নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল
প্রকাশ : ২৫ আগস্ট ২০২৫ ১৯:১০ পিএম
আপডেট : ২৫ আগস্ট ২০২৫ ১৯:১৫ পিএম
নার্সিং কলেজের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার চারমাস পার হলেও হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় ফের কর্মসূচি শুরু করেছে বরিশাল নার্সিং কলেজের শিক্ষার্থীরা। সোমবার (২৫ আগস্ট) সকাল ১০টায় প্রশাসনিক ভবনের সামনে জড়ো হয়ে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ শুরু করেন।
বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী শাকিল হোসের বলেন, নার্সিং কলেজের শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবিতে আমরা আন্দোলন শুরু করেছিলাম। গত ৬ মে আমাদের আন্দোলনে বহিরাগতদের এনে হামলা চালানো হয়। আমরা হামলাকারী ও তাদের মদতদাতাদের ওই কলেজের শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে ক্লাস বর্জন, ক্লিনিক্যাল প্র্যাক্টিস ও ল্যাব প্র্যাক্টিস বন্ধ ঘোষণা করেছি।
অপর শিক্ষার্থী শামীম হোসেন বলেন, ঘটনার দীর্ঘ চারমাস হয়ে গেলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। আমাদের লাঞ্ছিত করেও যারা ক্যাম্পাসে আছেন তাদের দ্রুত অপসারণ করতে হবে। নয়তো এই আন্দোলন অনির্দিষ্টকালের জন্য চলমান থাকবে।
স্টুডেন্ট নার্সেস ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশন বরিশাল নার্সিং কলেজের দপ্তর সম্পাদক ফজলে রাব্বি বলেন, আমাদের ওপর হামলায় মদদ দিয়েছেন আমাদের শিক্ষক আলী আসগর, সাইব হোসাইন রনি ও ফরিদা বেগম। তারা এখনও স্বপদে বহাল রয়েছেন।
দ্রুত তাদের অপসারণ করতে হবে। এজন্য আমরা ধারাবাহিক কর্মসূচি নিয়ে ক্লাস বর্জন ও বিক্ষোভ করে অধ্যক্ষের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। আমাদের দাবি যতোদিন পর্যন্ত আদায় না হবে ততোদিন আমাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বলেন, গত ৬ মে চারদফার যৌক্তিক দাবিতে সারাদেশের সকল নার্সিং কলেজের সঙ্গে একাত্মতা রেখে বরিশাল নার্সিং কলেজের শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন শুরু করে। শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে হামলার প্রত্যক্ষ মদদ দাতা, বহিরাগতদের ডেকে এনে শিক্ষার্থীদের লাঞ্ছনা, হেনস্তা ও হুমকি প্রদানসহ বিভিন্ন সময়ে শিক্ষার্থীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে ক্যাম্পাসে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম, আধিপত্য বিস্তার, নারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আপত্তিকর শব্দ ব্যবহার ও যৌন হয়রানিসহ একাধিক গুরুত্বর অভিযোগে অভিযুক্ত শিক্ষক আলী আজগর এখনও কলেজ থেকে অপসারিত হয়নি।
এছাড়াও শিক্ষার্থীদের হুমকি প্রদান, হামলায় সরাসরি অংশগ্রহণ করা, নারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ আচরণসহ বিভিন্ন অভিযোগে অভিযুক্ত অন্য দুই শিক্ষক সাইব হোসাইন রনি এবং ফরিদা বেগমও স্বপদে বহাল রয়েছেন।