× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

দুই শিক্ষকের কাঁধে পুরো স্কুল

শফিক সরকার, ময়মনসিংহ

প্রকাশ : ২৫ আগস্ট ২০২৫ ১০:১৬ এএম

৬৬ নম্বর চন্দনিআটা সরকারি প্রাইমারি স্কুল ভবন। প্রবা ফটো

৬৬ নম্বর চন্দনিআটা সরকারি প্রাইমারি স্কুল ভবন। প্রবা ফটো

দুজন শিক্ষক দিয়ে চলছে স্কুলটি। এতে শিক্ষার্থীরা পিছিয়ে পড়ছেন পড়াশোনায়। স্কুলটির প্রতি দায়িত্বশীলদেরও নজর নেই। কিন্তু শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা স্কুলটিতে শিক্ষক বাড়ানোর দাবি তুলেছেন। বর্তমানে এতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক দিয়ে স্কুলটি চলছে। এক যুগ ধরে নেই প্রধান শিক্ষক। 

স্কুলটিতে নতুন শিক্ষক দেওয়া হলেও দুই-তিন মাস থেকেই বদলি হয়ে যান অন্য স্কুলে। এভাবেই বছর পর বছর ধরে চলছে ময়মনসিংহের মুক্তাগাছার চন্দনিআটা সরকারি প্রাইমারি স্কুলটি। শিক্ষা কর্মকর্তা থেকেও নিয়মিত খোঁজ নেওয়া হয় না স্কুলটির।

এলাকাবাসী এই স্কুল নিয়ে নিজেদের ক্ষোভের কথা জানিয়েছেন। তবে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বলছেন, নিয়মিত খবর নিলেও শিক্ষক টিকাতে পারছেন না তারা। 

ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলা সদর থেকে ৩৬ কিলোমিটার দূরে ৬৬ নম্বর চন্দনিআটা সরকারি প্রাইমারি স্কুলটি। এটি উপজেলার দাওগাঁও ইউনিয়নের চন্দনিআটা গ্রামে। মুক্তাগাছার সীমান্ত এলাকা ও ফুলবাড়িয়ার সীমান্ত এলাকায় স্কুলটি। মুক্তাগাছায় সরকারি প্রাইমারি স্কুল আছে ১৬১টি। তার মধ্যে চন্দনিআটা একটি। এতে এ বছর শিক্ষার্থী রয়েছে ১৫২ জন। স্কুলের শিক্ষকের পদ আছে ৭টি। তার মধ্যে শিক্ষক আছেন ৪ জন। তাদের মধ্যে একজন দুই মাস ধরে মাতৃত্বকালীন ছুটিতে। অন্য আরেকজন জটিল রোগে তিন মাস ধরে ছুটিতে।

এখন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক দুজন স্কুলটি চালাচ্ছেন। একজন কোনো কারণে অনুপস্থিত থাকলে ওইদিন শিক্ষক থাকেন একজন। একজনকেই স্কুলটি চালিয়ে নিতে হয়। উল্লেখ্য, গত এক যুগ ধরে নেই প্রধান শিক্ষক। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়েই চলছে স্কুলটি।

অভিযোগ রয়েছে, বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শরিফ আহমেদ প্রায় সময়ই স্কুলে আসেন না। এজন্য তাকে সম্প্রতি উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে শোকজ করা হয়েছে।

এলাকার বাসিন্দা আবুল হোসেন বলেন, এভাবে একটি স্কুল চলতে পারে না। যদিও উপজেলা সদর থেকে অনেক দূরে স্কুলটি। এরপরও এভাবে শিক্ষক ছাড়া একটি স্কুল কীভাবে চলতে পারে। আমরা চাই দ্রুত সমাধান।

সহকারী শিক্ষক আব্দুল হালিম বলেন, আমিই একমাত্র শিক্ষক। যে কিনা ১৫ বছর ধরে স্কুলে আছি। এই ১৫ বছরে প্রায় অর্ধশত শিক্ষক গেছেন আর এসেছেন। তিনি বলেন, আমি এই এলাকার না। প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূর থেকে এই স্কুলে আসি। আল্লাহ যতদিন রাখবেন, ততদিন এ স্কুলে থাকার ইচ্ছে আছে।

দুই শিক্ষক দিয়ে ক্লাস চালানোর কষ্টের কথা স্বীকার করে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শরিফ আহমেদ বলেন, দুজন শিক্ষক আমরা। প্রতি শিফটে তিন শ্রেণিতে ক্লাস থাকে। আমরা অনেক কষ্ট করে ক্লাস চালিয়ে যাই। বিদ্যালয়ে শিক্ষকের পদ আছে ৭ জনের। আছে ৪ জন। তার মধ্যে একজন মাতৃত্বকালীন ছুটিতে আর অন্যজন গুরুতর অসুস্থ হওয়ায় ছুটিতে রয়েছেন। কিছু করার নেই। আমরাই ক্লাস চালিয়ে যাচ্ছি।

ব্যক্তিগত তহবিল থেকে একজন খণ্ডকালীন শিক্ষক রেখেছি। এর বাইরেও ব্যক্তিগত উদ্যোগে ডিজিটাল বোর্ড বসিয়েছি। এ সময় তিনি শিক্ষক না থাকার পেছনে প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির নেতাদের দায়ী করেছেন।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি আব্দুল জলিল বলেন, একদিকে রিমোট এরিয়া আর অন্যদিকে বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের প্রভাব সৃষ্টি করে রাখার কারণে নতুন শিক্ষকরা থাকতে চান না। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন সময় উপজেলা মিটিংয়ে আলোচনা হয়েছে।

মুক্তাগাছা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কবিতা নন্দী প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, দুই উপজেলার সীমানায় প্রত্যন্ত অঞ্চলে স্কুলটি। এ কারণে কেউ ওই স্কুলে যেতে চায় না। সেখানে পদায়ন করলেও নানা তদবিরে অন্যত্র চলে যায়। স্কলটি সঠিকভাবে পরিচালনা করার জন্য নিয়মিত সহকারী শিক্ষা অফিসারদের পাঠানো হচ্ছে। এ ছাড়া চারপাশে একাধিক মাদ্রাসা গড়ে উঠায় দিন দিন শিক্ষার্থী কমে যাচ্ছে। 

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা