বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৯ আগস্ট ২০২৫ ১৬:৫২ পিএম
পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) হলের সিট ১০% কোটা এবং জুলাই-৬ হলের ফলাফল বাতিল দাবিতে আমরণ অনশনে বসেছেন পাঁচ ছাত্র। এই পাঁচ ছাত্র হলেন- বাংলা বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের মিকাইল হোসেন, গণিত বিভাগের তৌফিক হায়াত ওয়াসিন ও সাখাওয়াত হোসাইন, সমাজকর্ম বিভাগের সোহেল রানা এবং পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের আবু জিহাদ।
ছাত্রদের
দাবি, গত ৬ আগস্ট ২০২০-২১, ২০২১-২২, ২০২২-২৩, ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের ছাত্রদের হলে ওঠার
জন্য ফলাফল দেওয়া হয়। সেই ফলাফলে অনিয়ম এবং অস্বচ্ছতা ধরা পড়ে। এরপর থেকে সামাজিক যোগাযোগ
মাধ্যমে ছাত্ররা সমালোচনা শুরু করলেও দুইদিনের মধ্যে হল প্রশাসন এর কোনো সঠিক ব্যাখ্যা
দিতে পারেননি।
তাদের
আরো দাবি, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নীতিমালা তৈরি করে তাদের হাতে ১০% সিট রেখেছেন। ফলাফল
প্রকাশের সময় সেই ১০% সিট তারা রাজনৈতিক দলগুলো এবং এক সমন্বয়কের মধ্যে বন্টন করেন।
ফলে যারা সিট পাওয়ার যোগ্য ছিল, তারা সিট থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। এই অবস্থায় তারা হল প্রশাসনের
হাতে থাকা ১০% সিট এবং বিতর্কিত ফলাফল বাতিল করে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে সিট বন্টনের
দাবিতে অনশনে বসেছেন।
অনশনে বসা বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী মিকাইল হোসেন
বলেন, ‘আমরা এখানে অনশনে বসেছি মূলত আমাদের ন্যায্য দাবির জন্য। দ্বিতীয় মেধা তালিকাটি
প্রকাশের পর সেখানে কিছু অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। আমরা হলের ফলাফল প্রকাশের পর দেখতে
পেয়েছি, অনেকের সিজিপিএ ভালো এবং আর্থিক অবস্থা খারাপ হলেও তারা সিট পায়নি। আবার দেখা
গেছে, অনেকের সিজিপিএ কম ও আর্থিক অবস্থা ভালো হলেও তারা হলে সিট পেয়েছে। এছাড়া ৫
আগস্টের পর থেকে কোটামুক্ত বাংলাদেশ হলেও প্রশাসনের জন্য সংরক্ষিত আসন ১০% রাখা হয়েছে।
এই আসনগুলো সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে দিয়ে দিক, যাদের বাসা দূরে, আর্থিকভাবে অসচ্ছল,
বিশেষ করে যাদের বাবা নেই এবং যারা নিজেরাই টিউশনি করে পড়াশোনা করছে, তাদের মাঝে বণ্টন
করা হোক এবং দ্বিতীয় মেধা তালিকাটি বাতিল করা হোক এবং নতুন করে মেধা তালিকা দিতে হবে।'
গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী ওয়াসিম বলেন, ‘আমি জুলাই-৬ হলে আবেদন করেছিলাম। আমার ব্যাচের ১১ জন শিক্ষার্থী আবেদন
করেছিলো। এর মধ্যে আটজনকে সিট দেওয়া হয়। আমি আশাবাদী ছিলাম যে, আমি হলে সিট পাবো। কারণ
দূরত্বের দিক দিয়ে এবং আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে আমি আসলেই সিট পাওয়ার যোগ্য। কিন্তু
যখন রেজাল্ট দেখলাম, তখন আটজনের মধ্যে আমি আমার নাম খুঁজে পেলাম না। আমি দেখতে পেলাম,
এই আটজনের মধ্যে দলীয়করণের ভিত্তিতে চার থেকে পাঁচজন সিট পেয়েছে। অনেকের বাবা সরকারি
চাকরিতে আছে, কারও বাবা এসআই, আবার কারও বাবা শিক্ষক। সিট যাদেরই দিক ন্যায্যতার ভিত্তিতে
দিক এটাই আমার দাবি। আমি অনশনে বসেছি যাতে সিটগুলো ন্যায্যতার ভিত্তিতে দেওয়া হয়।
তাতে আমি সিট পাই বা না পাই আমার কোনো আপসোস নেই। আমার ৬ ভাই বোন। বাবা স্বল্প আয়ে
আমাদের পরিবার চালান। এ জন্য আমার পাশে দাঁড়ানোর জন্য অনুরোধ করছি।’
এ
বিষয়ে জানতে চাইলে জুলাই ৬ হলের প্রভোস্ট ড. মো. কামরুজ্জামান বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি কিছু
বলতে পারবো না। ভিসি স্যার ঢাকায় আছেন, উনি আসলে সিদ্ধান্ত জানাবেন।’
এ
বিষয়ে জানার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম আবদুল আওয়ালকে ফোন দিলে
তিনি ফোন রিসিভ করেননি।