প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৮:০৪ পিএম
ভেন. প্রজ্ঞানন্দ মহাথেরো
শিক্ষা বিস্তার ও সমাজ সেবায় অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘মাদার তেরেসা গোল্ডেন অ্যাওয়ার্ড’ পেলেন বিশিষ্ট বৌদ্ধ সন্ন্যাসী ভেন. প্রজ্ঞানন্দ মহাথেরো। মানবতার মহান প্রতীক মাদার তেরেসার ১১৫তম জন্মবার্ষিকী পালন উপলক্ষে গত ৩০ আগস্ট ‘মাদার তেরেসা রিসার্চ ওয়েলফেয়ার কাউন্সিল’ তাকে এ পদক প্রদান করেন। শিক্ষা এবং সমাজ সংস্কারে অনন্য অবদানের জন্য ২০২৩ সালে এডুকেশন ওয়াচ সম্মাননা পেয়েছিলেন ভবঘুরে বৌদ্ধ সন্ন্যাসী ভেন. প্রজ্ঞানন্দ মহাথেরো।
সুশিক্ষার প্রসার ও সমাজ সংস্কারে নিবেদিত প্রাণ ভেন. প্রজ্ঞানন্দ মহাথেরোর জন্ম ১৯৪৭ সালে, খাগড়াছড়ি জেলার দিঘীনালা উপজেলার বাবুছড়া গ্রামে। তার পারিবারিক নাম বলেন্দ্র দেব চাকমা। মা ইন্দ্রপুডি চাকমা এবং বাবা নরেন্দ্র লাল চাকমা। শৈশবকাল থেকেই নিদারুণ অভাবের সাথে লড়াই করা এক বালক পার্বত্য চট্রল বৌদ্ধ অনাথ আশ্রমে আসেন ১৯৬৬ সালে। মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন ১৯৬৮ সালে; ঐ বছরই ভিক্ষুত্বে দীক্ষা গ্রহণ করেন। ১৯৭২ সালে উচ্চ মাধ্যমিক, ১৯৭৭ সালে চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা সাহিত্যে বিএ অনার্স, ১৯৭৮ সালে এমএ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পালি সাহিত্যে এমএ ডিগ্রি অর্জন করেন ১৯৮০ সালে।
ঐতিহ্যবাহী ‘পার্বত্য চট্টল বৌদ্ধ অনাথ আশ্রম’ এর কার্যকরী পরিষদের সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হন ১৯৭৪ সালে। সমমনা পাঁচ জন ভিক্ষু মিলে রাঙ্গামাটির রাঙ্গাপানি ও ভেদভেদী গ্রামের মধ্যবর্তী স্থানে প্রতিষ্ঠা করেন ‘রাঙ্গাপানি মিলন বিহার’। এখানেই স্থাপন করেন পার্বত্য চট্টল বৌদ্ধ অনাথ আশ্রমের শাখা কার্যালয় যাকে ঘিরে রচিত হয় স্বপ্নের ঠিকানা ‘মোনঘর’। একে একে প্রতিষ্ঠা করেন অনাথ আশ্রম আবাসিক উচ্চ বিদ্যালয়, ধর্মোদয় পালি কলেজ, মোনঘর শিশু সদন, মোনঘর আবাসিক বিদ্যালয়, মোনঘর পালি কলেজ। ভেন. প্রজ্ঞানন্দ মহাথেরো মোনঘরের কার্যনির্বাহী পরিষদের সাধারণ সম্পাদক পদে সফলভাবে দায়িত্ব পালন করেন দীর্ঘ ৩৪ বছর। ১৯৯১ খ্রিষ্টাব্দে ঢাকার শাক্যমুনি বৌদ্ধ বিহার কমপ্লেক্সে প্রতিষ্ঠা করেন ‘বনফুল শিশু সদন’। ২০০৪ সালে শিশু সদনের বর্ধিত রূপ হিসেবে গড়ে তোলেন ‘বনফুল আদিবাসী গ্রীনহার্ট কলেজ’। এভাবেই জ্ঞানের মশাল হাতে সুশিক্ষার আলো পৌঁছে দিতে আত্মনিবেদন করেছেন একজন বৌদ্ধ ভিক্ষু ভেন. প্রজ্ঞানন্দ মহাথেরো।