বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৭ আগস্ট ২০২৫ ১৭:৩৪ পিএম
আপডেট : ১৭ আগস্ট ২০২৫ ১৭:৩৭ পিএম
রবিবার (১৭ আগস্ট) রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের চিত্রটা ছিল একটু ভিন্ন। প্রতিটি বিভাগ যেন সেজেছিল স্বতন্ত্র স্বকীয়তায়। নিজ নিজ প্রাঙ্গণকে রঙিন আলপনা, ফুল আর বেলুনে সাজিয়ে নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ করে নিতে প্রস্তুত ছিল বিভাগগুলো। উপলক্ষ্য, ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক প্রথম বর্ষের ক্লাস শুরু এবং নতুন মুখগুলোকে নিজেদের পরিবারে স্বাগত জানানো।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সকাল থেকেই প্রতিটি বিভাগের সামনে ছিল উৎসবের আমেজ। এক বিভাগ থেকে আরেক বিভাগে গেলেই চোখে পড়ছিল ভিন্ন ভিন্ন সৃজনশীল সজ্জা। কোথাও গানের তালে তালে, আবার কোথাও ফুল দিয়ে জুনিয়রদের বরণ করে নিচ্ছিলেন প্রবীণ শিক্ষার্থীরা। বিভাগগুলোর এই খণ্ড খণ্ড উৎসবের আমেজই ছড়িয়ে পড়েছিল পুরো মতিহারের এই ৭৫৩ একরের সবুজ চত্বরে। জোহা চত্বর, টুকিটাকি চত্বর কিংবা পরিবহন মার্কেটসহ সর্বত্র নবীনদের পদচারণায় মুখরিত ছিল।
বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ নবীনদের বরণে তিন দিনব্যাপী কর্মসূচি আয়োজন করেছে। প্রচলিত ধারার বাইরে গিয়ে বিভাগটির এমন আয়োজন ক্যাম্পাস জুড়ে প্রশংসায় ভাসছে।
প্রতিটি বিভাগের এই আন্তরিক আয়োজনে মুগ্ধ নবীনরাও। অর্থনীতি বিভাগের বর্ণিল অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে মোছাম্মৎ তাসনিয়া বলেন, ‘বিভাগ থেকে যে এত সুন্দরভাবে আমাদের বরণ করে নেবে, সত্যি ভাবিনি। সিনিয়র ভাই-বোনদের আন্তরিকতা র্যাগিং নিয়ে পুরোনো সব ধারণা বদলে দিয়েছে। মনে হচ্ছে, আমি আজ এক নতুন পরিবার পেয়েছি।’
এদিন নবীন শিক্ষার্থীদের স্বাগত জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. সালেহ হাসান নকীব স্বশরীরে বিভিন্ন বিভাগের ক্লাস কার্যক্রম পরিদর্শন এবং শিক্ষার্থীদের সাথে কুশল বিনিময় করেন।
এদিকে, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৭ একরে এক নব নব সাজ জানান দিচ্ছিল ভিন্ন এক উৎসবের আমেজ। রঙিন কাগজ আর রংতুলিতে সেজে উঠে নজরুল প্রাঙ্গণ। বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯তম ব্যাচকে বরণ করে নিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সদ্য সিনিয়র হওয়া ১৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের এই আয়োজন। নবীন শিক্ষার্থীদের চোখে-মুখে উচ্ছ্বাস উদ্দীপনা স্পষ্ট। অনেক অভিভাবকও এসেছেন সন্তানের নতুন অধ্যায়ের অভিষেক উদযাপনের সঙ্গী হতে।
রবিবার নবীন শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি ভবনের নিচ তলায় কেন্দ্রীয় ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে সভাপতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম এবং প্রধান অতিথি ও ওরিয়েন্টেশন বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। এছাড়া বিভাগগুলো থেকেও নানা আয়োজনে বরণ করে নেওয়া হয় নবীন শিক্ষার্থীদের।
এদিন সকাল থেকেই ক্যাম্পাসে নবীন শিক্ষার্থীদের আনাগোনা শুরু হয়। চুরুলিয়া মঞ্চ, জয়ধ্বনি মঞ্চ, চক্রবাক ক্যাফেটেরিয়া, নজরুল ভাস্কর্যসহ বিভিন্ন স্থানে তাদের পদচারণায় ক্যাম্পাসের পরিবেশ মুখর হয়ে ওঠে।
সামিরা নামের একজন নবীন শিক্ষার্থী বলেন, ‘আজকে জীবনের অন্যতম একটা সুন্দর দিন কাটাচ্ছি। আব্বু আম্মু আসছে আমার সাথে। খুব উপভোগ করছি সব কিছু। কাঙ্ক্ষিত বিভাগে ভর্তি হতে পেরে আনন্দটা আরও বেড়েছে। সবার ব্যবহার খুবই ফ্রেন্ডলি। আশা করি এই ক্যাম্পাসে খুব সুন্দর একটা সময় কাটাতে পারবো।’
প্রতিবেদন তৈরিতে সহযোগিতা করেছেন প্রান্ত কুমার দাশ, রাবি ও কামরুল হাসান, নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়।