপাতালের অতিরিক্ত জেনারেল ম্যানেজার মো. হুমায়ুন কবির বলেন, ‘হাসপাতালে ভর্তি আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। চিকিৎসকরা ধারণা করছেন, তার মাথায় রক্ত জমাট হয়ে আছে। তাই অপারেশন প্রয়োজন হবে। আরেকজনের অবস্থার উন্নতি হওয়ায় তাকে কেবিনে স্থানান্তর করা হয়েছে। তিনি এখন কথা বলতে পারছেন।’
সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের দাবিতে শিবিরের অবস্থান কর্মসূচি
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) সিন্ডিকেট সভায় পাসকৃত সব সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে শাখা ইসলামী ছাত্রশিবির। বুধবার বিকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের জিরো পয়েন্টে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা।
এ সময় ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের ‘লেগেছে রে লেগেছে, রক্তে আগুন লেগেছে’, ‘সন্ত্রাসীদের ঠিকানা এই ক্যাম্পাসে হবে না’, ‘এই মুহূর্তে দরকার সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার’, ‘এই মুহূর্তে দরকার নিরাপদ ক্যাম্পাস’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে শোনা যায়।
অবস্থান কর্মসূচিতে শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘স্থানীয়দের হামলায় আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েক শিক্ষার্থীর শারীরিক অবস্থা খুবই খারাপ। তাদের উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা প্রশাসনকে করতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সংঘর্ষের ঘটনার তদন্তের জন্য বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করার জন্য আমরা দাবি জানিয়েছিলাম। সিন্ডিকেটে সেই দাবি পাস হয়েছে। প্রশাসনকে অবশ্যই এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের মাধ্যমে অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।’
এ সময় চট্টগ্রাম মহানগর দক্ষিণ শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইব্রাহিম হোসেন রনি বলেন, ‘চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে গত ৫ বছরে ২০টি সংঘর্ষ হয়েছে। কিন্তু কোনো প্রশাসনই কার্যকরী সমাধান করতে পারেনি। আমরা ভেবেছিলাম এই প্রশাসন তা পারবে। কিন্তু তারাও তা পারেনি। সংঘর্ষের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। প্রশাসন যদি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা দিতে না পারে তাহলে তাদের পদত্যাগ করা উচিত।’
উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্থানীয়দের দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনায় জরুরি সিন্ডিকেট সভায় ১৩ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট সভা। গত মঙ্গলবার রাত ৮টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সভাকক্ষে ৫৬৩তম আয়োজিত সিন্ডিকেট সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসব সিদ্ধান্ত জানায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।