বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৭ আগস্ট ২০২৫ ১৭:৫৬ পিএম
আপডেট : ২৭ আগস্ট ২০২৫ ১৭:৫৭ পিএম
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট অত্যন্ত প্রকট। ২০ শিক্ষার্থীর বিপরীতে একজন শিক্ষক থাকার কথা থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো বিভাগেই তা নেই। এতে ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান। শিক্ষার্থীরা বঞ্চিত হচ্ছে গুণগত শিক্ষা থেকে। তৈরি হয়েছে ভয়াবহ সেশনজটের শঙ্কা। শুধু শিক্ষক সংকটই নয়। পর্যাপ্ত জনবল সংকটে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনাতেও হিমশিম খাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
জানা যায়, বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে ১০ হাজার ৮০৯ শিক্ষার্থী রয়েছে। উচ্চশিক্ষার আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসারে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতি ২০ শিক্ষার্থীর জন্য একজন শিক্ষক হিসেবে ৫৪০ শিক্ষক থাকার কথা থাকলেও আছেন ২২০ শিক্ষক। এদের মধ্যে আবার অনেকে আছেন শিক্ষাছুটিতে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৫টি বিভাগের মধ্যে অধিকাংশ বিভাগেই রয়েছে শিক্ষক সংকট। এর মধ্যে ব্যবস্থাপনা বিভাগে মাত্র দুজন, ইতিহাস বিভাগ, পরিসংখ্যান বিভাগ, পপুলেশন সায়েন্স বিভাগে মাত্র তিনজন, সমাজবিজ্ঞান বিভাগ, নৃবিজ্ঞান বিভাগ, মার্কেটিং বিভাগে মাত্র চারজন শিক্ষক দিয়েই একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে, যা চাহিদার তুলনায় খুবই অপ্রতুল। প্রতিটি বিভাগেই ৫টি ব্যাচে মোট ২৫০-৩০০ জন করে শিক্ষার্থী থাকলেও অল্পসংখ্যক শিক্ষক দিয়ে একাডেমিক ও গবেষণা কার্যক্রম চালানো বিভাগগুলোর জন্য অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রধান তরিকুল ইসলাম জনি বলেন, ‘বিভাগে শুরুতে চারজন শিক্ষক থাকলেও বর্তমানে আছেন মাত্র দুজন। বিভাগে বিবিএ ও এমবিএ পাঠ্যক্রম চালু রয়েছে। কিন্তু মাত্র দুজন শিক্ষক দিয়ে এসব কার্যক্রম পরিচালনা করা অত্যন্ত কঠিন। শিক্ষক সংকটে শিক্ষার্থীরা পরামর্শ বা সমস্যার সমাধানের জন্য শিক্ষকদের সঙ্গে প্রত্যাশিতভাবে যোগাযোগও করতে পারছে না।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘জনবল সংকটের বিষয়টি জানিয়ে ইউজিসিকে কয়েক দফা চিঠি দিয়েছি। কিন্তু ইউজিসি থেকে পর্যাপ্ত জনবল নিয়োগের অনুমতি পাইনি। অনুমতি পেলেই আমরা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করব।’
এ বিষয়ে ইউজিসির পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ম্যানেজমেন্ট বিভাগের পরিচালক জামিনুর রহমান বলেন, ‘ইউজিসিতে খুব শিগগিরই জনবল ছাড় সংক্রান্ত একটি সভা অনুষ্ঠিত হবে। সেই সভায় এই বিষয়টি উঠানো হবে।’