সিন্ডিকেট সভা আজ
ইউছুব ওসমান, জবি
প্রকাশ : ২৬ আগস্ট ২০২৫ ১১:১২ এএম
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (জকসু) নীতিমালা চূড়ান্তকরণ ও নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপের দাবির মুখে আজ মঙ্গলবার বিশেষ সিন্ডিকেট অনুষ্ঠিত হবে। প্রকাশ, খসড়া নীতিমালায় উঠে যাচ্ছে বয়সসীমা। এর আগের খসড়া নীতিমালায় বয়সসীমা ছিল ২৮ বছর। বয়সের কোনো সময়সীমা ছাড়া আর তেমন কোনো পরিবর্তন আসছে না।
২০০৫ সালে কলেজ থেকে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হয় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়। কিন্তু ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০০৫’ এ ছাত্র সংসদ-সম্পর্কিত কোনো ধারা না থাকায় প্রতিষ্ঠার পর একবারও জকসু নির্বাচন হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বহুবার নির্বাচনের দাবি করলেও এই ‘আইনি জটিলতার’ কারণে তা আয়োজন করা যায়নি। চলতি বছরের ২ জানুয়ারি ৯৯তম সিন্ডিকেট সভায় প্রথমবারের মতো জকসুর জন্য একটি নীতিমালার খসড়া উত্থাপন করা হয়।
এদিকে, জকসুর নির্বাচনের দাবিতে গত তিন দিন ধরে ক্যাম্পাসে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। নতুন বিধিমালায় ছাত্র সংসদের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছেÑ জকসু নির্বাচনের লক্ষ্যেÑ ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী’ বলতে সেই সকল পূর্ণকালীন ছাত্র-ছাত্রীদের বোঝানো হবে, যারা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের লক্ষ্যে প্রথম বর্ষ প্রথম সেমিস্টারে ভর্তি হয়ে অধ্যয়ন শুরু করেছে এবং মাস্টার্স ডিগ্রি পর্যন্ত শিক্ষাগ্রহণ অব্যাহত রেখেছে। এ ছাড়াও শুধুমাত্র ১(১) বিধিতে উল্লিখিত যোগ্যতাসম্পন্ন এবং নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার দিন নিয়মিত শিক্ষার্থীরাই ভোটার হওয়ার যোগ্য।
অন্যদিকে, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো বিশেষ ডিগ্রি বা কোর্সে অধ্যয়নরত কিংবা দেশ বা বিদেশের সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরিরতরা ভোটার হওয়ার অযোগ্য বলে বিবেচিত হবে। এ ছাড়াও প্রফেশনাল কোর্স/প্রোগ্রাম (যেমন- MBA, EMBA, M.Ed. ইত্যাদি), পেশাদার/এক্সিকিউটিভ/বিশেষ স্নাতকোত্তর কোর্স, এম.ফিল, পিএইচডি, DBA বা সমমানের কোর্স, ডিপ্লোমা ও সার্টিফিকেট কোর্স, ভাষা কোর্স ও অনুরূপ অন্যান্য ফোর্সের শিক্ষার্থীরা ভোটার হতে পারবে না।
এ ছাড়াও, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কোনো কলেজ/প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ভোটার হতে পারবে না। অন্যদিকে ১.(১) ও ১.(২) বিধিতে বর্ণিত যোগ্যতা সম্পন্ন ভোটাররা নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ারও যোগ্য বলে বিবেচিত হবে।
এদিকে খসড়া নীতিমালায়, পদাধিকারীদের নির্বাচন পদ্ধতিতে বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে (এক্স অফিসিও) সভাপতি হবেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ স্বয়ংক্রিয়ভাবে (এক্স অফিসিও) কোষাধ্যক্ষ মনোনীত হবেন। সভাপতি ও কোষাধ্যক্ষ ব্যতীত অন্যান্য সকল পদাধিকারী ও নির্বাহী কমিটির সদস্যরা সরাসরি শিক্ষার্থী সংসদের সাধারণ সদস্যদের ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হবেন, যা নির্ধারিত নির্বাচনী বিধিমালা অনুযায়ী সম্পন্ন হবে।
এ ছাড়াও, নির্বাচিত প্রতিনিধিরা এক বছর (৩৬৫ দিন) মেয়াদে দায়িত্ব পালন করবেন। পরবর্তী নির্বাচন তাদের কার্যকালের শেষ হওয়ার পূর্বে ৪৫ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে। যদি নির্বাচন নির্ধারিত সময়ে অনুষ্ঠিত না হয়, তবে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা সর্বোচ্চ ৬০ দিন পর্যন্ত অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করবেন। এই সময়সীমা অতিক্রান্ত হলে শিক্ষার্থী সংসদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিলুপ্ত হয়ে যাবে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কমিটির সদস্য ও শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদদীন বলেন, শিক্ষার্থীদের প্রস্তাবিত নীতিমালার আলোকেই সিন্ডিকেটে চূড়ান্ত হবে জকসুর নীতিমালা। সিন্ডিকেট মিটিং শেষে জানা যাবে কোন কোন নীতিমালা থাকছে।
জবি শাখা ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি একেএম রাকিব বলেন, যেটা আছে সেটা ঠিক আছে। তবে আমরা নারী ও বিজ্ঞান বিষয়ক সম্পাদক যুক্ত করার প্রস্তাব করেছি।
জবি শাখা সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রটের সভাপতি ইভান তাহসিভ বলেন, জকসু নীতিমালার প্রস্তাবিত গঠনতন্ত্রের প্রথম খসড়ায় আমরা দেখেছি ভিসির হাতে পুরো ক্ষমতা ন্যস্ত। তিনি যেকোনো সময় কমিটি বিলুপ্ত করে দিতে পারবেন। কাকে, কখন প্রাথমিকভাবে আমরা এই বিষয়টির বিপক্ষে মত দেই।
জবি শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি রিয়াজুল বলেন, ছাত্র বলতে যারা নিয়মিত মাস্টার্স পর্যন্ত, শুধু তারা থাকবে। যাদের ৩ বছরের বেশি গ্যাপ থাকবে তাদের মাস্টার্স রানিং থাকলেও প্রার্থী হতে পারবে না ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. রেজাউল করিম বলেন, আমরা দ্রুত কাজটি শেষ করতে সব সময়ই আন্তরিক।
উল্লেখ্য, জগন্নাথ কলেজ থাকার সময়ে মোট ১৪ বার ছাত্র সংসদ নির্বাচন হয়েছে। তার মধ্যে সর্বপ্রথম নির্বাচন হয় ১৯৫৪-৫৫ শিক্ষাবর্ষে। সর্বশেষ ১৯৮৭-৮৮ শিক্ষাবর্ষে ছাত্র সংসদের ভিপি নির্বাচিত হন মো. আলমগীর সিকদার লোটন ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন জাহাঙ্গীর সিকদার জোটন।