বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৪ আগস্ট ২০২৫ ১৩:৪১ পিএম
বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে শিক্ষক-কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। প্রবা ফটো
ভর্তি পরীক্ষায় ‘পোষ্য কোটা’ পুনর্বহালের দাবিতে দুই ঘণ্টার কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
আন্দোলনকারীরা পোষ্য কোটাকে ‘প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধা’ দাবি করে এটি পুনর্বহালের আহ্বান জানান। দাবি আদায় না হলে ভবিষ্যতে ক্লাস-পরীক্ষাসহ সর্বাত্মক ধর্মঘটের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা। কর্মবিরতির কারণে দুপুর ১২টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ ছিল। তবে জরুরি পরিষেবা এবং নির্ধারিত পরীক্ষাগুলো কর্মসূচির আওতামুক্ত রাখা হয়।
আন্দোলনরত শিক্ষকদের অভিযোগ, দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে এই সুবিধা চালু থাকলেও শুধু রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে তা বাতিল করে শিক্ষক-কর্মকর্তাদের বঞ্চিত করা হচ্ছে, যা একটি বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্ত।
কর্মসূচিতে মনোবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক এনামুল হক বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল অংশীজন শিক্ষার্থী, আর তাদের সেবা দেন শিক্ষক-কর্মকর্তারা। আমি যেহেতু সেবক, আমার সবকিছুর দায়িত্ব বিশ্ববিদ্যালয়কে নিতে হবে। প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধা সব দেশেই চালু আছে।’
তিনি সম্প্রতি শিক্ষক-কর্মকর্তাদের অবরুদ্ধ করার ঘটনার সমালোচনা করে বলেন, ‘শিক্ষক-কর্মকর্তাদের অবরুদ্ধ করা অমানবিক আচরণ। প্রশাসনের প্রতি আহ্বান, এক মাসের মধ্যে বিদ্যমান বৈষম্য দূর করে সমঝোতায় আসতে হবে।’
উর্দু বিভাগের অধ্যাপক আতোয়ার রহমান বলেন, ‘আমরা আমাদের অধিকার পুনরায় চালুর দাবিতে দাঁড়িয়েছি। দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে এ সুবিধা থাকলেও আমরা কেন বঞ্চিত হব? আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে দাবি মানা না হলে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে সর্বাত্মক ধর্মঘটে যেতে বাধ্য হব।’
একই দাবিতে ক্রপ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক মো. নুরুল ইসলাম বলেন, ‘জরুরি সিন্ডিকেট ডেকে আগের পোষ্য কোটা ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে।’
এর আগে, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ভর্তি পরীক্ষায় পাঁচ শতাংশ পোষ্য কোটা বাতিল করে। এরপর থেকেই শিক্ষক-কর্মকর্তারা এর প্রতিবাদে আন্দোলন চালিয়ে আসছেন।