বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১১ আগস্ট ২০২৫ ২০:২৪ পিএম
ফাইরুজ সাদাফ ওরফে অবন্তিকার।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) আইন বিভাগের ছাত্রী ফাইরুজ সাদাফ ওরফে অবন্তিকার (২৪) আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে দায়ের করা মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করেছে পুলিশ। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সহকারী প্রক্টর দ্বীন ইসলামকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করা হলেও সহপাঠী রায়হান সিদ্দিকীকে (আম্মান) অভিযুক্ত করা হয়েছে।
সোমবার (১১ আগস্ট) মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মিজানুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গত রবিবার দুপুরে কুমিল্লার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ মামলায় অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় সহকারী প্রক্টর দ্বীন ইসলামকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
দ্বীন ইসলামকে মামলা থেকে অব্যাহিত দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অবন্তিকার মা তাহমিনা বেগম। তিনি বলেন, অবন্তিকা মৃত্যুর আগে দেওয়া ফেসবুক পোস্টে দ্বীন ইসলামকে অভিযুক্ত করে গেছে। এর চেয়ে বড় সাক্ষী আর কী হতে পারে? তাহলে দ্বীন ইসলাম কীভাবে বাদ পড়ল? তদন্তের নামে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এখন পর্যন্ত কারও শাস্তি নিশ্চিত করেছে কি না, তা আমাকে জানায়নি। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে বারবার অভিযোগ করেও মেয়েকে মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচাতে পরিনি। সেই প্রশাসনের কর্মকর্তারা কীভাবে এ মৃত্যুর দায় এড়াতে পারে? পুলিশ সঠিকভাবে তদন্ত করলে দ্বীন ইসলামকে কোনোভাবেই রেহাই দিত না। আমি বিষয়টি নিয়ে আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেব।
তদন্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, দীর্ঘ তদন্ত শেষে এ মামলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তাসহ ২৩ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এছাড়া অবন্তিকার মুঠোফোনের তথ্য, ছবি, স্ক্রিনশট, মেসেঞ্জার ও হোয়াটসঅ্যাপ বার্তা, এবং ‘সুইসাইড নোট’ পর্যালোচনা করা হয়েছে। মুঠোফোনটি ফরেনসিক ল্যাবে পাঠিয়ে প্রতিবেদন আনা হয়। সবকিছু মিলিয়ে তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত বছরের ১৫ মার্চ রাতে কুমিল্লা নগরের বাগিচাগাঁও বাসায় ফ্যানের সঙ্গে অবন্তিকার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মৃত্যুর আগে ফেসবুকে দেওয়া পোস্টে আত্মহত্যার জন্য জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর দ্বীন ইসলাম ও সহপাঠী রায়হান সিদ্দিকীকে দায়ী করেন তিনি এবং তাদের বিরুদ্ধে হয়রানি ও উৎপীড়নের অভিযোগ করেন। এ ঘটনায় ১৬ মার্চ রাতে তার মা তাহমিনা বেগম আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা করেন, এতে এই দুইজনসহ অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামি করা হয়। ঘটনার পর দুজনই গ্রেপ্তার হয়ে পরে জামিনে মুক্ত হন।