বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ২১:২১ পিএম
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শিক্ষার্থীদের সাথে স্থানীয়দের সংঘর্ষের ঘটনায় এখনও ক্যাম্পাসজুড়ে থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে। ২নং গেইট এলাকায় বেশিরভাগ দোকানপাট বন্ধ রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় ও আশপাশের এলাকায় জারি রয়েছে ১৪৪ ধারা।
সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, জোবরা গ্রামের মানুষজন বাইরে বের হচ্ছেন না। পুরুষশূন্য অবস্থায় আছে গোটা জোবরা গ্রাম। ক্যাম্পাসজুড়ে টহলে রয়েছে যৌথবাহিনীর সদস্যরা। উৎকণ্ঠায় ক্যাম্পাস ছাড়তে দেখা গেছে কিছু শিক্ষার্থীকে। খুবই সীমিত আকারে খোলা হয়েছে নিত্য প্রয়োজনীয় দোকানপাট।
এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীরা বলছেন এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে পরিবেশ নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের দূরত্ব কমিয়ে নিরাপদ করতে হবে ক্যাম্পাস।
সংঘর্ষের ঘটনায় সোমবার রাতে ২১ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বন্ধ রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়। এছাড়া ক্যাম্পাসে টহল দিচ্ছে সেনাবাহিনী, বিজিবি ও র্যাবের সমন্বয়ে যৌথবাহিনী। ১৪৪ ধারা জারি থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের আশেপাশে কোন ধরনের সভা-সমাবেশ, বিক্ষোভ করা যাবে না।
এর আগে, শনিবার রাতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেটে ভাড়া বাসায় প্রবেশের সময় দারোয়ানের বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে মারধরের শিকার হন নারী শিক্ষার্থী। খবর পেয়ে অন্য শিক্ষার্থীরা ছুটে গেলে গ্রামবাসীর সাথে মধ্যরাতে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। এর জেরে রোববার সারাদিন দফায় দফায় স্থানীয় ও চবি শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। আহত হয় প্রোভিসি, প্রক্টর, গণমাধ্যমকর্মীসহ অন্তত দুই শতাধিক শিক্ষার্থী।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় ও জোবরা-ফতেপুর এলাকার সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের জন্য ২১ সদস্যের একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে। এই কমিটির দায়িত্বে আছেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দিন।
নারী শিক্ষার্থীদের অবস্থান কর্মসূচি
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়াহইয়া আখতারের সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যের প্রতিবাদ প্রতিবাদ কর্মসূচি ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে নারী শিক্ষার্থীরা। সোমবার বিকেল ৪টায় শহীদ মিনারে এই বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এসময় শিক্ষার্থীরা “আহত ১৫শ, হয়ে গেলো ২শ, আমার ভাই আইসিইউতে, ভিসি গেছে নিয়োগ বোর্ডে, নিরাপত্তার খবর নাই, প্রশাসন জবাব চাই, ম্যাঙ্গবার ভিসি, কল পেলে খুশি, আমার ভাইয়ের রক্ত বৃথা যেতে দিবো না ইত্যাদি স্লোগান দিতে দেখা যায়।
আন্দোলনে শিক্ষার্থীরা বলেন, “দেশের চারটা স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়ের একটার ভিসি তিনি। অথচ তার বক্তব্যে দেখা গেল পুরোটা জোবরাবাসির পক্ষে। চবি মেডিকেলের তথ্যমতে ১৫শ শিক্ষার্থী আহত হয়েছে, কিন্তু তিনি বলছেন মাত্র ২শ জন আহত। আমার ভাইয়েরা জোবরা বাসির হাতে রক্তাক্ত হচ্ছে, আর তিনি এসি রুমে বসে শিক্ষক নিয়োগ দিচ্ছেন। তিনি স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাসহ প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানালেন অথচ আমাদের ভাইয়েরা টানা ৬ ঘণ্টা জোবরা বাসির হাতে মার খেলেও কোনো সহায়তা আসেনি।”
সানজিদা নামের আরেক শিক্ষার্থী বলেন, “আমরা উপাচার্যের বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। যাদের প্রতি তিনি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছেন সেই স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কি এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে একটি বিবৃতি পর্যন্ত দিয়েছে?
উল্লেখ্য, রবিবার রাত ১০টার সংবাদ সম্মেলনে চবি শিক্ষার্থীদের সাথে জোবরা গ্রামবাসীর সংঘর্ষ প্রসঙ্গে বক্তব্য দেন চবি উপাচার্য। তার সেই বক্তব্যের প্রতিবাদেই এদিন নারী শিক্ষার্থীরা অবস্থান কর্মসূচি ও মিছিল করে।
চাকসু খসড়া ভোটার তালিকা প্রস্তুত, মোট ভোটার ২৫,৮৬৬
এদিকে থেমে নেই চাকসু নির্বাচনী কার্যক্রম। খসড়া ভোটার তালিকা প্রস্তুত হয়েছে। চাকসুতে মোট তালিকাভুক্ত ভোটার হয়েছেন ২৫,৮৬৬জন। সোমবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছে চাকসুর প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. মনির উদ্দিন বলেন, " আমরা মোট ২৫,৮৬৬জন ভোটারকে তালিকাভুক্ত করেছি। এরমধ্যে নারী ভোটার সংখ্যা ১০,৮৪১জন এবং পুরুষ ভোটার সংখ্যা ১৫,০২৫জন। তবে সংখ্যাগত পরিবর্তন আসতেও পারে। পূনরায় চেক করে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করব।"
চাকসুর নির্বাচনী তফসিল অনুযায়ী সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) চাকসুর খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের কথা। আগামী ১২ অক্টোবর (রবিবার) অনুষ্ঠিত হবে চাকসু নির্বাচন।
অপারেশনের পর লাইফ সাপোর্টে চবি শিক্ষার্থী মামুন
শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের সঙ্গে সংঘর্ষে গুরুতর আহত হন সমাজতত্ত্ব বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. মামুন। তার মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। তার নাকে ও মুখে বেশি পরিমাণে রক্তক্ষরণের পাশাপাশি কানের পর্দা ফেটে গেছে। রোববার রাত আনুমানিক ১টার দিকে চট্টগ্রামের পার্কভিউ হসপিটালে মামুনের ব্রেইন অপারেশন সম্পন্ন হয়। আগামী ৭২ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রাখার পর তার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে জানা যাবে।
জানা যায়, হামলার সময় শক্ত ধারালো কোনো বস্তু দিয়ে মামুনের মাথায় আঘাত করা হয়। ফলে অনেক রক্তক্ষরণ হয়েছে।
পার্কভিউ হাসপাতালের জি.এম জানিয়েছেন, মামুনের অবস্থা কিছুটা ভালো। তবে লাইফ সাপোর্টে আছে। পরবর্তীতে বিস্তারিত জানাতে পারবো।